উড়ন্ত ধুলাবালিতে বিপর্যস্ত চাঁদপুরের বাতাস

ফরিদুল ইসলাম: গতকাল থেকে হঠাৎ করেই ঘুর্ণি বাতাস বইতে শুরু করেছে চাঁদপুরের সর্বত্র। তবে গত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া অফিস বরেছে আকাশের অবস্থা মেঘমালায় ঢাকা পড়বে এবং কয়েকটি বিভাগে হতে পারে বৃষ্টি। সেই হিসেবে চাঁদপুরের আকাশেও গতকাল দিনভর মেঘের আনাগোনা দেখা যায়। তবে এখনো চাঁদপুরের কোথায়ও বৃষ্টি নামতে দেখা যায়নি।

এদিকে গতকাল চাঁদপুরের সর্বত্র ঘুর্ণি বাতাসের কারণে ব্যাপকভাবে ধুলাবালি উড়তে দেখা যায়। এতে মানুষের মধ্যে এক বিরক্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। রাস্তাঘাটে পথচারিরা পড়েছেন বিপাকে। পদযাত্রার পথচারিরা নাকমুখ ঢেকেও নিস্তার পায়নি ধুলাবালির কবল থেকে।অনেকে মনেকরছেন বৃষ্টি নামলে ধুলাবালিপর প্রকোপ কমে আসবে। কিন্তু বিক্ষিপ্ত বালু উড়ার কারণে মানুষ অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে । চাঁদপুর প্রফেসর পাড়ার বাসিন্দা ছাব্বির হোসেন বলেন, ‘ধুলাবালিতে রাস্তায় দাঁড়ানো যায় না, শরীরের ভেতরে বালু ঢুকে পড়ছে।’
অপরদিকে রাস্তার পাশের খোলা দোকানগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হতে দেখা যায়। বাস স্ট্যান্ড এলাকার টং দোকানী আবুল বাশার বলেন, আইজ বাতাসের কারণে দোকান্দারি করতে সমস্যা হইতাছে। যেইভাবে বালু উড়তাছে তাতে দোকানে বসা যাচ্ছে না। তাছাড়া খাবারের উপর ধুলাবালি পড়ে খাবার নন্ট হয়ে যাচ্ছে।’
এদিকে শহরে এখনো নির্মান কাজে ব্যবহৃত আস্তর বালু ও ধুলবালু খোলা ট্রাকে করে যাতায়াত করে। যার ফলে এসব ট্রাক থেকে বালু উড়ে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। যদি দিনের বেলা খোলা ট্রাক নিয়ে যাতায়াত করা নিষিদ্ধ রয়েছে। তবুও অনেক বালু ব্যবসায়ী তা মানছে না। ডাকাতিয়া নদী তীরবর্তী এলাকায় এসব বালু ব্যবসায়ীর অবস্থান হলেও তাদেরকে নেই কোন অনুমোদন। অনুমোদনহীন ব্যবসা পরিচালনা করলেও কেউ তাদেরকে বাধা দিচ্ছে না।
ফলে চাঁদপুরে সামান্য বাতাসেই ধুলাবালি উড়তে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর এই ধুলাবালি উড়ার কারণে মানুষ শ^াসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই এসব রোগ থেকে পরিত্রান পেতে হলে উড়ন্ত বালু নিয়ন্ত্রনে আনতে হবে।
তানা হলে পরিবেশ আরো মারাত্ম বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। বিশেষ করে শহরের উপকণ্ঠে বালুর ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। এসব ব্যবসা যেভাবে পরিচালনা করতে হয় তা কেউ মানছে না। বালুর ব্যবসা করতে হলে উচু দেয়াল সহ ঢেকে রাখার বিধান থাকলে তা কেউ মানছে না। তাছাড়া ট্রাকে বালু পরিবহণে কোন সতর্কতা অবলম্বন করা হয় না। এ ব্যাপারে চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারন মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.