করোনা পরবর্তী চাঁদপুরে মাদকবিরোধী অভিযান জরুরি

করোনার প্রকোপ বাড়ার আগে চাঁদপুরে ইয়াবা বিরোধী অভিযান ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের পরও ইয়াবা পাচার থামছে না। বরং ইয়াবা পাচারে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে, বাহক হিসেবে গরীব শ্রেণির মানুষদের ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষের শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ ছাড়াও এখন পেটের ভেতর, ডাব, কাঠাল, তরমুজসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর মাধ্যমে ইয়াবা একস্থান থেকে অন্যস্থানে পাচার হচ্ছে।

আমরা এর আগে দেখেছি চাঁদপুরে অভিযানে কোনো ইয়াবা গডফাদার বা মূল ব্যবসায়ীদের কেউ আটক হয়নি। আর যারা আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের মধ্যে গডফাদাররা নেই। তারা মূলত বহনকারী। মূল ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে। তারা রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয়ে বলতে গেলে প্রকাশ্যেই আছে। ফলে ক্যারিয়ার হিসেবে নতুন অনেক লোক যুক্ত হয়েছে। কৌশলে পরিবর্তন হয়েছে, রুট বদলেছে।

অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ী আছে যাদের মানুষ এখনো ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে জানে না। এরাই বেশি ভয়ংকর। তারা এখনো বাইরে আছে তারা কৌশল পরিবর্তন করছে, রুট পরিবর্তন করছে। আর নতুন লোকজনকে যুক্ত করছে
আরেকটা দিক হচ্ছে চাহিদা। ইয়াবার চাহিদাতো কমেনি। সারাদেশেই আছে। ফলে ইয়াবা চোরাকারবারিরা তাদের ব্যবসার নতুন পথ খুঁজে নিচ্ছে। এটা বন্ধ করতে হলে প্রয়াজন সামাজিক আন্দোলন।

মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন দরকার,
বস্তুত সহজলভ্য হওয়ার কারণেই দেশে ইয়াবার ব্যবহার বেড়েছে। এসব মাদক বিপণনের যারা পৃষ্ঠপোষক, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে, দেশবাসী এটাই দেখতে চায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কিভাবে অনেকে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত হয়েছে, এসব তথ্য আমরা গণমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি।

ইয়াবা, হেরোইন- এসব মাদক সেবনের অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে মাদকসেবীরা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়। কাজেই মাদকের ব্যবহার বন্ধ না হলে সমাজে অপরাধের মাত্রা কমবে না। উদ্বেগের বিষয় হল, সমাজে ইয়াবা সেবনকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। নতুন নতুন মাদকও দেশে প্রবেশ করছে। এ অবস্থায় মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কোনো বিকল্প ছিল না।

কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায় কোন্ কোন্ রুটে ইয়াবা প্রবেশ করে তা বহুল আলোচিত। কাজেই চাঁদপুরে যাতে ইয়াবা প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করা জরুরি। জেলায় মাদকের ব্যবহার বন্ধ করতে হলে যারা এসব পাচারের মূল হোতা তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। যেহেতু চাঁদপুরের বাইরে থেকে ইয়াবা জেলার বিভিন্ন রুটের মাধ্যমে প্রবেশ করে, সেহেতু এসব মাদক ব্যবহারকারীদের হাতে আসতে কয়েকবার হাত বদল হয়। এ চক্রের সব সদস্যকেই দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য কিংবা মাদক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালনকারী কোনো অসাধু ব্যক্তি যাতে নতুন আইন অপপ্রয়োগের চেষ্টা না করেন সেদিকেও কঠোর দৃষ্টি রাখা দরকার।

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল

Leave a Reply

Your email address will not be published.