খাদ্যদ্রব্যের অবৈধ মজুদ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আইন

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল খাদ্যদ্রব্যের অবৈধ মজুদ ও অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিযোগ্য আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া একটি আশা জাগানিয়া ঘটনা। এ-সংক্রান্ত একটি খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। বিদ্যমান ‘দ্য ফুড গ্রেইন সাপ্লাই প্রিভেনশন অব প্রিজুডিশিয়াল অ্যাকটিভিটি অর্ডিন্যান্স-১৯৭৯’ এবং ‘ফুড স্পেশাল কোর্ট অ্যাক্ট-১৯৫৬’ দুটিকে একসঙ্গে করে নতুন আইন হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হবে না, তবে বাজারে মান যাতে নিশ্চিত থাকে, কেউ যাতে অনৈতিক কাজ করতে না পারে, ক্রেতারা যাতে না ঠকে তা নিশ্চিত করা হবে। খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন, মজুদ, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে কোনো অপরাধ যাতে না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য এ আইন। খসড়া আইনে কঠোর শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। কেউ যদি এ আইনের অধীনে অপরাধ করে তবে তাকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে। নিরাপদ খাদ্য আদালতই এগুলোর দেখভাল করবে, আলাদা কোনো আদালত লাগবে না। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টেও বিচার করতে পারবে, জুরিসডিকশন ওই পর্যন্ত শাস্তি দিতে পারবে। খাদ্যপণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি একশ্রেণির অসৎ ব্যবসায়ীর মজ্জাগত অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের মুনাফাখোরি মনোভাব দমনে প্রস্তাবিত আইনটি ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। প্রস্তাবিত আইনে খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে অতিরিক্ত ক্ষতিকর কিছু মিশিয়ে উৎপাদন করা, নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বেশি মজুদ এবং সরকারি গুদাম থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির খাদ্য নিয়ে অপব্যবহার, মজুদ বা ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিবেচিত হবে। আইনটি জনস্বার্থের উদ্দেশ্যে প্রণীত হলেও এর সুফল নির্ভর করবে যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর। কারণ মজুদবিরোধী আইন দেশে বর্তমানেও চালু আছে, কিন্তু কাজির গরু গোয়ালের বদলে কেতাবে থাকায় তার সুফল অনুভূত হচ্ছে না। সে বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.