কচুয়ায় ইউপি নির্বাচনে নৌকা পেতে ঢাকামুখী প্রার্থীরা

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ব্যস্ততা বেড়েছে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষে উপজেলায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া। তবে এখন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় থেকেও বেশি সময় দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের। দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন।

যে কয়েকজন এখনো যাননি তারাও যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও মনোনয়ন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। অবশ্য এ বছর মনোনয়ন বঞ্চিত অনেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

তবে ব্যতিক্রম বিএনপির ক্ষেত্রে। বিএনপি এই নির্বাচন বর্জন করায় দলীয় মনোনয়ন দিচ্ছে না দলটি। তারপরও কচুয়ার কিছু ইউপিতে বিএনপির একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী থাকার আভাস পাওয়া যাচ্ছে এবার। আওয়ামী লীগের বহুমুখী কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছেন তাঁরা। তবে কোন্দল আছে বিএনপিতেও।

আগামী ৫ জানুয়ারি কচুয়ার ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে মনোনয়ন দাখিল চলবে ডিসেম্বরের ৭ তারিখ পর্যন্ত। বাছাই হবে ৯ ডিসেম্বর এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ১৭ ডিসেম্বরে। এর মধ্যে ১০-১১ ডিসেম্বরে আপিল দায়ের ও ১৩-১৪ ডিসেম্বরে আপিল নিষ্পত্তির পালা শেষ হবে এবং ১৫ ডিসেম্বরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার সুযোগ রেখেছে ইসি।
তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী মাঠের চেয়ে প্রভাবশালী নেতাদের বাসা অনেক বেশি সরগরম। প্রার্থীদের মধ্যে বেশ তোড়জোড় লক্ষ করা গেছে গত দুদিন ধরে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ সম্ভাব্য প্রার্থী এখন ঢাকায় নিজ নিজ আবহে চেষ্টা-তদবির করছেন। মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কেউ কেউ।

এদিকে বিএনপি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনে অংশ না নিলেও অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কচুয়া উপজেলায় নভেম্বর মাসে সম্পন্ন হয়েছিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তৃণমূল বর্ধিত সভার সব কার্যক্রম। ১২টি ইউপিতে ১২ নভেম্বর থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে এই বর্ধিত সভা সম্পন্ন হয়। সেই তালিকায় পরে বিভিন্নভাবে যুক্ত হয়েছেন আরও ৩ জন। সব মিলিয়ে ১১৪ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী নৌকা প্রতীক পাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাবেন।

কচুয়ায় স্থানীয় সাংসদ ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ ও সাবেক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান (এনবিআর) গোলাম হোসেনের অনুসারী মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড় এবার বিগত যেকোনো বছরের চেয়ে অনেক বেশি। এ পর্যন্ত ১১৪ জন প্রার্থীর শোনা যাচ্ছে ১২টি ইউপিতে।

এতে ১২টি ইউপিতে ১১৪ জন প্রার্থী আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা মনোনয়ন প্রত্যাশা করে নাম প্রস্তাব করেন। তাদের মধ্যে সাচার ইউপিতে ৮ জন, পাথৈর ইউপিতে ৯ জন, বিতারা ইউপিতে ১১ জন, পালাখাল মডেল ইউপিতে ৫ জন, পশ্চিম সহদেবপুর ইউপিতে ৯ জন, উত্তর কচুয়া ইউপিতে ১৩ জন, সদর দক্ষিণ ইউপিতে ৮ জন, কাদলা ইউপিতে ১১৩ জন, কড়ইয়া ইউপিতে ১৪ জন, গোহট উত্তর ইউপিতে ৮ জন, গোহট দক্ষিণ ইউপিতে ১১ জন, আশ্রাফপুর ইউপিতে ৫ জন।

কচুয়া প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *