রামপুর ইউনিয়নে রাস্তা সংস্কারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

 

রামপুর ইউনিয়নে রাস্তা সংস্কারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৪০ দিনের কর্মসূচির প্রকল্পে একটি রাস্তা সংস্কার কাজে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার জসিম তালুকদার রাম্তার কাজ না করেই প্রকল্প সম্পন্ন দেখিয়ে পুরো টাকা নিজের পকেটে ঢুকিয়েছেন। প্রকল্পটি হলো ইউনিয়নের উত্তর সকদী পাচগাঁও বেপারি

বাড়ি থেকে ছাদেক বেপারি বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়ন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রামপুর ইউনিয়নে জনবসতিপূর্ণ পাচগাঁও বেপারি বাড়ি থেকে ছাদেক বেপারি বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার মাটির রাম্তা রয়েছে। এলাকাবাসীর

দাবীর পেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক কাচা রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপর ৪০ দিনের কর্মসূচির একটি প্রকল্পে মাটি ফেলে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য অর্থ

বরাদ্দ আসে। প্রায় ১১শ’ ফুট রাস্তাটি সংস্কার কাজের স্বচ্চতার জন্য একটি কমিটিও করা হয়। যার সভাপতি হন স্থানীয় জাকির হোসেন নামে একজন। কিন্তু ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার

জসিম তালুকদার লোক দেখানো সামান্ন কিছু কাজ প্রকল্পের পুরো টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
পাচগাঁও গ্রামের সর্বজন শ্রদ্ধেয় মুরব্বী মো. নাজির হোসেন খান জানান, ‘আমাকে দিয়ে রাস্তার কাজের উদ্বোধন করানো হয়েছে। উদ্বোধনের পর সামান্য কিছু মাটি কেটেছে। বাকি

রাস্তা আগের মতোই পড়ে আছে। কোন মেরামত করা হয়নি। এখন জনগনের চলাচলে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। জায়গায় জায়গায় গর্ত, খানা-খন্দক। আমরা অতিশিগ্রই রাস্তাটি ঠিক

করার অনুরোধ করছি।’

স্থানীয় দুলাল খান, কাদির আলী, ফারুক পাঠানসহ বেশ কয়েকজন বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব অনেক উন্নয়ন কাজ করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, আমরা এখনো কাঁচা রাস্তা দিয়ে চলাচল করছি। চেয়ারম্যান সাহেব রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে সরকারি বরাদ্দ এনেছেন। অথচ স্থানীয় মেম্বার সাহেব সামান্য একটু কাজ করে আর কাজ করছে

না। ফলে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। আমরা রাস্তাটি সংস্কারে চেয়ারম্যান সাহেবের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আরও কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় মেম্বার জসিম তালুকদার রাস্তার কাজ সম্পন্ন না করেই প্রকল্পের টাকা নিজের পকেটে ঢুকিয়েছে।

এমনকি রাস্তায় লাগানো প্রকল্পের সাইনবোর্ডটিও খুলে বাড়িতে নিয়ে গেছে। এসব বিষয়ে কথা বলায় মেম্বার তাদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেয়। সরকারি কাজে অনিয়ম এবং

মানুষের সাথে প্রতারণা করায় ইউপি মেম্বার জসিম তালুকদারের বিচারে দাবি জানান ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার জসিম তালুকদার বলেন, ‘কোন কাজই শতভাগ করা সম্ভব না। সরকারি কাজে অনেক খরচপাতি আছে। আর এসব কাজ পিআইও

অফিসের মাধ্যমে করা হয়। আপনাদের জানার থাকলে তাদের সাথে কথা বলেন।

 

 

এ বিষয়ে ৫ নং রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মামুন পাটোয়ারী বলেন, ৪০ দিনের কর্মসূচির এ প্রকল্পটি মূলত রাস্তা সংস্কার কাজা, রাস্তা নির্মাণ নয়। তবুও অনিয়ম হয়ে থাকলে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কাজটি মূলত সহকারী পিআইও কামরুল ইসলাম সাহেব তদরকি করেন। তবে মেম্বার সাহেব যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন তা দুঃখজনক। একজন জনপ্রতিনিধি হিসে তার আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। রাস্তার কাজের অনিয়মের বিষয়ে খোঁজ নিতে তিনি সহকারি পিআইও কামরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেন।
ছবি। রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর সকদী পাচগাঁও বেপারি বাড়ি থেকে ছাদেক বেপারি বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি মাটি দ্বারা সংস্কার করার কথা থাকলেও কোনো কাজ করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.