আজ থেকে ২ মাস নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ

আবদুল গনি আজ মঙ্গলবার ১ মার্চ থেকে জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমের মধ্যে চাঁদপুরের ষাটনল থেকে চরভৈরবি পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার মেঘনা নদীর ইলিশ অভয়াশ্রমে সকল প্রকার মৎস্য আহরণবন্ধসহ জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি পালিত হবে।
২৩ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাটকা নিধন প্রতিরোধে টাস্কফোর্স কমিটির একসভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ।
জেলা প্রশাসক সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘ আগামি দু মাস কোনো জেলে নদীতে কোনো প্রকার জাল ব্যবহার কিংবা কোনো প্রকার মাছ শিকার করবো না। এ সময়ের মধ্যে সরকার ত্রান তহবিল থেকে তালিকাভুক্ত জেলেদের খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ প্রদান করে থাকে ।’
তিনি বলেন, ‘অভিযানের সময় জেলে পল্লীতে গিয়ে প্রচার করতে হবে । প্রয়োজনে গল্প নাটিকা তৈরি করে সেখানে প্রচার করতে হবে। ইলিশ দেশের সম্পদ । তাই অভিযানের সময় নদীতে ড্রেজিং বন্ধ রাখতে হবে । যারা ড্রেজিং করছে, তাদেরকে চিঠি দেয়া হবে। অভিযানের সময় প্রশাসনকে সঠিক তত্ত্ব দিতে হবে। যাতে করে ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে সত্যতা পায়।’
তিনি আরোও বলেন,‘পাশাপাশি স্ব স্ব উপজেলার মৎস্য অফিস উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সমন্বয়ে স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদের অভ্যন্তরের সকল খালগুলোর মুখ ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বন্ধ করে দেয়া হবে। দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রচার অভিযান, সভা, আড়ৎ পরিদর্শন ও পাহারাসহ সকল প্রকার সরকারি ও জেলা টাস্কফোর্স এর নির্দেশনা পালন করবে ।’
চাঁদপুর মৎস্য কর্মকর্তা মো.গোলাম মেহেদী হাসান আজ মঙ্গলবার তাঁর দপ্তরে সকাল ১১ টায় চাঁদপুর টাইমসকে এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ।
তিনি বলেন ,‘ আগামি কাল মঙ্গলবার থেকে দু মাসব্যাপি সরকারি নিদের্শণা মতে চাঁদপুরের নৌ-সীমানার অভ্যন্তরে ৬০ কিলোমিটার এলাকায় সকল প্রকার মৎস্য আহরণ রন্ধ থাকবে ও জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি পালিত হবে। দেশের প্রাণি ও মৎস সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ দু’ মাস চাঁদপুরের নেী-সীমানায় মৎস্য আহরণবন্ধ ও জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি পালন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির আলোকে মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করবে জেলা টাস্কফোর্স ও উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি ।’
চাঁদপুর জেলা টাস্কফোর্সসহ মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ,চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি মার্চ ও এপ্রিল এ দু মাস চাঁদপুরের নৌ-সীমানায় জাটকা রক্ষার ক্ষেত্রে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাবে। এছাড়াও জেলার সব নিবন্ধিত জেলেদের প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চাল প্রদনের নির্দেশ দিয়েছে মৎস্য বিভাগ । ’
তিনি আরো বলেন,‘জাটকা সংরক্ষণ অভিযান সুষ্ঠ ভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলেদের যে খাদ্য আসছে, তা সঠিক সময়ে,সঠিক নিয়মে বিতরণ করা হবে। প্রতিজন জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল দিতে হবে। একটা চাল ও তাদেরকে কম দেয়া যাবেনা। জেলেদের তালিকার পরিপূর্ণ চাল আসছে। চাল কম দিবেন না। এধরনের সংবাদ আসলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযান সফল করতে প্রচার প্রচারণা করতে হবে। বিভিন্ন খালের মুখ বন্ধ করে রাখতে হবে। বন্ধ মুখ যাতে খুলতে না পারে-সেজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। জাটকা সংরক্ষণ অভিযানের সময় বহিরাগত জেলেরা মাছ স্বীকার করতে আসলে সাথে সাথে প্রশাসনকে অবগত করতে হবে।’
এদিকে জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি যথাযথ বাস্তবায়নে চাঁদপুর জেলায় জেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন,নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা সাংবাদিকগণ,রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন সুধিজনকে নিয়ে জেলা টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়াও মতলব উত্তর ও দক্ষিণ, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলায় পৃথক পৃথক উপজেলা কমিটি, মৎস্য বিভাগ সমন্বয় করে জাটকা রক্ষা কর্মসূচি পালন করবে বলে জানা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.