চাঁদপুরে কুষ্ঠ রোগীরসংক্রমণ

চাঁদপুরে ৮টি উপজেলায় ৪৬জন কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই ঢাকাস্থ মহাখালী কুষ্ঠ হাসপাতালের আওতায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা সহজলভ্য করতে এবার জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু হতে যাচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে ওয়াইডব্লিউসিএ নামক এনজিও যৌথভাবে বিনামূল্যে এই চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে চাঁদপুরে কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরুর আশা করছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
ওয়াইডব্লিউসিএ’র বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিস সূূত্র জানায়, ২০১৬-২০২০ সালের মধ্যে চাঁদপুর জেলার ৪৬জন কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৭জন, হাজীগঞ্জে ৭জন, বৃহত্তর মতলবে (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা) ১৬জন, ফরিদগঞ্জে ৭জন, কচুয়ায় ৬জন, শাহরাস্তিতে ২জন ও হাইমচরে ১জন রোগী রয়েছেন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফ চৌধুরী বলেন, কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চামড়ায় লালচে/সাদা দাগ হয় ও বোধ থাকে না। হাত-পা বাঁকা হওয়ার পাশাপাশি নার্ভ ব্যাথাযুক্ত শক্ত হয়ে যায়। ক্লিনিক্যাল ডায়াগনসিসের মাধ্যমে চোখের দেখায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক খুব সহজে এই রোগী শনাক্ত করতে পারেন। জটিল ক্ষেত্রে কিছু টেস্টের মাধ্যমেও রোগী শনাক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, কুষ্ঠ রোগের জীবাণু দীর্ঘমেয়াদী মানুষের শরীরে থাকে। এই জীবাণুতে আক্রান্তদের শরীরের ১০-২০ বছর পরও উপসর্গ দেখা দেয়। অথচ চিকিৎসার মাধ্যমে সহজে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এতদিন আমাদের উপজেলায় এই রোগের চিকিৎসা ছিল না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উপজেলা পর্যায়ে কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছি আমরা। ওয়াইডব্লিউসিএ এ ক্ষেত্রে আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে।

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, এতদিন জেলা-উপজেলা কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত বা চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না। স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনার আলোকে ওয়াইডব্লিউসিএ এনজিও’র সহযোগিতায় চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতাল ও প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হচ্ছে। এছাড়া ওয়াইডব্লিউসিএ’র নিজস্ব কেন্দ্রও থাকবে। এতে জেলার মানুষ খুব সহজে বিনামূল্যে কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা পাবে। রোগী শনাক্ত করাও সহজ হবে। আক্রান্ত রোগীর বাড়ির সবাইকে পরীক্ষার আওতায় আনা হবে।
তিনি আরো জানান, কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা দীর্ঘ মেয়াদী। ৬ মাস থেকে ১২ মাস মেয়াদী চিকিৎসা দেওয়া হয়। পূর্ণ মেয়াদে ওষুধ না নিলে ড্রাগ রেজিস্টেন্স হয়। তখন আর সেই ওষুধে কাজ হয় না। যা রোগটিকে আরো জটিল ও অনিরামযোগ্য করে তোলে। এতদিন জেলা-উপজেলায় চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই ঢাকায় কয়েক মাসের চিকিৎসা নিয়ে একটু সুস্থ বোধ করলে চিকিৎসা বন্ধ করে দিতেন। চিকিৎসা পুরোপুরি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এখন থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে আক্রান্তদের পূর্ণ মেয়াদে চিকিৎসা গ্রহণ ও নিরাময় সহজতর হবে।

স্টাফ রিপোর্টার, ২৬ আগস্ট ২০২১;

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *