ফরিদগঞ্জে সুবাস ছড়াচ্ছে আমের মুকুল

বাংলা পঞ্জিকায় এখন চলছে অগ্রহায়ণ মাস। সাধারণত দু-তিন মাস পরই মুকুল আসা শুরু করে আমগাছে। কিন্তু খানিকটা হলেও চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ব্যত্যয় ঘটেছে এবার। অনেক আমগাছেই চলতি মাসের শুরুতে আসতে শুরু করেছে আগাম মুকুল। এতে আমচাষিদের মনে আশার প্রদীপ জ্বলে উঠেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, শীতে গাছে মুকুল আসা তেমন ভালো লক্ষণ নয়। গাছের আগাম মুকুল ঘন কুয়াশায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে শঙ্কাও রয়েছে আমের ফলন নিয়ে।সরেজমিনে উপজেলার ১৫ নম্বর রূপসা উত্তর ইউনিয়নের বদরপুর এলাকায় দেখা গেছে, মুকুলে সুশোভিত হয়ে আছে বিভিন্ন আমগাছ।

মুকুলের পরিমাণ কম হলেও মিষ্টি ঘ্রাণে এরই মধ্যে ম-ম করতে শুরু করেছে চারিদিক। মুকুলের সেই সুমিষ্ট সুবাসে আনন্দে ভরে উঠছে চাষির মনও। গাছের কচি শাখা-প্রশাখায় ফোটা স্বর্ণালি ফুলগুলোর ওপর সূর্যচ্ছটা পড়তেই চিকচিক করে উঠছে। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বারোমাসি ও লোকাল জাতের আমগাছে মুকুল আসার খবর পাওয়া গেছে।বদরপুর এলাকার আমচাষি মাইন উদ্দিন বিটু জানান, ফরিদগঞ্জে সবেমাত্র শীতের তীব্রতা বিরাজ করলেও গাছে আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে। অগ্রহায়ণের মাঝামাঝিতে গাছে মুকুল বের হয়েছে। তার বাড়িতে অধিকাংশ গাছেই মুকুল দেখা দিয়েছে। মুকুলের মাথাগুলোকে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে। তবে কিছুদিন থেকে ঘন কুয়াশার কারণে কিছু মুকুল নষ্ট হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী মাসের প্রথম দিকে সবগুলো গাছে মুকুল দেখা যাবে বলেও জানান তিনি।

ফরিদগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে বারোমাসি বা লোকাল জাতের আমগাছে মুকুল আসা শুরু হয়। তবে এবার ফরিদগঞ্জে নভেম্বরের মাঝামাঝি মুকুল আসা শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে মূলত মুকুল আসা শুরু হয়। শীতের তীব্রতা, তাপমাত্রা ও ঘন কুয়াশার কারণে গাছের মুকুল নষ্ট হতে পারে। ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশিক জামিল মাহমুদ জানান, আমগাছের মুকুল আসার কথা মাঘ মাস থেকে; অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে। তবে প্রাকৃতিকভাবেই হয়তো কিছু গাছে মুকুল আসতে পারে। আমগাছের মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এসব গাছের পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *