আবার চালু হচ্ছে ইচুলী ঘাটে লঞ্চ চলাচল

আবার চালু হচ্ছে ইচুলী ঘাটে লঞ্চ চলাচল

আশিক বিন রহিম

চাঁদপুর ইচুলী লঞ্চঘাট চালুকরণ বিষয়ে লঞ্চ মালিকদের সাথে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, চাঁদপুর শহরের যানজট নিরসন এবং যাত্রীদের সুবিধার জন্য ইচুলী লঞ্চঘাটটি চালু করা জরুরী। এতে করে ফরিদগঞ্জ, রায়পুর, লক্ষ্মীপুরের লঞ্চযাত্রীদের যেমন সুবিধা হবে, তেমনি শহরের উপর যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে আসবে।

তিনি বলেন, লঞ্চঘাট চালুর বিষয়ে আজকের এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই সভায় আপনাদের মতামতগুলো আমরা গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছি। আপনাদর মতামত ও পরামর্শগুলো যাচাই-বাছাই করে আমরা সংশ্লিষ্ট সরকারি সকল বিভাগের সাথে আলোচনা করবো। আলোচনার মাধ্যমে অতিদ্রুত চাঁদপুর ইচুলী লঞ্চঘাট চালু করার ব্যবস্থা করবো।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল, নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন, এনএসআই উপ পরিচালক শাহ

 

আরমান আহমেদ, চাঁদপুর বিআইডব্লিউ টিএ’র উপ পরিচালক কায়সারুল ইসলাম, চাঁদপুর নৌ-পরিবহন অধিপদপ্তরের পরিদর্শক মো. আশিকুর রহমান, চাঁদপুর কোস্টগার্ড স্টেশনের এক্সিকিউটিভ অফিসার মো.

শাহাদাত হোসেন, চাঁদপুর নৌ- থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান, সোনার তরী লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি মো. ইব্রাহিম, রফরফ লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি ফরিদ আহমেদ প্রমুখ।

উল্লেখ্য চাঁদপুর বড়স্টেশন মোলহেডে স্বাভাবিকের চেয়ে পানি বেশি বেড়ে গেলে সেখানে প্রচণ্ড ঘূর্ণি স্রোত সৃষ্টি হওয়ায় লঞ্চ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। যার কারণে ২০১৪ সালের ২০ জুলাই থেকে ইচুলী ঘাটে লঞ্চ

চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তখন যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাই ডাকাতিয়া নদীর ইচলী লঞ্চ ঘাট থেকে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর পর থেকে ঢাকা ও চাঁদপুর থেকে কোন লঞ্চ ইচলী ঘাটে যায়নি।

গত দুই দশকে এই মোলহেড এলাকায় কয়েকটি লঞ্চ ডুবির ঘটনায় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।

 

মোলহেড ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় গত জুনের শেষে চাঁদপুর বড়স্টেশন লঞ্চঘাট ডাকাতিয়া নদী থেকে সরিয়ে মাদ্রাসা রোডের মেঘনা নদীর বিকল্প লঞ্চ ঘাটে নেয়া হয়।
তারপরও ঢাকা-চাঁদপুর-ইচলী রুটে চলাচলকারী লঞ্চ এমভি রফরফ, এমভি জমজম, এমভি তুতুল, এমভি ইমাম হাসান, এমভি সোনার তরী, এমভি প্রিন্স অব রাসেলসহ বেশ কয়েকটি বড় লঞ্চ ঝূঁকি নিয়েই মোলহেড

 

দিয়ে চলাচল করছিল। কিন্তু ঝুঁকির কথা বিবেচনায় আর চালু রাখা যায়নি।

 

 

 

তবে সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদপুর শহরের যানজট তীব্র আকার ধারন করায় এই রুট পুনরায় চালু করা অনিবার্য হয়ে উঠেছে। এছাড়া একই কারণে ইচুলী ঘাটে সেতু নির্মানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মূলত:

ফরিদগঞ্জ, রায়পুর, লক্ষীপুরসহ জেলার দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের সব যানবাহন শহরের কালিবাড়ী হয়ে মুক্তিযোদ্ধা সড়ক ও কুমিল্লা সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি করে। এই যানজট শহর ছাড়িয়ে বাস স্ট্যান্ড, ডিসি অফিস ও

ওয়ারলেস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। যার কারণে জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগ গ্রহণ করতে বাধ্য হলো। তবে ইচুলী ঘাটে ব্রীজ নির্মান হলে শহরের যানজটের চিত্রই পাল্টে যাবে বলে মনে করছেন

বিশেষজ্ঞরা। শহরে আর কোন যানজট চোখেই পড়বে না বলে মনেকরা হচ্ছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.