ইলিশে সরব চাঁদপুর মাছঘাট

নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের অধিকাংশ বাজারে ইলিশ বেচাকেনার ধুম পড়েছে। চাঁদপুর বড়ো স্টেশন মাছ ঘাট আবারো সরব হয়ে উঠেছে। ইলিশ নিয়ে ঘাটে আসতে শুরু করেছে ট্রলার ও নৌকা। আড়ৎদারদেরকে পাল্লা সাজিয়ে ইলিশের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এছাড়া চাঁদপুরের প্রধান দুই মাছ বাজার তথা পালের বাজার ও বিপনীবাগ বাজারের সেই পুরনো চিত্র দেখা যায়।

চাঁদপুরের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। মাছের শতাধিক ছোট-বড় আড়তে লেগেছে ইলিশ বেচাকেনার ধুম। ফলে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। তবে বেশিরভাগই ছোট ও মাঝারি আকারের। তাই দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় বেড়েছে ক্রেতা।

সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘনা নদী থেকে একের পর এক ইলিশ বোঝাই নৌকা, ট্রলার, স্পিডবোট ভিড়ছে ঘাটে। এরপরই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন আড়তদাররা। ট্রলার থেকে ঝুড়িতে করে শ্রমিকেরা ইলিশ এনে ফেলছেন আড়তে। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে সরগরম মোকাম। সাধারণ ক্রেতার পাশাপাশি ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারী ক্রেতার সংখ্যাও ছিল চোখে পড়ার মত।

ইলিশের পেটে ডিম থাকার বিষয়ে মৎস্যজীবী জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে বেশিরভাগ ইলিশই ডিম ছেড়ে সাগরে ফিরে গেছে। কিছু ডিমওয়ালা মাছ ধরা পড়ছে। অবশ্য ডিম ছাড়া মাছ পানির অনেক গভীরে বিচরণ করে। তাই ডিম ছাড়া মাছের চেয়ে ডিমওয়ালা কিছু মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। তবে এতে ইলিশের বেড়ে ওঠা ও বংশ বিস্তারে প্রভাব ফেলবে না।

চাঁদপুরে ইলিশঘাটে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। এতে খুশি আড়তদাররা। মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সরকারি নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী ২২ দিন ঘরেই বসেছিলেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা শেষে বুক ভরা আশা নিয়ে সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকেই চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে নামেন তারা। তবে আশানুরূপ ইলিশের দেখা না পাওয়ায় ফিরছেন হতাশা নিয়ে। যে পরিমাণ মাছ মিলেছে তাতে নৌকার জ্বালানি খরচও উঠছে না বলে দাবি তাদের।

আমদানি কম থাকায় মাছের দাম কিছুটা বেশি। দু-তিনদিন পর আরও বেশি পরিমাণ মাছ ধরা পড়বে বলে আশা তাদের। মঙ্গলবার চাঁদপুরের মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, চাঁদপুরের বৃহৎ ঘাট ফিরে পেয়েছে তার চিরচেনা রূপ। ক্রেতা বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখরিত চারদিক। যদিও ঘাটে ক্রেতার সংখ্যা ছিল সামান্য।

চাঁদপুরে ইলিশঘাটে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য, খুশি আড়তদাররা ঘাটে ১ কেজি থেকে ১২০০ গ্রামের প্রতি কেজি ইলিশের দাম ১১৫০ থেকে ১২৫০ টাকা, ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ ১০৫০ টাকা থেকে ১১০০ টাকা এবং ৬০০ গ্রাম থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশের দাম ৭৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মেঘনা থেকে হতাশ হয়ে ফিরে আসা জেলে মনির ও আব্দুর রহমানসহ আরও কয়েকজন জানান, ‘যে আশা করে নদীতে গিয়েছিলাম সেই আশা পূরণ হয়নি। আমরা ১০ থেকে ১২ জন লোক এক নৌকা নিয়ে নদীতে গিয়েছিলাম। যেখানে আমরা নদী থেকে ফিরে মাছ বিক্রি করেছি মাত্র ১২ হাজার টাকার। সামনের অবস্থা যদি এমনই থাকে তাহলে আমরা আরও ধার-দেনায় পড়ে যাবো।

তারা আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে যে পরিমাণ মাছ পাওয়ার কথা ছিল তা একেবারেই পাইনি। অভিযানও শেষ মাছও শেষ।
ঘাটের আড়তদার বিপ্লব খান ও নবীর হোসেন বলেন, ২২ দিন পর আজকে ঘাটে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে এতে আমরা খুশি। তবে এ সময় আমরা যে আশা করেছিলাম চাহিদা অনুযায়ী সে পরিমাণ ইলিশ ঘাটে আসেনি। তবে আশা করছি দু-তিনদিন পর ইলিশ আমদানি বাড়বে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবেবরাত সরকার বলেন, ঘাটে আজ যে পরিমাণ মাছ আমদানি হয়েছে তার সবই আমাদের চাঁদপুরের লোকাল ইলিশ। তবে আশা করেছিলাম আজকে অন্তত দুই থেকে আড়াই হাজার মণ ইলিশ ঘাটে আমদানি হবে। সেখানে ৮০০ থেকে ১ হাজার মণের মত ইলিশ এখন পর্যন্ত আমদানি হয়েছে। ইলিশের অনেক চাহিদা আছে তবে সে অনুযায়ী মাছ ঘাটে আসেনি। এরপরও যে পরিমাণ মাছ এসেছে এতেও খুশি আছি।

স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *