করোনায় বিপর্যস্ত কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা ব্যবস্থা

২০২০ সালের মার্চ মাসে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দেশের সব সেক্টর শর্তসাপেক্ষে কিছু সময়ের জন্য খুললেও করোনার প্রকোপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারছে না সরকার। এভাবে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারনে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা কিন্ডার গার্টেনগুলোর ত্রাহি অবস্থা। অধিকাংশই এখন বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। ভাড়াটে বাসায় প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য কিন্ডার গার্টেন ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে ইতোমধ্যে বাসা ছেড়ে দিতে হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন বন্ধ থাকার কারণে অধিকাংশ শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রয়েছে সেই ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকেই। এতো দীর্ঘ সময় বেতন বন্ধ রেখে শিক্ষকদের ধরে রাখা কিছুতেই সম্ভব নয়।

দেশের কিন্ডার গার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দেশে শিক্ষা বিস্তারে বিশাল একটি জায়গা দখল করে থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ব্যাপারে এখনো কোন কার্যকর প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। কিন্ডার গার্টেনগুলোকে বিত্তশালী মনে করা হয়। অনেকেই মনে করেন বিত্তবান ও সচেতন মানুষের সন্তানরাই এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করেন। ভালো লেখাপড়া হয় বলেই হয়তো এমন ভাবনার জন্ম হয়েছে। আমরা মনে করি দেশের শিশুশিক্ষা ব্যাবস্থায় কিন্ডার গার্টেনগুলো পথ দেখানোর ভূমিকায় রয়েছে। শিশুদেরকে কিভাবে যত্মসহকারে শিক্ষা প্রদান করতে হয় তা কিন্ডার গার্টেনগুলোই দেখিয়ে দিয়েছে। আজ সেই ধারণা থেকে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এক সময় কিন্ডার গার্টেনগুলো শিশুদেরকে খুব দ্রুত সময়ে স্কুলমুখী করতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা যায় এতে ঝড়েপড়া রোধ হয় অনেক খানি। সেই আলোকে আজ সরকারি প্রাথমিককেও প্রাক প্রাথমিক নামে একটি শ্রেণী চালু করেছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে সরকারি স্কুলে পড়ানোর আগ্রহ বেড়েছে। তাতে যে কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে তা কিন্তু নয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে শিক্ষা সচেতনতা বেড়েছে। তাছাড়া এখনো ব্যাপকভাবে কিন্ডার গার্টেন মুখী হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এর অন্যতম কারণ হলো ভালো লেখাপড়া এবং সুন্দর ব্যবস্থাপনা। অনেকে সরকারি স্কুল থাকার পরও টাকা খরচ করে পাশের একটি কিন্ডার গার্টেনকেই বেশী প্রাধান্য দেয়। এর কারণ হলো একটু ভালো লেখাপড়ার।

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা মাধ্যম নিয়ে সরকার এখনো বেশ উদাসীন কেন তা আমাদের বুঝে আসছে না। সরকারের উচিৎ শিক্ষাক্ষেত্রে কিন্ডার গার্টেনের ভূমিকাকে গুরুত্ব দেয়া।

আশার বাণী হলো সরকার ইতোমধ্যে কিন্ডার গার্টেনগুলোকে একটা নিয়মন নীতির আওতায় আনতে শুরু করেছে। তবে আমরা দেখেছি সরকার সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট সরকারের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে যেই পরিমান ভূমিকা রাখা দরকার, সেই হিসেবে তারা অনেকটাই উদাসীন। কিন্ডার গার্টেনগুলোকে তারা প্রাধান্য দেয়ার পরিবর্তে কিভাবে এদেরকে খাটো করা যায়, সেই ব্যাপারেই বেশী তৎপর বলে কিন্ডার গার্ডেন এসোসিয়েশন সূত্রে জানাযায়। আমরা তাদের এহেন মনোভাবের পরিবর্তন প্রত্যাশা করছি। সরকার তখনই সফল হবেন যথন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কিন্ডার গার্টেনগুলো সম্পর্কে সঠিক তথ্য উপস্থাপন বা তত্ত্বাবধান করবেন। কিন্তু বিদ্দেষপূর্ণ মনোভাব রেখে চললে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত কিংবা প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কিভাবে ?
তই সব মিলিয়ে বলতে হবে বর্তমানে কিন্ডার গার্টেনগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। করোনাকালীন সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিন্ডার গার্টেন শিক্ষকদেরকে কিছু সহযোগীতা করেছেন। এটা তাঁর উদারতা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরকে এব্যাপারে কোন তৎপরতা দেখাতে দেখা যায়নি।
আমরা মনেকরি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর দেশের কিন্ডার গার্টেনগুলোর সহযোগীতায় এগিয়ে আসা দরকার। সরকারকে সঠিক দিক নিদের্শনা দিয়ে দেশের কিন্ডার গার্টেনগুলোকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন এটাই প্রত্যাশা আমাদের।
রোনায় বিপর্যস্ত কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা ব্যবস্থা

২০২০ সালের মার্চ মাসে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দেশের সব সেক্টর শর্তসাপেক্ষে কিছু সময়ের জন্য খুললেও করোনার প্রকোপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারছে না সরকার। এভাবে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারনে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা কিন্ডার গার্টেনগুলোর ত্রাহি অবস্থা। অধিকাংশই এখন বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। ভাড়াটে বাসায় প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য কিন্ডার গার্টেন ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে ইতোমধ্যে বাসা ছেড়ে দিতে হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন বন্ধ থাকার কারণে অধিকাংশ শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রয়েছে সেই ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকেই। এতো দীর্ঘ সময় বেতন বন্ধ রেখে শিক্ষকদের ধরে রাখা কিছুতেই সম্ভব নয়।

দেশের কিন্ডার গার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দেশে শিক্ষা বিস্তারে বিশাল একটি জায়গা দখল করে থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ব্যাপারে এখনো কোন কার্যকর প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। কিন্ডার গার্টেনগুলোকে বিত্তশালী মনে করা হয়। অনেকেই মনে করেন বিত্তবান ও সচেতন মানুষের সন্তানরাই এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করেন। ভালো লেখাপড়া হয় বলেই হয়তো এমন ভাবনার জন্ম হয়েছে। আমরা মনে করি দেশের শিশুশিক্ষা ব্যাবস্থায় কিন্ডার গার্টেনগুলো পথ দেখানোর ভূমিকায় রয়েছে। শিশুদেরকে কিভাবে যত্মসহকারে শিক্ষা প্রদান করতে হয় তা কিন্ডার গার্টেনগুলোই দেখিয়ে দিয়েছে। আজ সেই ধারণা থেকে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এক সময় কিন্ডার গার্টেনগুলো শিশুদেরকে খুব দ্রুত সময়ে স্কুলমুখী করতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা যায় এতে ঝড়েপড়া রোধ হয় অনেক খানি। সেই আলোকে আজ সরকারি প্রাথমিককেও প্রাক প্রাথমিক নামে একটি শ্রেণী চালু করেছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে সরকারি স্কুলে পড়ানোর আগ্রহ বেড়েছে। তাতে যে কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে তা কিন্তু নয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে শিক্ষা সচেতনতা বেড়েছে। তাছাড়া এখনো ব্যাপকভাবে কিন্ডার গার্টেন মুখী হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এর অন্যতম কারণ হলো ভালো লেখাপড়া এবং সুন্দর ব্যবস্থাপনা। অনেকে সরকারি স্কুল থাকার পরও টাকা খরচ করে পাশের একটি কিন্ডার গার্টেনকেই বেশী প্রাধান্য দেয়। এর কারণ হলো একটু ভালো লেখাপড়ার।
এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা মাধ্যম নিয়ে সরকার এখনো বেশ উদাসীন কেন তা আমাদের বুঝে আসছে না। সরকারের উচিৎ শিক্ষাক্ষেত্রে কিন্ডার গার্টেনের ভূমিকাকে গুরুত্ব দেয়া।

আশার বাণী হলো সরকার ইতোমধ্যে কিন্ডার গার্টেনগুলোকে একটা নিয়মন নীতির আওতায় আনতে শুরু করেছে। তবে আমরা দেখেছি সরকার সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট সরকারের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে যেই পরিমান ভূমিকা রাখা দরকার, সেই হিসেবে তারা অনেকটাই উদাসীন। কিন্ডার গার্টেনগুলোকে তারা প্রাধান্য দেয়ার পরিবর্তে কিভাবে এদেরকে খাটো করা যায়, সেই ব্যাপারেই বেশী তৎপর বলে কিন্ডার গার্ডেন এসোসিয়েশন সূত্রে জানাযায়। আমরা তাদের এহেন মনোভাবের পরিবর্তন প্রত্যাশা করছি। সরকার তখনই সফল হবেন যথন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কিন্ডার গার্টেনগুলো সম্পর্কে সঠিক তথ্য উপস্থাপন বা তত্ত্বাবধান করবেন। কিন্তু বিদ্দেষপূর্ণ মনোভাব রেখে চললে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত কিংবা প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কিভাবে ?
তই সব মিলিয়ে বলতে হবে বর্তমানে কিন্ডার গার্টেনগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। করোনাকালীন সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিন্ডার গার্টেন শিক্ষকদেরকে কিছু সহযোগীতা করেছেন। এটা তাঁর উদারতা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরকে এব্যাপারে কোন তৎপরতা দেখাতে দেখা যায়নি।
আমরা মনেকরি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর দেশের কিন্ডার গার্টেনগুলোর সহযোগীতায় এগিয়ে আসা দরকার। সরকারকে সঠিক দিক নিদের্শনা দিয়ে দেশের কিন্ডার গার্টেনগুলোকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন এটাই প্রত্যাশা আমাদের।

বার্তাকক্ষ, ০৮ আগস্ট, ২০২১;

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *