খামারিদের স্বার্থ রক্ষা করা দরকার

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল বর্তমানে ব্রয়লার উৎপাদনে লাভের মুখ দেখা না গেলেও ডিমে কিছু লাভ হচ্ছে। এদিকে, সব চেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো, সহজলভ্য প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস ব্রয়লার ও ডিমের উৎপাদন খরচ বাড়লেও সেই তুলনায় গত কয়েক বছরে খামারি পর্যায়ে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বাড়েনি। অথচ ভোক্তা পর্যায়ে ডিমের দাম আকাশচুম্বি। চাঁদপুরের বাজারগুলোকে ডিমের দাম কিছুতেই কমছে না। অথচ খামারিরা পাচ্ছে সঠিক দাম। তাই দিন দিন ছোট ও মাঝারি খামারের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ পোল্ট্রি খামার দ্বারা দারিদ্র দূরীকরণের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। খামারের খরচ বৃদ্ধি অনুযায়ী ডিম এবং মাংসের দাম বৃদ্ধি না পাওয়ায় পুঁজি উঠাতে না পেরে খামারিরা খামার বন্ধ করে দিচ্ছে।

অন্যদিকে লোকসান দিতে দিতে ফিডমিল গুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, ছোট ও মাঝারি ফিড মিলগুলো বন্ধ হওয়ার শঙ্কায় আছে। বর্তমান এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে পোল্ট্রি শিল্পের ভবিষ্যৎ কি হবে তা নিয়ে পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন। এমতাবস্থায়, উৎপাদনকারীকে (হ্যাচারি, ফিডমিল, খামারি) বাঁচিয়ে রাখতে হলে উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিক্রয় মূল্য (বাচ্চা, ফিড, ব্রয়লার, ডিম) নির্ধারণও নিশ্চিত করতে হবে। কেবলমাত্র তাতেই পোল্ট্রি ও পোল্ট্রিশিল্প বেঁচে যাবে এবং দেশে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং সকলের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর প্রাণিজ আমিষের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য আশু-পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যাথায় চাঁদপুরের খামারিদের রক্ষা করা যাবে বলে মনে হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.