ঈদে সাধারণ মানুষের ভাগ্য কোন পথে

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল:

করোনা-উত্তর এবার ঈদ-বাণিজ্য জমে ওঠার বিষয়ে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আশাবাদী ছিল; কিন্তু দিন যতই গড়াচ্ছে আশা ঝাপসা হয়ে আসছে। দেখা দিচ্ছে হতাশা। এমিনতেই বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে স্পষ্ট। ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কায় জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। সেখানে মানুষজন নিত্যপণ্যও কিনতে পারছে না। আমাদের দেশেও নিত্যপণের দাম গত কয়েক মাস ধরে অস্বাভাবিক বেড়েছে। এই বাড়তি দামে প্রভাব রেখেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।
পরিস্থিতি এমন যে, মুষ্টিমেয় লোকজন ছাড়া দেশের বেশির ভাগ মানুষ সংসারের নিত্যব্যয় বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন শহরের বিপণিবিতানে ঈদ কেনাকাটায় ক্রেতা স্বল্পতা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। এ কারণে ঈদবাজারে পোশাক, জুতা, অলঙ্কার, প্রসাধনসহ অন্যান্য জিনিস বেচাকেনা তেমন একটা হচ্ছে না। ঈদের খাবার প্রস্তুতে যেসব খাদ্যপণ্য ব্যাপকভাবে বিক্রি হয়, সেগুলোও কম বেচাকেনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর হাতে প্রয়োজনীয় টাকা নেই। ফলে আয়-ব্যয়ের সঙ্কুলান কঠিন হয়ে উঠেছে তাদের। এ কারণে ঈদবাজারে ক্রেতা কমে গেছে। বাস্তবে সাধারণ মানুষের টিকে থাকাই দায় হয়ে উঠছে। সেখানে ঈদ উৎসব পালনে কেনাকাটা বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য বিলাসিতা ছাড়া কিছু নয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে আরো কর্মমুখী এবং বাস্তসম্মত কিছু করা দরকার। তাছাড়া প্রত্যেকের পাশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন অপরিহার্য। পাশের প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে ঈদ আনন্দ একেবারেই বেমানান। তাই একজন মুসলমান হিসেবে পরস্পরের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহবান জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.