খাঁটি বাংলা ভূতের সিরিজ

শৈশবে দাদা-দাদি, নানা-নানি ও মা-খালাদের কাছে ভূতের গল্প শোনেননি, এমন লোক খুব একটা পাওয়া যাবে না। গা ছমছম করা সেই ভূতের গল্পগুলো বেশির ভাগ সময় মুখে মুখে রয়ে গেছে। কিছু কিছু স্থান পেয়েছে বইয়ের পাতায়। সেই সব গল্প এবার সময়ের প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে পর্দায় নিয়ে আসছে ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চরকি। সিরিজটি পরিচালনা করেছেন নুহাশ হুমায়ূন। চারটি ভূতের গল্প দিয়ে সাজানো হয়েছে অ্যান্থলজি ওয়েব সিরিজ ‘ষ’। চার পর্বের এই সিরিজের প্রথম পর্ব ‘এই বিল্ডিং এ মেয়ে নিষেধ’। গল্পটি আজ রাত ১০টা ৫৯ মিনিটে প্রচারিত হবে।

ঊনলৌকিক অ্যান্থলজি সিরিজের সাফল্যের পর চরকি নিয়ে আসছে ব্যতিক্রম এই অ্যান্থলজি সিরিজ। মুখে মুখে প্রচলিত বিভিন্ন কুসংস্কার, লোককথার প্রেক্ষাপটে বর্তমান আবহে তৈরি এই অ্যান্থলজি সিরিজে কী আছে? সেই প্রশ্ন ছিল পরিচালক নুহাশের কাছে। তিনি বলেন, ‘কিছু বাংলা ভূতের গল্প আছে আমাদের সবার শোনা। মাছ রাঁধলে পেতনি আসে, মিষ্টির দোকানে রাতে জিন আসে, নিশির ডাক শুনতে নেই, খোলা চুলে সন্ধ্যায় বের হতে নেই। এই সব ক্ল্যাসিক বাংলা ভূতের গল্প কিন্তু আমাদের ঐতিহ্য। এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের অলিখিত গল্প। এই গল্পগুলোকে এখন স্ক্রিনে আনার সময় এসেছে। এই গল্পগুলো উপলব্ধি করার সময় এসেছে। পেট কাটা “ষ”-তে সেই ক্ল্যাসিক গল্পগুলোকে নতুন করে উপস্থাপন করেছি।’

সম্প্রতি সিরিজটির ট্রেলার প্রকাশ পেয়েছে। ট্রেলারে ভেসে আছে, ফল কিনলে মাছে আসে, মাছ কিনলে…পর্দায় দৃশ্যমান হয় এক ‘পেতনি’। আলো-অন্ধকার একটি কক্ষ। একা যুবকের হাতে বড় একটি কাতলা মাছ। বাসায় সেই মাছ রাঁধতে গিয়ে আবিষ্কার করে এই রহস্যময়ী আগন্তুককে। কে এই নারী? হঠাৎ তার মনে পড়ে, এই বিল্ডিংয়ে তো মেয়ে মানুষের প্রবেশ নিষেধ। তবে কোথা থেকে এল সেই মেয়ে। এমন একটি গল্প নিয়েই এগিয়েছে ‘এই বিল্ডিং এ মেয়ে নিষেধ’-এর সাসপেন্স আর রহস্যেঘেরা প্রথম পর্বের গল্প। চার পর্বের তারকাবহুল এ সিরিজের আজকের পর্বে মূল ভূমিকায় দেখা যাবে সোহেল মণ্ডল ও শিরিন আক্তার শিলাকে।

 খাঁটি-বাংলা-ভূতের-সিরিজ

অভিনয়ে নিয়মিত নন অভিনেত্রী ও মডেল শিরিন আক্তার শিলা। তবে ভালো গল্প দিয়ে নীরবতা ভেঙে নিয়মিত হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। শিলা বলেন, ‘আমি মনে করতাম, আমাকে দিয়ে মনে হয় অভিনয় সম্ভব হবে না। আমার এই ভাবনা দূর করার জন্যই ‘এই বিল্ডিং এ মেয়ে নিষেধ’-এ অভিনয় করেছি।’ প্রতিদিন চার ঘণ্টা ধরে মেকআপ নিতে হয়েছে এই অভিনেত্রীকে। পুরো গল্পে তাঁর কোনো সংলাপ নেই। তারপরও মূল গল্পে তাঁকে ঘিরেই ঘটতে থাকে অদ্ভুত সব ঘটনা।

ভৌতিক গল্পে প্রথমবার দর্শকদের সামনে আসছেন অভিনেতা সোহেল মণ্ডল। চরিত্রটি শোনার পর থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হরর কনটেন্টে কাজ করতে হলে পুরো টিম, মানে কাস্ট অ্যান্ড ক্রু, সবাইকেই পরিশ্রম করতে হয়। আর ভৌতিক কনটেন্ট প্রেজেন্টের ক্ষেত্রে মেকআপ, গেটআপ নেওয়াটাও বেশ কষ্টসাধ্য। আর সে জায়গা থেকে নুহাশ হুমায়ূন খুবই সহযোগিতা করেছেন। তাঁর ওয়ে অব থিঙ্কিং খুবই ভালো। ভালো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কাজটি শেষ করেছি। কাজটি দর্শকদের ভালো লাগবে।’

১২ মাসে ১২টি ওয়েব সিরিজ ও ১২টি ওয়েব ফিল্ম দিয়ে সাজানো হয়েছে চরকির বিশেষ সব আয়োজন। এর বাইরেও চরকিতে প্রতি সপ্তাহে নতুন আকর্ষণীয় কনটেন্ট ও বিশেষ দিবসের কনটেন্ট দিয়ে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠছে। অল্প সময়েই এটি দর্শকদের কাছে বাংলা ভাষার বিনোদনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম। চরকির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘চরকি সব সময় চেষ্টা করে দর্শকদের মৌলিক ও ভিন্ন কনটেন্ট উপহার দেওয়ার। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ভৌতিক বা হরর কনটেন্ট নিয়ে আসছে চরকি। এর আগে চরকির পর্দায় এমন গল্প দর্শক দেখেননি। আশা করছি সিরিজ ষ দেখে দর্শক হতাশ হবেন না।’

দারাজ নিবেদিত ওয়েব সিরিজটি পরের গল্পগুলোতে রয়েছে অভিনয়শিল্পীর চমক। অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন, চঞ্চল চৌধুরী, কাজী নওশাবা আহমেদ, প্রিতম হাসান, নভেরা রহমান, মাসুদা খান, মোরশেদ মিশু প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.