ওষুধের দামে বিপাকে সাধারণ মানুষ : ২০ টাকার নাপা সিরাপ ৩৫ টাকা

 

এম ফরিদুল ইসলাম

ক্রমাগত বেড়ে চলেছে ওষধপত্রের দাম। সকল ওষুধ কোম্পানীই যেন ওষুধের মূল্য বৃদ্ধিতে প্রতিযোগীতায় নেমেছে। এমন কোন ওষুধ নেই যার দাম

বাড়েনি। বরং প্যারাসিটামল থেকে শুরু করে সকল ধরনের টেবলেটের দাম বেড়েছে প্রতি পাতায় ১৫ থেকে ২০ টাকা । প্রতি টেবলেটে বেড়েছে ২ থেকে

৫ টাকা। তবে রোধীদের অভিযোগ ঔষধ কোম্পানীর প্রতি।

গতকাল ২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার চাঁদপুর শহরের মিশন রোডস্থ মিলন ফার্মেসী থেকে ঔষধ কিনতে আসা আব্দুল গাফ্ফার চাঁদপুর সময়কে বলেন, ‘মানুষ

 

এখন তিন বেলা খাবারের চেয়ে ঔষধ বেশি খেতে হয়। এমনকি খালি পেটেও সেই ওষুধই খেতে হয়। খাবার না খেলেও ঔষধ খেতে নিয়ম করেই। এর মধ্যে

দফায় দফায় ঔষধের দাম বাড়াচ্ছে কোম্পানীগুলো। মানুষ দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে ঠিক মতো খাবারের জিনিসপত্র কিনে খেতে পারছে না।

এরমধ্যে ঔষধের বেড়েছে। এখন সাধারণ মানুষ কি করবে। ঔষধ খাবে নাকি খাবার খাবে ?

এদিকে চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে কোট স্টেশন এলাকার চাঁদপুর মেডিকেল হল, মেডিসিন কর্নার, জনতা মেডিকেল হল, দোলা ফার্মেসী, হাজীমহসীন

রোডস্থ ছায়াবানীর মোড় এলাকার মিলন ফার্মেসী ও গাজী ফার্মেসীসহ শহরের প্রায় অধিকাংশ ফার্মেসীগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভীর লক্ষণীয়। শহরের অন্য কোন পন্যের দোকানে এতোটা ভীড় আর দেখা যায় না।

ফরিদগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে বিশেষ্ণ ডাক্তার দেখাতে রোগী নিয়ে এসেছেন জসিম উদ্দিন তিনি চাঁদপুর সময়কে বলেন, ‘ভাতের

চাইতে ঔষধ এখন বেশী লাগে। একদিকে ডাইল চাইলের দাম বাড়ছে অন্য দিকে বাড়ছে ঔষধের দাম। মানুষ শুধু নিত্য পণ্যের উপর নজর দিয়েছে।

কিন্তু এই যে ঔষধের দাম বাড়লো কেউ কোন কথা কয় না। ” আল্লায় বিচার করন ছাড়া আর কারও বিচার চাই না” এতো ঔষধ লেখছে ডাক্তার ঔষধের

যেই দাম কেমন কিন্না খাওয়ামু”।

অপর দিকে চাঁদপুর মেডিল হলের সামনে দাঁড়ানো এক ক্রেতা রিয়াদ হোসেন বলেন, ‘দেখেন ঔষদের দোকানেও এখন সিরিয়ালে দাঁড়াইতে হয়। এতো

ভীড় যে দোকানের কর্মচারীরা ঔষধ দিয়ে কুলায় না। ঔষধের যতোই দাম বাড়ুক মানুষতো কিন্না খাইতেই হবে। কেউ কি ঔষধের দামের বিষয়ে কথা

বলছে”? বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা শুধু নিত্য পণ্যের দাম নিয়ে ডাক চিৎকার দেয় অথচ ঔষধের যে এমন দাম বাড়লো প্রায় দ্বিগুন তিনগুন। কই

ঔষধের দাম নিয়ে কিন্তু কেউ কোন কথা বলে না। সরকারও কোন উদ্যোগ নেয় না। এমন যদি হয় তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়”?

চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রাম থেকে আসা জাকির হোসেন চাঁদপুর সময়কে বলেন, ‘ভাই খাওন কম খাওয়া যায় কিন্তু ঔষধ কম খাওয়া যায় না।

ডায়াবেটিসের ঔষধ সকাল বিকাল খেতে হয়। আমার মনে হয় বাজারে সবচেয়ে বেশী দাম ডায়াবেটিসের ঔষধের। কিন্তু এই বেশি দামের মধ্যে আরো

বেড়েছে দাম। আমরা কোথায় যাবো। আপনারা এই বিষয়ে একটু লিখতে পারেন না?’

 

 

চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন ঔষুধের দোকানগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্যারাসিটামল, সেইসাথে রক্তাচাপ, হৃদরোগ, ব্যাথানাশক ও পেটে গ্যাসের

 

সমস্যার নিয়মিত ওষুধগুলোর দাম ৫০ শতাংশ থেকে ১৩৪ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ কিছু ওষুধের দাম দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে।

ওষুধের দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিকে দুষছেন ওষুধ শিল্প সমিতি। তবে ফার্মেসী

মালিকরা দুষছেন ঔষধ কোম্পানীগুলোকে। যে যার মতো করে ঔষধের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে কোম্পানীগুলো। সরকার এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

সূত্র জানায়, ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলো আরো বেশকিছু ওষুধের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে জমা দিয়েছে।সেগুলো যাচাই বাছাই করে, যৌক্তিক মনে হলেই দাম বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান অধিদফতর। অথচ কোম্পানীগুলো এর আগেই বাড়িয়ে

দিয়েছে কয়েকগুণ। সরকার এ ব্যাপারে সব জানলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে জানান চাঁদপুরের স্বচেতন ফার্মেসী মালিক ও রিপ্রেজেনটিটিভরা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের তথ্যমতে, বাংলাদেশে একজন মানুষের মোট চিকিৎসা ব্যয়ের ৬৪ শতাংশ ওষুধ বাবদ খরচ হয় এবং এই

 

খরচ করতে রোগীর পকেট থেকেই।

জরিপে দেখা যায় দেশের হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসা নিতে গিয়ে ওষুধেই মানুষের সবচেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে। যার কারণে চাঁদপুর থেকেও প্রতিবছর

হাজার হাজার মানুষ পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশে চিকিৎসা নিতে। সাধারণ ক্রেতাদের দাবী এখনই ঔষধের দামের লাগাম টেনে না ধরলে ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী

মানুষ ঔষধ কিনতে না পেরে দেশে মৃত্যু হার আরো বাড়বে। এ ব্যপারে সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ রোগী সাধারণ।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.