অপরাধী যেই হোক যথাযথ বিচার হওয়া জরুরী

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল সম্প্রতি দেশে খুনখারাবি থেকে শুরু করে প্রতারণা, ছিনতাই, বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক, ধর্ষণচেষ্টা, নারীর প্রতি অসম্মানের মতো অপরাধে জড়াচ্ছে পুলিশ। এ ছাড়া সাধারণ মানুষকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনা তো হামেশা ঘটছে। এসব অপকর্মের কারণে পুলিশ বাহিনীর গায়ে কলঙ্কের দাগ লাগছে। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, সারা দেশে প্রতি বছর গড়ে ১৮ থেকে ২০ হাজার পুলিশ সদস্য কোনো-না-কোনো ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। এদের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দফতরে অভিযোগ পেশ করেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত বা বিচার হয় এমন নয়। বছরে গড়ে দুই হাজার পুলিশ সদস্যের অপরাধের বিচার হয় এবং নানা মাত্রার দণ্ড দেয়া হয়। অপরাধী এসব পুলিশের একটি বড় অংশ পায় লঘুদণ্ড, কেউ কেউ পায় গুরুদণ্ড।
গণমাধ্যমের বিভিন্ন সময়ের রিপোর্ট অনুসরণ করলে দেখা যায়, অনেকসময় বিভাগীয় ব্যবস্থার নামে যে শাস্তি দেয়া হয়, বিশেষজ্ঞদের মতে তা আসলে কোনো শাস্তিই নয়। অপরাধী পুলিশের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের বিধান আছে; কিন্তু বেশির ভাগ ঘটনায় তা অনুসরণ করা হয় না। গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বিচারও করা হয় বিভাগীয় আইনে। এ ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের ‘বিভাগীয় শাস্তির আওতায়’ আনার বিষয়টি আসলে প্রতারণামূলক। এর মাধ্যমে লোকচক্ষুর আড়ালে নিয়ে অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ আছে। যারা অপরাধ দমন করবে, যারা আইনের রক্ষক হবে তাদের নৈতিক স্খলন কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
আমাদের জানা মতে, উন্নত বিশ্বে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে আলাদা কমিশন করে তার বিচার করা হয়। বাংলাদেশেও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত এবং শাস্তি নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশন বা নির্বাচন কমিশনের মতো স্বাধীন কমিশন গঠনের ব্যাপারে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আমরা কমিশন গঠনের বিষয়ে আশাবাদী নই। কারণ নির্বাচন কমিশন বা মানবাধিকার কমিশনের নৈরাশ্যজনক ভূমিকা আমরা দেখেছি। মানবাধিকার কমিশন অস্তিত্বশীল থাকতেই এ দেশের জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিজাত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে এসেছে। সুতরাং কমিশন গঠন কোনো সমাধান নয়। দরকার শৈশব থেকে প্রতিটি নাগরিককে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। সেটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেমন, তেমনই কর্মস্থলের প্রশিক্ষণেও দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.