চাঁদপুরে রোগীর নাকে শক্ত প্লাস্টিক খন্ড রেখেই অপারেশন শেষ করেন ডা. আহসান উল্লাহ

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আহসান উল্লাহর ভুল চিকিসায় মৃত্যু পথযাত্রী রোগীর স্বামী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেছেন। গতকাল ২৩ আগস্ট ভুল চিকিৎসার প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বরাবর চিঠি দিয়েছেন।

সেই চিঠি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনতার ফেসবুকে টাইমলাইনে শেয়ার করেছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, চাঁদপুর সদর হাসপাতালের নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আহসান উল্লাহর কাছে নাকের হাড়ের অপারেশন করিয়ে ছিলেন তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তারের। বিগত ১৯ আগস্ট ২০২০ সালে শহরের ক্রিসেন্ট হাসপাতালে এ অপারেশন করানো হয়। অপারেশন সফল না হওয়ায় এক বছর যাবৎ তার স্ত্রী’র নাক পঁচে দুর্গন্ধ বের হতো। রক্ত বের হতো। ভালো ভাবে খেতে পারতোনা। প্রচন্ড ব্যাথায় মাঝে মধ্যে কাতর হয়ে যেতো। অপারেশন করার পর ঢাকা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডা.আহসান উল্লাহর মাধ্যমে নাকের ময়লা ফালানো হয়। কিন্তু সমস্যা থেকেই যায়। চাঁদপুর সদর হাসপাতালেও তার কাছ থেকেই চিকিৎসা নেয়া হয়।

সমস্যা সমাধান না হওয়ায় চাঁদপুরে ডা. এম এ জামান সাহেব নামে একজন নাক কান গলা বিশেষজ্ঞকে শহরের মিডল্যান্ড হাসপাতালে তিনবার দেখানো হয়। তারপরও কোন উন্নতি হয়নি বরং অবনতির দিকে যাচ্ছিলো। কয়েক দফায় ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল। কোন উন্নতি না হওয়ায় গত ১৮ আগস্ট ২০২১ ঢাকা পিজি হাসপাতালের হেড নেক সার্জন ডা. দেলোয়ার হোসেনকে ঢাকা হেলথ এন্ড হোপ হাসপাতালে প্রাইভেট ভাবে দেখানো হয়। তিনি নাক থেকে ব্যান্ডেজের অংশ বিশেষ প্রায় ৪/৫ ইঞ্চি কিছুটা শক্ত প্লাস্টিক বের করেন। ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, নাকের হাড় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে নাকের হাড় ক্ষয় হয়েছে।

চাঁদপুরে রোগীর নাকে শক্ত প্লাস্টিক খন্ড রেখেই অপারেশন শেষ করেন ডা. আহসান উল্লাহ
ভুল চিকিৎসা জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ

তিনি আরো উল্লেখ করেন, এক বছরযাবৎ তার স্ত্রী এমন কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে দিনাতিপাত করেছিল। তবে এখন সে অনেকটা ভালো। পুরোপুরি সুস্থ্য নয়। একবছর ধরে কফের সাথে রক্ত যেতো। এ রকম অনভিজ্ঞ ও অগাধবাণিজ্যিক ডাক্তারের অনতিবিলম্বে অপসারণ চান তিনি। তার স্ত্রীর অপারেশনচার্জ, ডাক্তার ভিজিট, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ঔষধ-পথ্যসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে। তাই পুরোপুরি সুস্থ্য না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণও দাবী করেন তিনি।

উল্লেখ্য, অপারেশনের দিন থেকে চারদিন ক্রিসেন্ট হাসপাতালে থেকেছেন। কিন্তু ডা. আহসান উল্লাহ অপারেশনের পর স্বশরী রেগিয়ে কোন খোঁজখবর নেননি। অতএব, বিনীত অনুরোধ উল্লেখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কৃতার্থ হবো। নিবেদক : (মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন), পূর্ব শ্রীরামদী, পুরাণবাজার, চাঁদপুর।
স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *