ইলিশ উৎপাদনে চ্যালেঞ্জ ও কৌশল নিয়ে আরো গবেষণা জরুরি

ইলিশের উৎপাদন কম বা ইলিশ ধরা পড়ছে না এ নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট কী কারণে উৎপাদন কম হয়েছে বা ধরা পড়ছে না এ নিয়ে গবেষণা জরুরি।

দরিদ্র জেলেদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় তাদের অনেক বেশি সহযোগিতা দিতে হবে। ইলিশ সংরক্ষণে একটি স্বতন্ত্র তহবিল গঠন করা প্রয়োজন, যেন দুর্যোগের সময় জেলেদের বেশি করে সহায়তা দেওয়া যায়। সঠিক বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মা ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় প্রতিবছর নির্ধারণ করা উচিত।

প্রযুক্তির পরিবর্তনে সাগরে ইলিশ ধরার কৌশল পরিবর্তন হলেও নদীতে ইলিশ ধরার কৌশলে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। যদিও এখন দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এ রকম ওজনের মাছ বড় হতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগে। অর্থাৎ ২০১১ সাল থেকে যে ইলিশ সংরক্ষণ করা হচ্ছে তার ফল আমরা পাচ্ছি।

মাছ সাগরে থাকলেই ধরা পড়ে না। অনেক সময় ইলিশ মাছ গভীর পানি থেকে উঠে আসে না। এর জন্য প্রয়োজন অনুকূল আবহাওয়া। যেমন পর্যাপ্ত বৃষ্টি, পানির চাপ, খাদ্য ইত্যাদি। এই মাছের প্রথম হকদার হচ্ছেন অতিদরিদ্র জেলেরা। তাঁদের ধরার জন্যই মাছ সংরক্ষণ করা হয়। মাছ ধরতে পারলে তাঁদের ভাগ্যের কিছুটা পরিবর্তন হয়। আবার মাছ না ধরলে প্রকৃতির নিয়মেই কোনো না কোনোভাবে এটা শেষ হয়ে যাবে।
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গণসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। আজ যে পরিমাণ ইলিশের উৎপাদন হচ্ছে, এর জন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতা বড় ভূমিকা রেখেছে।

১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট গড়ে ওঠে। ১৯৮৬ সাল থেকে ইলিশ মাছের উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা হচ্ছে।
আজ ইলিশের উৎপাদন নিয়ে আমরা গর্বিত। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। চ্যালেঞ্জ হলো, ইলিশের এই উৎপাদন ধরে রাখা। গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইলিশ নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে।

ইলিশের বিস্তৃতি এখন অনেক বেড়েছে। বলা হয় ১০মিটার গভীর পানিতে ইলিশ চলাচল করতে পারে। ইলিশ চলাচলের পথগুলো ঠিক করতে হবে। এদের চলাচলের পথে কী কী বাধা আছে, সেটা দূর করতে হবে।

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল

Leave a Reply

Your email address will not be published.