জেলেদের জাল থেকে আড়তে উঠার আগেই দ্বিগুণ : চাঁদপুরে সিন্ডিকেটে দাম কমছে না ইলিশের

এম. ফরিদুল ইসলাম

ইলিশের দাম নিয়ে হতাশা এখন সর্বত্র। কি সাগর পাড় কিম্বা মেঘনার পাড়, সবখানের চিত্র একই। ইলিশের দামে পাইকার-মহাজনদের পোয়া বারো হলেও জেলেরা পাচ্ছে না ন্যায্য মূল্য। এমনই অভিযোগ অনেক জেলের।
চাঁদপুর সদর উপজেলার বহরিয়া এলাকার জেলে মাঝি মানিক মিয়া চাঁদপুর সময়কে জানান, জেলেরা মাছ ধরার পর পাইকারদের কাছে মাছ বিক্রি করে দেন। জেলেরা সরাসরি আড়তে মাছ আনতে পারেন না। কারণ কাইকাররা জেলেদেরকে দাদন দিয়ে থাকেন। তাই মাছ ধরার সময় পাইকাররা ট্রলার নিয়ে আশেপাশেই অবস্থান করেন। জাল তোলার পর পাইকাররা ছুটে যান জেলেদের নৌকার কাছে। অথবা জেলেরা মাছ ধরার পর তীরে অপেক্ষমান পাইকারের কাছে ছুটে আসেন। পাইকাররা ইলিশ কিনে নেন অনেকটা পানির দামে। যে সব জেলেরা পাইকারদের নিকট থেকে দাদন নেন না তারাই কেবল তীরবর্তী এলাকার আড়তে নিয়ে যান ইলিশ। সেখানে আড়তে দাদন নেয়ার কারণেই আড়তে যান তারা। আড়তে গিয়েও জেলেদের ভাগ্য একই। বাজারে যেই দামে মাছ বিক্রি হয় তার চার ভাগের একভাগও পান না কখনো।

তাই বলতে গেলে ইলিশের বাজার নিয়ন্ত্রণ হয় পাইকার ও মহানজনদের মাধ্যমেই। পাইকারদের কাছেই ইলিশের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। আড়তে আসলে সেটার অবস্থা কি হবে এবং বাজারে যাওয়া পর্যন্ত খুচরা বিক্রেতারা দাম কি পরিমান হাঁকাবে তা বলাই বাহুল্য।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের জেলে আব্দুর রব মাঝি বলেন, জেলেরা অসহায় । বাজারে যেই দামে ইলিশ বিক্রি হয় তার কিছু অংশ যদি জেলেরা পেতো তাহলে জেলেদের পোষাতো। কিন্তু জেলেরা বরাবরের মতোই বঞ্চিত থেকে যায় দাদনের কারণে।
যার কারণে নদীতে জেলেদের কাছে ইলিশের দাম কম হলেও সাধারণ মানুষ ইলিশ ক্রয়ে গুনতে হয় আকাশ ছোঁয়া দাম।
আর সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার জেলেরো যেসব মাছ ধরেন তারাও সেই পাইকারদের কাছে ইলিশ বিক্রি করেন। পাইকাররা সেখানে ট্রলার ও বরফ নিয়ে অবস্থান করে ইলিশ কিনে ট্রলার বোঝাই করে চাঁদপুরের আড়তের উদ্দেশ্যে ছুটে আসেন। তাই উপকুলীয় অঞ্চলের ইলিশে চাঁদপুরের আড়ৎ তথা

চাঁদপুর মাছ ঘাট সয়লাব হলেও দামের কোন হেরফের হয় না। কারণ চতুর সেই পাইকাররাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করে চলছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। এসব চিত্র একেবারেই টপ সিক্রেট বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছিক এক আড়ৎদার।

তিনি জানান, পাইকাররা সিন্ডিকেট করে বাজারে ইলিশ নিয়ে আসেন । তারা ইলিশের ক্রয়ে অধিক মূল্য দেখানোর কারণে আড়তে এসে আরো দাম বেড়ে যায়। যার কারণে আড়ৎ থেকে ইলিশ কিনে নিয়ে বাজারের খুচরা বিক্রেতারা আর সুবিধা করতে পারেন না। তারা অল্প লাভেই ছেড়ে দেন।

তাতেই বাড়ারের অবস্থা খারাপ হয়ে উঠে। অর্থাৎ ইলিশের যতোই আমদানী হোক না কেন ইলিশের দাম আর কমার কোন সুযোগ নেই।

এদিকে ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে ইলিশ না ছাড়লেও আড়তদারদের কোন সমস্যা নেই। কারণ তাদের দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক মার্কেটে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেই সব মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও এখানে এসে যে দামে পান সেই দামেই কিয়ে নিয়ে যান। যার কারণে

আড়ৎদাররা স্থানীয় চাহিদাকে তেমন কোন পাত্তা না দিয়ে রপাতানিতে উৎসাহীত হয়ে উঠেন। যার ফলে যেই লাউ সেই কদুই রয়ে যায়। অথাৎ যারা খুব আশা নিয়ে থাকেন ইলিশের আমদানী বেশী হলে কম দামে ইলিশ খাবেন তাদের সেই আশায় গুড়েবালী।
এছাড়া চাঁদপুরে এখন অনলাই মার্কেটও খুব চাঙ্গা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনলাইন মার্কেটিং ব্যাবসায়ীরা মাছ পাঠান। অনলাইন ব্যাবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানাযায় আমাদের এমন সব ক্রেতা রয়েছে যারা দাম নিয়ে ভাবে না। তারা চান শুধু চাঁদপুরের তাজা ইলিশ। তাই এসব অনলাই ব্যবসায়ীরাও ইলিশের বাজার অস্থিশীল করে তুলছে যে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

চাঁদপুর বিপনীবাগের আসা এক ক্রেতাকে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন একটি বিষয় অথচ কেউ ধরতে পারে না। প্রশাসনেরও যেন কিছুই করার নেই ইলিশের দাম না কমার জন্য। কিন্তু এখানেও যে বিশাল এক দুর্নীতি কাজ করছে তা কে জানতো।

আমরা সাধারণ মানুষ আমরা বাজারে আসি যেই দামে পাই সেই দামেই কিনে নিতে হয়। এখন আর ইলিশ চাইলেই খাওয়া যায় না। বরং মেহমান অতিথি আসলে কিংবা শখ করেই এখন ইলিশ খেতে হয়।

ইলিশের মূল্য নিয়ে কথা হয় ভাটিতে ইলিশ ধরতে যাওয়া জেলে বাহাদুর মিয়ার সাথে তিনি জানান, এখানে অনেক মাছ পড়ছে, কিন্তু পাইকররা সেই রকম দাম দেয় না। হুনি শুধু চাঁদপুরের দাম বেশী । কিন্তু আমাদের ভাগ্যে সেই দাম জোটে না।
এদিকে ইলিশের বাজারে এমন নিরব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতরা। জেলেরাও চান এই সিন্ডিকেটের অবসানর হোক।

সাগরে মাছ ধরায় বিধিনিষেধ কাটার পরের সপ্তাহে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরার খবর মিললেও খুচরা পর্যায়ে এখনও মাছটির দাম নাগালের বাইরে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

 

চাঁদপুরের বাজারের এখনো ভাটির ইলিশের দাম খুব সামন্যই কমেছে। সাইজের ইলিশ হলে সেই ১৫০০ থেকে দুই হাজার টাকাতেই কিনতে হয়। ছোট হলে হয়তো কিছু দাম কমে আসে। এছাড়া কয়েক দিনের পুরোনো হলে মাছের রং বদলে যায় তখন খুচরা বাজারে বেশী দামে বিক্রি করতে পারবে না যেজে মাছ বিক্রেতারা দাম একটু কম হাঁকান। কিন্তু চাঁদপুরের তাজা ইলিশ হলেতো আর কথা যেই ২ থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত দাম উঠে প্রতি কেজির মূল্য। তাই দৈত্য নীতির অবশাসন চায় চাঁদপুরের মানুষ। এ ব্যাপারে প্রশসনকেই উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনেকরছেন সকলে ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.