হাইমচরে আউশ ধানে লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক

আপদকালীন ফসল আউশ ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাইমচরের চাষীরা। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় আউশ ধান রোপণের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় ধানের ফলন কিছুটা কম হয়েছে। এছাড়া বেশকিছু জমিতে রোগবালাই এবং পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ায় ধানের ফলন বিপর্যয় হয়েছে। একদিকে ফলন কম অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে গত বছরের চেয়ে কম দামে ধান বেচা-কেনা হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষীরা।

হাইমচর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২০২১-২২ অর্থবছরে উপজেলায় ৫৩০ হেক্টর আউশ ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৫৫০ হেক্টর আউশ ধান রোপণ করা হয়েছে। কৃষক এ বছর সবচেয়ে বেশি উচ্চফলনশীল ব্রি ধান-৪৮ জাতের ধান চাষ করেছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এ বছরও বাড়তি আয়ের স্বপ্ন নিয়ে আপদকালীন আউশ ধান চাষের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের চাষীরা। তবে এ বছর আউশ ধান রোপণের শুরুতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম ছিল। ফলে আউশ ধানের চারা থেকে কুশিবর্ধন হতে পারেনি। এতে গত বছরের তুলনায় বিঘা প্রতি তিন-চার মণ ধান কম উৎপাদিত হয়েছে।

আবার অনেক মাঠের জমিতে আউশ ধানের চারা রোপণের কিছুদিন পর রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ হয়েছে। সে জমিগুলোতেও এ বছর ধান কম উৎপাদিত হয়েছে। রোপণকৃত আউশ ধানের গাছে রোগবালাই দেখা দেয়ায় অনেক কৃষক আগেই ক্ষেত নষ্ট করে আমন ধান রোপণ করেছেন। এতে চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ফলন অনেক কম হয়েছে। গত বছর ধান কাটার পর স্থানীয় বাজারে প্রকারভেদে প্রতি মণ আউশ ধান ৭৫০-১১০০ টাকা মণ দরে ধান কেনা-বেচা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর ধানের ভালো দাম নেই। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রকারভেদে প্রতি মণ আউশ ধান ৭৫০-৮৩০ টাকা দরে কেনা-বেচা হচ্ছে।

আলগী দক্ষিণ ইউনিয়ন চরভাঙ্গা গ্রামের কৃষক মাহমুদুল্লাহ গাজী জানান, চার বিঘা জমিতে আউশ ধান রোপণ করেছিলাম। রোপণের বেশ কিছুদিন পর হঠাৎ ধানের গাছগুলো লাল বর্ণ ধারণ করে মরে যেতে থাকে। তখন নিরুপায় হয়ে সোয়া তিন বিঘা জমির ধান ক্ষেত নষ্ট করে নতুনভাবে জমিতে আমন ধান রোপণ করেছি। এখন অবশিষ্ট জমির আউশ ধান কাটার পর মাড়াই শুরু করেছি। এখানে ছয় মণের বেশি ধান পাওয়া যাবে না।

আলগী উত্তর ইউনিয়ন ভিঙ্গুলিয়া গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, গত বছর সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আউশ ধান রোপণ করে ভালো ফলন এবং ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে ব্রি ধান-৪৮ জাতের আউশ ধান রোপণ করেছি। ধান রোপণের পর কিছুটা বৃষ্টি হলেও আকাশ দীর্ঘদিন ধরে মেঘাচ্ছন্ন ছিল। রোদ না হওয়ায় সে সময় ধানের চারার গোড়ায় বৃষ্টির পানি দীর্ঘদিন জমে ছিল। পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর লক্ষ করেছিলাম চারাগুলোর ঠিকমতো কুশিবর্ধন হতে পারেনি। এরই মধ্যে দুই বিঘা জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। যেখানে মাত্র ২৮ মণ ধান পেয়েছি। গত বছর বিঘাপ্রতি ১৮ মণ করে ফলন পেয়েছিলাম। কুশিবর্ধন না হওয়ার কারণে এ বছর ফলন কম হওয়ায় অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

হাইমচর উপজেলা কৃষি দেবব্রত সরকার বলেন, এ বছর আউশ ধান রোপণের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবং দীর্ঘদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় কৃষকরা সময়মতো আউশ ধান রোপণ করতে পারেননি। এজন্য ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। বেশ কিছুদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার কারণে রোদ কম হওয়ায় পাতার ক্লোরোফিল কম হয়েছে। এজন্য কিছু এলাকার জমিগুলোতে কুশিবর্ধন ঠিকমতো হতে পারেনি। এতে জমিগুলোতে ফলন কিছুটা কম হয়েছে। কোথাও রোগবালাই অথবা পোকার আক্রমণ নেই। ব্রি ধান-৪৮ সহ নতুন জাতের যেসব ধান রোপণ করা হয়েছিল, সেগুলোর ভালো ফলন হয়েছে। তাই এ বছর আপদকালীন ফসল আউশ ধান উৎপাদনের লক্ষ্য ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানান তিনি।

হাইমচর প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published.