চাঁদপুরে বেড়েছে আত্মহত্যার প্রবণতা: গণসচেতনতা জরুরি

দেশের বিভিন্ন জেলার মতো চাঁদপুরেও আত্মহত্যা একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। মানুষের মৃত্যুর ক’টি সাধারণ কারণের মধ্যে আত্মহত্যা অন্যতম। চাঁদপুরে আত্মহত্যার এ প্রবণতা দিন দিন বাড়ছেই।

ভারতের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ বিলেতের লেখাপড়া শেষ করে দেশে ফেরার সময় তার প্রেমিকা তাকে ফেলে চলে যাওয়ার মুহুর্তে বিমানে উঠার সময় বলেছিলেন, ‘তুমি আমাকে বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যার মত কঠিন পথ বেচে নেবো।’
ভারতের ওই প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ তার জবাবে বলেছেন,‘কেউ কোনো দিন কাউকে বলে আত্মহত্যা করে না।’

মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও প্রেমে ব্যর্থতায় কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এছাড়াও অন্যান্য কারনেও মানুষ আত্মহত্যার মত জঘন্য বিষয়টি বেছে নিচ্ছে। সম্প্রতি চাঁদপুরে অহরহ আত্মহত্যার মত ঘটনা ঘটছে ।

গতকাল ফরিদগঞ্জে তাসলিমা আক্তার(২৬) নামে এক গৃহবধুকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে বিষপানে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বামীর সাথে অভিমান করে তাসলিমা আক্তার শনিবার কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। দ্রুত আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

চিকিৎসকদের মতে, কীটনাশক ও গলায় ফাঁস লাগিয়ে বেশিরভাগ আত্মহত্যার ঘটে থাকে। প্রেমে ব্যর্থতা, যৌতুক,পারিবারিক অশান্তি ও দারিদ্রতা আত্মহত্যার কারণও হতে পারে ।

তবে চাঁদপুরে বিগত কয়েক মাসের আত্মহত্যার খবরগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় জেলাল বিভিন্ন এলাকায় আত্মহত্যার কারণ হিসাবে যৌতুক, পারিবারিক অশান্তি ও দারিদ্রতাই প্রতীয়মান হয়েছে।

এছাড়া মানসিক রোগ বিশেষ করে বিষন্নতা, ব্যক্তিত্বে সমস্যা, মাদকাসক্তি, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ব্যথা-বেদনা,অসহ্যযন্ত্রণা ও ক্যান্সারের মতো প্রাণসংহারী রোগ ইত্যাদি আত্মহত্যার অন্যতম কারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সামাজিক অবক্ষয়, অনুশাসনের অভাব, ভিনদেশি অপসংস্কৃতির অনুকরণ দ্বারা উদ্বুদ্ধ, আচরণগত ব্যক্তিত্বের দূষণগ্রস্ত ও মানসিক বিকারগ্রস্থতায় এ আত্মহত্যার ঘটনাগুলো ঘটছে।

আমাদের ধারণা, কীটনাশক দ্রব্যের বিক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, মানসিক রোগ বিশেষ করে বিষন্নতা রোগের যথাযথ চিকিৎসা, দরিদ্র জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং পারিবারিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত পদক্ষেপ আত্মহত্যা প্রতিরোধের প্রধান উপায় হতে পারে।

এছাড়াও আত্মহত্যা প্রতিরোধে জাতীয় ও আঞ্চলিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এ বিষয়ে দেশব্যাপি সমীক্ষা পরিচালনা ও ব্যাপক সামাজিক গণসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *