গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তব সম্মত নয়

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল :
আগামী বছরের শুরুতে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আর্থিক মুদ্রা ও মুদ্রাসংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সভায় এ প্রস্তাব করা হয়।
কাউন্সিলের সদস্যরা বলেছেন, ভর্তুকি সামাল দিতেই গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সভায় বলা হয়, এ দুটি পণ্যের মূল্য সমন্বয় করা না হলে চলতি অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ ৭০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, অর্থ সংকটের কারণে এই বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি বহন করা সম্ভব নয়।
ফলে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের কাছে বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। ওই সভায় সুদের ব্যয় ও ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধিকে অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে উল্লেখ করা হয়।
পাশাপাশি আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় মূল্যস্ফীতি নিয়ে। তবে রাজস্ব আহরণ ও এডিপি বাস্তবায়ন হার ভালো থাকায় জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ অর্জন হবে-এমনটি প্রত্যাশা করা হয়।
এটা ঠিক, বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে দেশে জ্বালানি তেল, সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ভর্তুকি বাড়বে। এই ভর্তুকির পরিমাণ ৭০ হাজার কোটি টাকা ধরা হচ্ছে। ওদিকে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অর্থনীতির ওপর। সবটা মিলিয়ে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা হয়তো এক দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক।
কিন্তু এই বৃদ্ধি বিশেষত সাধারণ মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলবে, সেটাও বিবেচনায় রাখা দরকার। উচ্চবিত্ত কিংবা ধনিক শ্রেণির জীবনমানে গ্যাস-বিদ্যুতের এই বৃদ্ধি তেমন প্রভাব ফেলবে না সত্য; কিন্তু মধ্যবিত্ত, নিুবিত্ত, সীমিত ও স্বল্প আয়ের মানুষ-এই বৃদ্ধিতে যে দুর্ভোগের মধ্যে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। এমনিতেই কিছুদিন আগে ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে নতুন করে এক দফা দুর্ভোগের শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষ।
ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে পরিবহণ ভাড়া বেড়েছে, পরিবহণ ভাড়া বাড়ার প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। চালসহ নিত্যপণ্যের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। এ অবস্থায় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো মানে তা সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনে আরেক বড় ধাক্কা। বলা নিষ্প্রয়োজন, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়লে শুধু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই বাড়বে না, দেশের শিল্প-কারখানা তথা শিল্পক্ষেত্রেও পড়বে এর নেতিবাচক প্রভাব।
গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি আগামী বছরের শুরুতে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। কী হারে এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটবে, তা এখনো জানা যায়নি।
আমরা বলব, এ প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। একটা বিষয় লক্ষণীয়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও আগামীতে দেশের ভেতর এই মূল্য কমানোর কোনো প্রস্তাব করা হয়নি। জ্বালানি তেলের দাম কমানোর প্রস্তাব করা যৌক্তিক ছিল বলে মনে করি আমরা।
গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে আক্ষরিক অর্থেই সাধারণ মানুষের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়বে। সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছে আমাদের।
একদিকে করোনাকাল, অন্যদিকে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহণ ভাড়া বৃদ্ধি ইত্যাদিতে নাকাল হয়ে আছে মানুষের জীবন। এ সময় সরকারকে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব থেকে সরে আসার অনুরোধ জানাব আমরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *