বন্ধ হয়ে গেছে হাজীগঞ্জ আল আমিন মডেল একাডেমি

করোনায় বন্ধ হয়ে গেছে হাজীগঞ্জের আল আমিন মডেল একাডেমি। শিক্ষার্থী সংকট, শিক্ষকদের বেতন নিয়মিত প্রদান, ভবন ভাড়ার সাথে সমম্বয় করতে না পারার কারনে প্রতিষ্ঠানটি চলিত বছরের মাঝামাঝি সময় স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয় মালিক পক্ষ। স্কুল মালিক পক্ষের কমপক্ষে দুইজন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১১ সালে হাজীগঞ্জের বাকিলা বাজারে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে শিশু শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাসের অনুমতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। এর মধ্যে সরকারি বৃত্তিসহ পিএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের কারনে এলাকায় সুনাম সৃষ্টি করে বিদ্যালয়।

প্রতিষ্ঠানের সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষ আরাফাত হোসেন মিয়াজী জানান, করোনার কারনে বিদ্যালয় বন্ধ হবার পরে পোল্টি খামার ব্যবসা শুরু করি। কিছুদিন আগে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় চাকুরি নিয়েছি।

অপর এক প্রশ্নে আরাফাত হোসেন মিয়াজী বলেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় ৭ জন শিক্ষক আর ৪৫ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষার্থীদেরকে বাকিলা বাজারের অন্য কিন্ডারগার্ডেনে ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেয়া হয়েছে। শিক্ষকদের মধ্যে ১ জনকে বাকিলা বাজারের অন্য একটি কেজি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের কথা চলমান রয়েছে, বাকী শিক্ষকদের বিষয়ে আমরা জানিনা।

স্থানীয় সন্না গ্রামের বাসিন্দা ও উক্ত বিদ্যালয়ের অভিভাবক যার নামের আদ্যক্ষর ‘এস’। তিনি জানান, উনারা স্কুল বন্ধ করে দিয়েছেন, সেটা আমাদেরকে জানানো হয়নি। অন্য সকল অভিভাবকদের কাছ থেকে শুনে আমার সন্তানকে বাকিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে ভর্তি করাই।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মালিকদের একজন বাকিলা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল ফারাহ্ জানান, প্রায় দেড় বছর লোকসান দিতে দিতে এখন আমরা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছি।

প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম মালিক ও উচ্চঁঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবু তাহের জানান, করোনার কারনে শিক্ষকদের বেতন দিয়ে প্রতিষ্ঠান ধরে রাখা সম্ভব ছিল না। এ ছাড়া যে ভবন ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চলমান ছিলো, সে ভবনের মালিক অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার কারনে বিদ্যালয় চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

করোনার ধকলে হাজীগঞ্জের কয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে তা জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাইদ চৌধুরী মুঠোফোনে জানান, কেজি স্কুলগুলো বন্ধের বিষয়ে ক্যাচমেন্টভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকগণ আমাদেরকে তালিকা দেবেন। এরপরেই আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।

অপর এক প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যালয়গুলো ফেব্রুয়ারী মাসেই পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের বইয়ের চাহিদা দিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে জেনে, তাদের বই দেয়া বন্ধ রাখা হবে।

স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published.