আজ থেকে পুরোদমে ক্লাসে ফিরছে শিক্ষার্থীরা

চাঁদপুর সময় রিপোর্ট: দীর্ঘ বিরতির পর পুরনো চিত্রে ফিরছে শিক্ষাঙ্গন। করোনায় দস্তর মতো নাড়িয়ে দিয়ে গেলো পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে। ২০২০ সালের পুরো অংশই ছিল স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ। এরপর কিছুটা চললেও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় পুরোদমে মুখরিত হয়ে উঠেনি গত ২ বছর যাবৎ। এরমধ্যে শিক্ষার্থীদের অবস্থা এতোটাই ভেঙ্গেপড়েছে যে, অনেক স্কুলকেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে লাগতে পারে বন্ধের চেয়ে আরো দ্বিগুণ সময়। তবে আশার কথা হলো, আজ থেকে পুরোদমে চালু হচ্ছে শিক্ষাঙ্গনের স্বশরীরে ক্লাস। এর মাধ্যমে সেই পুরনো চিত্রে ফিরে যাচ্ছে শিক্ষাকার্যক্রম। তবে সিলেবাসে থাকতে পারে হেরফের ।

দীর্ঘ সময় বিরতির কারনে চাঁদপুরের বাঘাবাঘা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও পড়েছে দারুন বিপাকে। সবকিছু গুছিয়ে উঠতে ঠিক কতটা সময় লাগবে তা কেউ জানে না। চাঁদপুর শহরের হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মাতৃপীঠ উচ্চ বিদ্যালয়, আল-আমিন স্কুল এন্ড কলেজ, চাঁদপুর সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ সহ প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষাক্রমে ছিল স্থবিরত। শিক্ষার্থীদের পদচারণা না থাকার কারণে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে গজিয়েছে ঘাস। প্রাণচাঞ্চল্য না থাকার কারণে স্কুল আঙ্গিনা যেন নিস্প্রাণ হয়ে উঠেছিল।

সপ্তাহে একদিন দুদিনের পর আজ থেকে পুরো সপ্তাহে পুরো ক্লাস চালু হচ্ছে। অবশেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় প্রাণ ফিরছে শিক্ষাঙ্গনে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণিকক্ষে সশরীরে পুরোদমে ক্লাস শুরু হবে। আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণাল।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলেও তা ছিল আংশিক। দ্বিতীয় দফায় করোনার প্রকোপে ২১ জানুয়ারি ফের বন্ধ ঘোষণা করা হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এক মাস পর ২২ ফেব্রুয়ারি শুধু মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও মাদ্রাসা এবং কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি ক্লাস চালু করা হয়। এরপর ২ মার্চ সীমিত আকারে প্রাথমিক স্তরের পাঠদান শুরু হয়।

গতকাল চাঁদপুর হাসান আলী হাইস্কুলের এক শিক্ষক জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব বিষয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হচ্ছে আজ ১৫ মার্চ থেকে। নতুন শিক্ষাক্রম চালু হলে পরীক্ষার সংখ্যা কমবে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাভীতি দূর হবে। প্রতিদিনের লেখাপড়া মূল্যায়ন প্রতিদিনই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.