চাঁদপুরে ইয়াবাসহ বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগ নেতার ছেলে আটক

চাঁদপুরে মাদক বিক্রি কালে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিবিএর সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম তালুকদারের ছেলে লিজল ও তার সহযোগী জাহিদকে ইয়াবাসহ আটক করেছে পুলিশ। মডেল থানার এসআই ইকবাল সঙ্গীয় ফোর্স ওয়ারলেস বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১২ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করতে সক্ষম হয়। শনিবার বিকেলে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করে আটক ২ মাদক ব্যবসায়ীকে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়।

জানা যায়, চাঁদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চাঁদপুর অঞ্চলের সিবিএ নেতা শাহ আলম তালুকদারের ছেলে লিজন(২২) দীর্ঘদিন যাবৎ নতুন বাজার এলাকায় অবস্থান করে ইয়াবা বিক্রি করে আসছে। এর পূর্বেও তাকে মাদকসহ পুলিশ আটক করেছে। সে জেল থেকে বের হয়ে পুনরায় ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সিবিএ নেতা শাহ আলম তার পরিবার নিয়ে নতুন বাজার বিদ্যুৎ অফিসের ভিতরে কোয়ার্টারে থাকেন। সেখানেই তার ছেলে থেকে ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। অবশেষে তার সহযোগী আইয়ুব আলীর ছেলে জাহিদকে নিয়ে ওয়ারলেস বাজারে মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে যায়। সে সময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাদের দুজনকে ধাওয়া করে। এসময় মাদক ব্যবসায়ী দুইজন ইয়াবার প্যাকেট পানিতে ছুড়ে মারে। পানি থেকে সেই ইয়াবার প্যাকেট উদ্ধার করে ও দৌড়ে গিয়ে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করতে সক্ষম হয়।

প্যাকেটের মধ্যে ১৫০ পিস ইয়াবা থাকলেও ১১২ পিস ইয়াবা জব্দ করলেও বাকি গুলো নষ্ট হয়ে যায়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা গুলোর মধ্যে ১০১ পিস ইয়াবা জাহিদের কাছে ও মাত্র ১১ পিস ইয়াবা মাদক ব্যবসায়ী লিজনের কাছে উদ্ধার দেখিয়ে পুলিশ মামলাটি দায়ের করেন।

মাদকসহ ২ জন আসামি আটক করলেও একজনকে কম আরেকজনকে বেশি মাদক দেখিয়ে মামলাটি দায়ের করায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

তবে আটক জাহিদের বাবা আইয়ুব আলী অভিযোগ করে বলেন, দুজনকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করলেও সিবিএ নেতা শাহ আলমের পরিবারের কাছ থেকে উৎকোচের বিনিময়ে ম্যানেজ হয়ে পুলিশ তার ছেলেকে ১১পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে মামলাটি দায়ের করেছে। যা সম্পূর্ণ অন্যায় হয়েছে। জাহিদের উপর অবিচার করেছে। পুলিশের চাহিদা মাফিক টাকা দিতে না পারায় সে এক পক্ষের থেকে বিশাল সুবিধা নিয়ে এমনটি করেছে।

এ বিষয়ে এসআই ইকবাল জানান, ১৫০ পিস ইয়াবাসহ ২ জনকে আটক করা হলেও কিছু ইয়াবা পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। তাই ১১২ পিস ইয়াবা জব্দ দেখিয়ে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে যেরকম ইয়াবা পাওয়া গেছে সেভাবেই মামলায় দেখানো হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published.