চাঁদপুরের পথে-ঘাটে বিক্রি হচ্ছে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ তালশাঁস

ফরিদুল ইসলাম গ্রীষ্মের হাটবাজারের ফুটপাতে তালশাঁস বিক্রি করতে দেখা যায়। এই তালশাঁস চাঁদপুরের মানুষের কাছে অনেক জনপ্রিয়। পাকা তালের পাশাপাশি তালশাঁস তথা তালের লেপার চাহিদা অনেক। বিশেষ করে শিশুরা তালের শাঁস খেতে অনেক পছন্দ করে। বড়োদের কাছেও সমান জনপ্রিয় এই তালের শাঁস। তবে কালের আবর্তে তাল গাছের পরিমান কমে আসায় অদুর ভবিষ্যতে তালশাঁসের কতটা দেখা মিলবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
চাঁদপুর জেলার প্রায় সকল এলাকাতেই কমবেশি তালগাছের দেখা মেলে। গ্রীষ্মের এই কাঠপোড়া সময়ে সব তালগাছেই তালে ভরে উঠে। কচি ডাবের মতো কচি কচি তাল দেখা যায় গাছে গাছে।
গরমে যখন অতিষ্ঠ তখন তালের শাঁস যেন একটু স্বস্থির পরশ এনে দেয় হাঁপিয়ে ওঠা মানুষের মাঝে। তাই অনেকেই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে তালের শাঁস কিনে খান। অনেকে বন্ধুবান্ধব মিলে আনন্দ করে খান এসব তালের শাঁস।
এদিকে তাল গাছ শুধু আমাদেরকে তাল কিংবা তালশাঁসই দিচ্ছে না বরং তালগাছ আমাদেরকে বজ্রপাত থেকেও রক্ষা করে চলেছে জন্মের পর থেকেই। সেই হিসেবে আমাদের দেশে তালগাছের তেমন কোন যত্ন নেয়া হয় না। তবুও তালগাছ টিকে থাকে যুগের পর যুগ।
গত কয়েকদিন থেকে চাঁদপুর শহরের রাস্তার বাঁকে বাঁকে চোখে পড়ে তাল শাঁসের অস্থায়ী দোকান। তাল থেকে শাঁস কেটে বিক্রি করা হয় এসব ভ্রাম্যমাণ দোকানে। প্রচণ্ড গরমে তালশাঁস আপনাকে খানিকটা স্বস্তি দিতে পারে। এ কারণে অনেকেই তালশাঁস কিনে খান। এতে যেমন রসনা মেটে তেমনি শরীরে পানির অভাবও পূরণ হয়। এতে রয়েছে নানাবিধ গুণ।
‘পুষ্টিগুণের দিক থেকে তাল শাঁসের জুড়ি নেই’ উল্লেখ করে জনৈক পুষ্টিবিদ বলেন, ‘রসালো এই ফল খেতে মিস্টি, তাই এর ক্যালরির পরিমাণও বেশি। ক্যালোরির বেশির ভাগই আমরা পাই শর্করা, আমিষ ও বিভিন্ন রকম শরীরের অতিপ্রয়োজনীয় ভিটামিনস ও মিনারেলস থেকে। তালের শাঁসে জলীয় অংশ অনেক বেশি থাকায় গরমে শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয় যা শরীর সতেজ রাখে এবং ক্লান্তি দূর করতে পারে।’
ওই পুষ্টিবিদ আরও বলেন, ‘তালশাঁসে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে যা হাড়ের ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে এবং হাড় মজবুত রাখে। এ ছাড়াও ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, খনিজ লবণের মধ্যে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১০০ গ্রাম তালের শাঁস-এ ক্যালরি পাই আমরা ৮৭ ক্যালরি। জলীয় অংশ প্রায় ৮৮ গ্রাম, আমিষ ৭-৮ গ্রাম, শর্করা ১০-১১ গ্রাম, ফ্যাট ১ গ্রাম ও খাদ্য আশ রয়েছে ১ গ্রামের মতো।’
তাই অতিব গুরুত্বপূর্ণ এই তালগাছ রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে প্রত্যেই উদ্যোগী হওয়া অপরিহার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *