কচুয়ায় পতিত জমিতে সরিষার বাম্পার ফলন

কচুয়া প্রতিনিধি কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এখন সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ। হিমেল বাতাসে মাঠ জুড়ে দোল খাচ্ছে হলুদ সরিষার ফুল। সরিষা ফুলের হলুদে মুখরিত যেমন মাঠ, তেমনি বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে হাসি। যেন সরিষার হলুদ হাসিতে স্বপ্ন দেখছে কচুয়া উপজেলার কৃষকরা। উপজেলার মাঠে মাঠে ছেয়ে গেছে সরিষার ক্ষেত।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় কচুয়া উপজেলায় রোপা আমন পরবর্তী সময়ে পতিত জমিতে তেলজাতীয় ফসল প্রদর্শনী বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। সাধারণত রোপা আমন কিংবা বোনা আমন কর্তনের পর দুই থেকে আড়াই মাস জমি পতিত থাকে। তারপর জানুয়ারি শেষ দিকে বোরো মৌসুমের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়। এই সময়টিকে অনাবাদি না রাখতেই এই কৌশল অবলম্বন করে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।
চলতি মৌসুমে ১৭৫ হেক্টর সরিষা চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত হওয়ায় তার মধ্যে ১৫০ হেক্টর সরিষার আবাদ হয়েছে। গত বছর সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা এবারও সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর প্রত্যেক চাষি মুনাফা লাভ করবে।
তুলপাই ব্লকের কৃষক জামাল হোসেন বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের সহয়তায় এই প্রথম আমাদের এলাকায় ব্লক প্রদর্শনী করে ৩ একর জমিতে সরিষা আবাদ করেছি, আগামীতে আমাদের কাছ থেকে অনেকেই বীজ নিয়ে আবাদ করবে। আশা করছি গত বছরের চেয়ে এবছর ভালো মুনাফা পাব।
পালাখাল ব্লকের আশারকোঠা ও সফিবাদ গ্রামের স্থানীয় কৃষক আলী মিয়া,আব্দুর রহিম ও আবুল বাসার জানান, গত বছর সরিষার ভালো দাম পাওয়ায় চলতি বছর সরিষা বেশি আবাদ করেছি। ভালো ফলন হলে অবশ্যই দাম পাবো বলে আশা করছি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, রোপা আমনের ধান কর্তনের পর বোরোধান রোপণের মাঝে স্বল্পমেয়াদী বারি সরিষা ১৪, বারি সরিষা ১৭ জাতগুলো আবাদ করা হয়। এগুলো ৭৫ দিনের মধ্যেই ফলন এসে যায়, গড় ফলন বিঘা প্রতি ৪-৫ মণ। যা তেল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করবে, পাশাপাশি জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করবে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সোফায়েল হোসেন বলেন, তেল জাতীয় ফসলের বৃদ্ধি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্যাটার্ন ভিত্তিক প্রদর্শনী করা হচ্ছে। একই কৃষক সরিষা পরবর্তীতে বোরোধান এবং আমন ধান করার জন্য উপকরণ পাবে। এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে ভোজ্য তেল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। এদিকে সরিষা চাষে কৃষকদের উৎসাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সরিষা বীজ প্রদান করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন হবে এবং কৃষকরা লাভবান হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.