চলে গেলেন অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়

মারা গেছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়। কয় দিন ধরে সামান্য অসুস্থ ছিলেন, ডায়রিয়ায় ভুগছিলেন। গতকাল বুধবার এক রিয়েলিটি শোতে তিনি অংশও নিয়েছিলেন। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে তিনি বাড়িতে মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। এ অভিনেতার প্রয়াণে শোকের ছায়া পরিবার ও টলিপাড়ায়।

চলে গেলেন আরেক ‘সুজন সখী’র নায়ক

ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দু-তিন দিন ধরে পেটের সমস্যা ভুগছিলেন অভিষেক চট্টোপাধ্যায়। গতকাল রাতে একটি চ্যানেলের শুটিংয়ে ছিলেন। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বেশ কয়েকবার বমি করেন তিনি। সেই সময় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাতে রাজি হননি তিনি। অভিনেতা জানিয়েছিলেন, বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা করাতেই চান। রাতে বাড়িতেই শুরু হয় চিকিৎসা। স্যালাইনও দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হলো না। ভোরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ছোট ও বড় পর্দার সুপরিচিত অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়।

বর্তমানে বাড়িতেই রয়েছে অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের মরদেহ। তাঁর বাড়িতে ছুটে গেছেন অভিনেত্রী লাবণী সরকারসহ অনেকেই। আজই শেষকৃত্য হওয়ার কথা। দীর্ঘদিনের সহকর্মী তথা বন্ধুর প্রয়াণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত লাবণী সরকার। ভারতীয় এক চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বন্ধু, পরিবারের সদস্য হারালাম। ভাবতেই পারছি না, আমাদের অভিষেক নেই। ও আর আমার সঙ্গে কথা বলবে না। এখন ওর পরিবারের পাশে থাকাই আমাদের দায়িত্ব।’

১৯৬৪ সালের ৩ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন অভিষেক চট্টোপাধ্যায়। তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘পথভোলা’। একটা সময় নিয়মিত সিনেমার কাজ করেছেন অভিষেক। বিশেষ করে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বহু সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, তাপস পালদের সঙ্গে এক সারিতে নাম উঠে আসত তাঁর। উৎপল দত্ত, সন্ধ্যা রায়ের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে পর্দায় দেখা গেছে তাঁকে।

কাজ করেছেন শতাব্দী রায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর মতো সমসাময়িক প্রথম সারির অভিনেত্রীদের সঙ্গেও। তাঁর উল্লেখ্যযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে আছে ‘মায়ার বাঁধন’, ‘জয়বাবা ভোলানাথ’, ‘মায়ের আঁচল’, ‘গীত সংগীত’, ‘সুজন সখী’। অল্প সময়ে দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে বহু বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি এবং দূরে সরে যান কাজের থেকে। মাঝে কাজ থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন। আবার ফেরেনও।

২০২১ সালেও তিনটা সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি আবার ধারাবাহিকে কাজ শুরু করেছিলেন। ফিরে এসেই নতুন করে মন কেড়েছিলেন দর্শকদের। সম্প্রতি স্টার জলসায় ‘খড়কুটো’ ধারাবাহিকে গুনগুনের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে সবকিছু ফেলে তিনি পাড়ি দেন না-ফেরার দেশে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.