এমপিওভুক্তি হয়রানি বন্ধ হোক

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় সরকার নিয়োগ দিচ্ছে, সরকার বেতন-ভাতা দিচ্ছে তাহলে কেন এমপিও পেতে শিক্ষককে পদে পদে হয়রানি। এমপিও আবেদন বিভিন্ন শাখা অফিস হয়ে সর্বশেষ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে যায়। আবেদন প্রক্রিয়ায় ৬টি ধাপে প্রায় ৩৩ ধরনের কাগজপত্র ও বিভিন্ন তথ্য ফাইল আকারে জমা দিতে হয়। এমপিওভুক্ত শিক্ষকতার চাকরি বিসিএসের চাকরির থেকেও যেন কঠিন! বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আমার এক বন্ধুর কথা বলতে পারি। দ্বিতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে ঢাকার একটি এমপিওভুক্ত স্কুলে নিয়োগ পেলেও এমপিওভুক্ত হতে তার আট মাস সময় লেগেছিল। এই আট মাস তাকে বেতনহীনভাবে অনেক হতাশার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এমন হতাশার মধ্য থেকে কি শিক্ষকতার মতো মহান সেবা দেওয়া সম্ভব? এমপিও আবেদন প্রক্রিয়া এত কঠিন না করে আরো সহজ হওয়া দরকার। সব তথ্য (নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও শিক্ষকের তথ্য) তো সরকারের কাছে রয়েছে, তাহলে কেন ভূরি ভূরি কাগজ আবার জমা দিতে হবে? কেন এত হয়রানি ও জটিলতা। আগে থেকেই সব তথ্য যেহেতু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে, সেহেতু সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ‘অটো এমপিও’ করা হোক।
হয়রানি ও ঝামেলাপূর্ণ এমপিও প্রক্রিয়া সহজ করা সময়ের দাবি। তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমপিও আবেদন বাতিল করা বন্ধ হোক। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে বেতন দেওয়া হোক। হয়রানিমুক্ত এমপিও আবেদন প্রক্রিয়া চালু হোক। সরকার থেকে স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় সুপারিশ পাওয়া শিক্ষকরা সব প্রক্রিয়া শেষ করেই চাকরি পেয়েছে, তাহলে তাদের এমপিও পেতে কেন এত সমস্যা ? যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। মুজিববর্ষে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমপিও আবেদন নিয়ে সব হয়রানি বন্ধ হোক। এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.