উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নদী রক্ষা অপরিহার্য

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল নৌপথই সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব। তাই এদিকে এবার নজর বাড়ছে। বাংলাদেশে প্রধানত তিনটি কর্তৃপক্ষ সেতু নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করেÑ সওজ, রেলওয়ে ও এলজিইডি। যথারীতি তাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। তা ছাড়া প্লাবনভূমির পরিবর্তনশীল নদীর বারবার খাত বদলের অভ্যাস, বছরের বিভিন্ন সময়ে নদীর উচ্চতার হেরফের সব সময়ই কাজটাকে কঠিন করে রেখেছে। প্রথম কথা হলো, যতটা সম্ভব নদীতে সেতু তৈরির চিন্তা কমাতে হবে, নৌপথের ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং সব নদীর প্রবাহ সংক্রান্ত সব তথ্য প্রতিবছর হালনাগাদ করে তবে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করতে হবে। এখন অধিকাংশ সেতুর উচ্চতা কম হওয়ায় বড় জাহাজ, উদ্ধারকারী জাহাজ, আপৎকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দপ্তর থেকে অনেক সেতুর উচ্চতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উন্নয়নের নেশায় রয়েছে দেশ ফলে এ নিয়ে কাজ হবে, প্রকল্প পাস হবে এবং অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু দেশের বাস্তবতায় ভবিষ্যৎ চিন্তা করলে একি ঠিক পথ?
আমাদের মনে হয় বাংলাদেশের ভূমির বিশেষত্ব এবং পুরো অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও জনজীবনে নদীর গুরুত্ব অনুধাবন এবং এদের বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করেই অবকাঠামো উন্নয়নের চিন্তা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন চিন্তার কথা বলেছেন। আমরা বলব, আজকের বিশ্বে এ ধরনের চিন্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং বাংলাদেশের জন্য এ চিন্তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আমাদের ভূমি ও বাস্তুতন্ত্র, জনজীবন, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে নদীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নদীর প্রাণ হরণ করে নয়, নদীকে বাঁচিয়ে রেখেই সব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.