ইলিশের আশায় চাঁদপুরের জেলেরা ছুটছে ভাটির দিকে

ইলিশের আশায় চাঁদপুরের জেলেরা ছুটছে ভাটির দিকে

ইলিশ শূণ্য পদ্মা-মেঘনা: সাগরের ইলিশে সরব চাঁদপুর মাছঘাট : দাম চড়া হওয়ায় চাঁদপুরের
ক্রেতাদের মাঝে ক্ষোভ : অধিকাংশ ইলিশ চলে যাচ্ছে জেলার বাইরে

আশিক বিন রহিম

জুন থেকে নভেম্বর, এই পাঁচ মাসকে ধরা হয় ইলিশের ভরা মৌসুম। এ সময়ে নদী তীরবর্তী মাছের আড়ৎ এমনকি হাট-বাজারও সয়লাভ থাকে রূপালী ইলিশে। ফলে বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ভরা মৌসুমে ইলিশের

দাম থাকে কম। আর বেচাবিক্রিও হয় বেশি। কিন্তু এ বছরের চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। ইলিশের বাড়ি খ্যাত চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ভরা মৌসুমেও দেখা মিলছে না কাঙ্খিত ইলিশের। কমেছে সাগরউপকূল থেকে আহরণকৃত

ইলিশের আমদানি। এতে করে দাম বেশি হওয়ায় দেশের অন্যতম বৃহৎ ইলিশের বাজার চাঁদপুর বড়স্টেশন মাঠঘাটে এসেও হতাশ ক্রেতারা। এদিকে চাঁদপুরের জেলেরা পাড়ি জমাচ্ছে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায়। পদ্মা-মেঘনা

ইলিশ শূণ্য হওয়ার কারণে অধিকাংশ জেলেরা ছুটছে ভাটির দিকে। তবে যারা ভাটিতে যাওয়ার সামর্থ নেই তারাই কেবল হতাশা নিয়ে মেঘনায় শ্রম দিয়ে যাচ্ছে।

১৯ জুলাই মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সরেজিন গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে অনেকটাই মুখরিত চিরচেনা চাঁদপুর মাছঘাট। প্রায় প্রতিটি আড়তের সামনে স্তুপ করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বরফজাত ইলিশ। তবে

দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের মুখের হাসির মত রূপালী ঝিলিক নেই নদীসশ্য ইলিশের শরীরে। স্তুপ করে রাখা ইলিশের গায়ে লালচে ভাব দেথে যে কেউ বলে দিতে পারে এগুলো চাঁদপুরের নয়, দক্ষিনাঞ্চলের সাগর উপকূলীয় নদীর মাছ। তবে আড়তগুলোর পাশে বসা খুচরো বিক্রেতাদের কাছে অল্পস্বল্প যেটুকুন লোকাল ইলিশ মিলছে, তার দামও বেশ চওড়া।

দূর জেলা থেকে ইলিশ কিনতে আসা এমন ক’জন ক্রেতার সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। ঢাকার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদপুরের ইলিশ অনেক সুস্বাদু। তাই এখান থেকে তাজা ইলিশ নিতে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে দেখি, বেশিরভাগ নামার ইলিশ। তাছাড়া চাঁদপুরের এই মাছঘাটে ইলিশের দাম অনেক বেশি মনে হচ্ছে।’

কুমিল্লা থেকে আসা হাসান মাহমুদ বলেন, ‘হাতিয়া, ভোলা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদপুরে ইলিশ আসে। ফলে চাঁদপুরের বাজারে দাম অনেক কম হবার কথা। তাই আমরা কয়েক বন্ধু মিলে ইলিশ মাছ

কিনতে এসেছি। ভেবেছিলাম সস্তায় মাছ কিনতে পারবো। কিন্তু দাম অনেক বেশি হওয়ায় অল্পকিছু মাছ কিনেছি।’
চাঁদপুর বড় স্টেশন মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শবেবরাত সরকার জানান, ‘যদিও এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। তারপরেও স্থানীয় নদীতে ইলিশ তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া দক্ষিণাঞ্চল থেকে

আসা ইলিশের আমদানিও অনেক কম। তবে গত সপ্তাহে আমদানি কিছুটা ভালো ছিল। কিন্তু গতকাল এবং আজকে আবার কমেছে।
তিনি আরো জানান, গতকাল প্রায় ৪শ’ মণ ইলিশ বাজারে এসেছে। অন্যান্য বছর এই সময়ে আমদানি হাজার ছাড়িয়ে যেত। ছোট সাইজের ইলিশ প্রতি কেজি ৫০০-৫৫০, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ এক

হাজার টাকা এবং এক কেজির বেশি ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকা দরে। গত দুই সপ্তাহে ইলিশের আমদানি ওঠানামা করলেও দামে তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি।’

তবে খুচড়ো বিক্রেতারা তাদের কাছে থাকা ইলিশগুলো চাঁদপুরের নদীর বা লোকাল বলে দাবী করে জানান, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের লোকাল ইলিশ এক হাজার টাকা, এক কেজির ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ ১৪’ টাকা এবং দেড় কেজির উপরে ওজনেরগুলো বিক্রি হচ্ছে ২ হাজা টাকা দরে।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান দাবি করেন, বাজারে ইলিশের পর্যাপ্ত আমদানি রয়েছে। প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার মণ ইলিশের আমদানি হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *