কচুয়ায় ড্রেজার দিয়ে ৭ বছর ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

 

 

এস আর শাহ আলম

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০, ১১, ১২নং ইউনিয়নে অবৈধ ড্রেজার চলাচলের খবর না পাওয়া গেলেও বাকি ইউনিয়ন গুলোর আনাছে-

 

কানাছে অবৈধ ড্রেজার দ্বারা বালি উত্তোলনের হিড়িকে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ৭ বছরেও বন্ধ হয়নি ৯নং কড়ইয়া ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের মজুমদার বাড়ির জহির

মজুমদারের ড্রেজার। জহির দীর্ঘ ৭ বছর থেকে তার বাড়ির পাশাপাশি সাদিপুরা-চাঁদপুর গ্রামের বড় বাড়ির পূর্ব পাশের কৃষি জমি মাঠের মধ্যখানে প্রায় ৪’শ শতক ভূমির মাছের

প্রজেক্ট বেড়ির ভিতরে অবৈধ ড্রেজার চালিয়ে বালি উত্তোলনের মধ্যে বিক্রি করে আসছে। ক্ষুদ্র থেকে জহির এখন কোটিপটি। গত বছর এ প্রতিনিধির ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের

পর সম্প্রতি বদলি প্রাপ্ত জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিস এর দৃষ্টি আকর্ষন হলে, তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের মধ্যে কচুয়ায় এসব অবৈধ ড্রেজারের তান্ডব লীলা একবারেই

বন্ধ হয়ে পড়ে ছিলো। কিন্তু বিগত ৩/৪ মাস থেকে আবার এর হিড়িক পড়েছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের লোকজন তা বন্ধ করলেও পরক্ষনে আবার তাদের এ ব্যবসা চালিয় আসছে।

যেমন গত ২/৩ দিন পূর্বে একই ইউনিয়নের সাদিপুরা-চাঁদপুর, দরিলক্ষীপুর ও নলুয়া গ্রামের বিশাল কৃষি জমির মাঠের মধ্যেখান থেকে বালি উত্তোলন ব্যবসায়ী আবুল কাশেম নামে

এক ব্যক্তির অবৈধ ড্রেজারের পাইপ ভূমি অফিসের লোকজন ভেঙ্গে দিয়ে আসলেও শনিবার (২৭ আগস্ট) সরজমিন গেলে দেখা যায় পুনরায় বালি উত্তোলন অব্যাহত রাখে। এ ইউনিয়নে আরও একাধিক চলছে অবৈধ ড্রেজার।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, জহির, মঞ্জু, আবুল কাশেম সহ এ অবৈধ ড্রেজার কর্তৃক বালি ব্যবসায়ীরা প্রথমে একটু জমি ক্রয় করে ড্রেজার বসিয়ে বালি উত্তোলন করায় পাশের জমিটি

ভেঙ্গে পড়লে আমরা অসহায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে কমমূল্যে তাদের কাছে জমি বিক্রি করতে হয় এবং তারা আজ ফসলি জমি ধ্বংশ করে কোটিপটি। ভুক্তভোগী কৃষকরা আরও

জানান, আমাদের প্রতিবাদে বর্তমানে মঞ্জুরের ড্রেজারটি বন্ধ থাকলেও লোকমুখে শুনতেছি আবারও সে ড্রেজার বসানোর পায়তারা করতেছে।

 

এ বিষয়ে নবাগত কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হাসান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন- অবগত হয়েছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবো।
স্থানীয় সহকারি ভূমি কর্মকর্তা (তহছিলদার) আলী আশ্রাফ প্রধান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন- তাদের ড্রেজারগুলো একাধিকবার ভেঙ্গে দেয়ার

পরও পুনরায় ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করে আসছে। ইউএনও সাহেব আমাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছে, আমরা রবিবার (২৮ আগস্ট) সকালে সরজমিন গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা

নেবো।ভুক্তভোগী কৃষকরা তাদের ফসলি কৃষি জমি রক্ষার্থে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.