ক্ষতিকর অশ্লিল গেমস ও অ্যাপস বন্ধ করা সময়ের দাবি

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের ২৬ মার্চ লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে পৃথিবীর একটি দুষ্ট চক্র অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার জন্য অনলাইনকে ব্যবহার করে আসছে। জাতিকে মেধাশূণ্য করতে চক্রটি নতুন প্রজন্মকে মোবাইলে আটকে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এটি অবশ্যই মারাত্মক রাষ্ট্রদ্রোহি কর্মকান্ড হলেও এসবের বিরুদ্ধে সরকার কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। সম্প্রতি একজন সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি এসব অনলাইন সন্ত্রাস বন্ধে হাইকোর্টের স্মরণাপন্ন হন। এতে হাইকোর্ট বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে এসব অনলাইন সন্ত্রাস বন্ধে সরকারকে নির্দেশনা দেন। সেই আলোকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

বহুল আলোচিত অনলাইন গেমস্ পাবজি, ফ্রি ফায়ারের মতো ক্ষতিকর অনলাইন গেমস দেশে বন্ধ করতে নির্দেশনা দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। এছাড়া টিকটক, বিগো লাইভ ও লাইকির মত অ্যাপসগুলো বন্ধ ও বাংলাদেশ থেকে লিঙ্ক সরিয়ে নেয়ার জন্যও চিঠি দেয়া হবে বলা হয়েছে। এটি সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগ এতে কোন সন্দেহ নেই।

ইতোমধ্যে এসব অনলাইন সন্ত্রাস বন্ধে ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকম (ডট)-কে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া পাবজি, ফ্রি ফায়ার বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু টিকটক ও লাইকিসহ অন্যান্য ক্ষতিকর অ্যাপসগুলো বন্ধ করলেও ভিপিএন দিয়ে চালানো যায় বলে এসব এখন বন্ধ করা যাচ্ছে না। তবে এই সব অ্যাপসের কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে।

এর আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি, ফ্রি ফায়ার ও লাইকিসহ অনলাইনভিত্তিক ক্ষতিকর অ্যাপস বন্ধ বা অপসারণ সম্পর্কে হাইকোর্টের নির্দেশের বিষয়ে বলেছিলেন, ‘আগে তো হাইকোর্টের নির্দেশনা পাই, পত্রিকার নির্দেশনা নিয়ে তো আমরা বন্ধ করতে পারব না। ‘নির্দেশ পেলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কাজ করবে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এ দেশে তো কেউ আর চলতে পারবে না। আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নাই। আদালতের নির্দেশ পেলে বিটিআরসি পালন করবে।

এগুলো আসলেই বন্ধ করা যায় কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘এই জায়গাগুলো তো আবার আদালত বোঝার কথা না। আমরা বন্ধ করে দিতে পারব। কিন্তু যারা ভিপিএন দিয়ে ব্যবহার করতে চায়, তারা ব্যবহার করতে পারবে। সেটা বন্ধ করার সক্ষমতা কারো নাই।
আমরা দেখতে পাচ্ছি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর কথার মধ্যে কিছুটা অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে। তবে আমরা মনে করি সরকার চাইলে বহির্বিশে^র সাথে কমিউনিকেশন বাড়িয়ে এগুলোর দ্রুত সমাধান সম্ভব।

বিশ্বের এমন অনেক দেশ রয়েছে যারা নিজ নিজ দেশে ইন্টারনেটের পুরোপুরো নিয়ন্ত্রণ করছে। জাতিকে রক্ষায় এমন অসহায়ত্বের কথা ঐসব দেশের কর্তৃপক্ষ কখনোই দেখায়নি। বরং তাঁরা ইন্টারনেটকে নিজস্ব প্রয়োজন ছাড়া পরিচালিত হতে দেয় না। আমরা দেখেছি অনেক দেশ পেইজবুকসহ অশ্লীল অসংখ্য সামাজিক সাইটগুলোকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে।

এর আগে অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি, ফ্রি ফায়ার গেম ও লাইকিসহ এ ধরনের অনলাইনভিত্তিক ক্ষতিকর সব ধরনের অ্যাপ অপসারণ এবং লিংক অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আমরা এমনই এক জাতি যাদেরকে অশ্লিলতা বন্ধে হাইকোর্টের কাছে নালিশ করেও অসহায় হয়ে থাকতে হচ্ছে তা আদৌ সম্ভব কি সম্ভব নয় ?

আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর অসহায়ত্ব বুঝতে পারছি। তবে এসব অশ্লিল সাইটগুলোর লিংক বাংলাদেশ থেকে ডিস্কানেক্ট করতে আরো উন্নত প্রযুক্তির আশ্রয় নেয়া যেতে পারে। এব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলে হয়তো সম্ভব হতে পারে। এসব অশ্লিল সাইটগুলো জাতিকে কিভাবে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে লেখাপড়ায় অমনোযোগী করা, মারমুখি আচরণ, বড়দের অসম্মান করা, পরস্পরের প্রতি সহানুভূতির মনোভাব হারানো, হিংস্র আচরন করা, পিতা-মাতার অবাধ্য, দায়িত্ব জ্ঞান শূণ্য হওয়া তথা দেশ পরিচালনায় দক্ষ নাগরিক হিসেবে নিজেকে যেভাবে গড়ে তোলা দরকার তা থেকে দূরে সরে যাওয়াই যেন বর্তমান তরুন প্রজন্মের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর অন্যতম কারণই হলো মোবাইল কেন্দ্রিক অনলাইন অশ্লিলতায় নিজেকে ডুবিয়ে দেয়া। শুধু তাই নয় পাবজি নামের গেমসে এতোদিন থ্রিলার কিসিমের কিছু থাকলেও এখন দেখা যাচ্ছে উলঙ্গ হয়ে শুধু হানাহানি আর নির্দয় খুনা-খুনি শিক্ষা দিচ্ছে। এসব গেমসে খুনখারাবি করে আনন্দ উল্লাস করা শিক্ষা দেয়। এতে ভবিষ্যত প্রজন্মের ভাগ্য কোন দিকে যাচ্ছে তা বলাই বাহল্য।

অতএব, এসব অনৈতিক সাইটগুলো এখনই বন্ধ করতে না পারলে আমাদের কপালে অনেক দূর্ভোগ রয়েছে যে তাতে আর কোন সন্দেহ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *