চাঁদপুরে কোভিড টিকা কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবীদের বিরুদ্ধে হয়রানীর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

চাঁদপুর টিকা কেন্দ্রে দায়িত্বরত যুব রেডক্রিসেন্টের অরাজকতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ দিনদিন বেড়েই চলছে। কেন্দ্রগুলোতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি না থাকায় অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়েই চলছে টিকা প্রদান কার্যক্রম।
কোভিড-১৯ থেকে রক্ষা পেতে টিকা নিতে আসা বৃদ্ধ, পঙ্গু, (যারা হাটাচলা করতে অনেকটাই কষ্ট হয়), সাংবাদিক এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদেরও উপর অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে যুব রেডক্রিসেন্টের ছেলেদের দেখা যায়। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কেন্দ্রের কোথাও স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে দেখা যায়নি। পাওয়া যায়নি রেডক্রিসেন্টের ইউনিট অফিসার ও যুব প্রধানকে।
আজ সরেজমিনে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের টিকা দান কেন্দ্রে গেলে দেখা যায়, আজ টিকা কেন্দ্রে বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষদের টিকা নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৮০ বছর ছুঁই ছুঁই রহিম মিয়া ও প্রায় ৭০ বছরের লাঠি ভর করা আরত আলী দুই বৃদ্ধকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বেশ কিছুক্ষণ পর তারা লাইন থেকে বের হয়ে এসে টিকা কেন্দ্রের গেইটের কাছে এসে দায়িত¦রত দুই যুব রেডক্রিসেন্টের সদস্যকে অনুরোধ করে, তারা আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না, তাদের যেন দ্রুত টিকা দেয়ার সুযোগ করে দেয়। বিষয়টি গেটে থাকা দুই যুব রেডক্রিসেন্ট সদস্য কোনো কর্ণপাত না করায় বৃদ্ধগণ পুনরায় বললে তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এছাড়া দীর্ঘ লাইনে অনেক পঙ্গু ব্যক্তিদেরকেরও দেখা যায় টিকা নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।
এ বিষয়ে ঐ দুই বৃদ্ধার সাথে কথা বললে তারা জানায়, বয়স হয়েছে তাই কোথাও দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। আজ যারা আমাদের সাথে এরূপ আচরণ করেছে, ওরা (যুব রেডক্রিসেন্ট সদস্য) আমার নাতির সমান। ওদের আমাদের প্রতি এরূপ আচরণ করা ঠিক হয়নি। এখানে লাল জামা পড়া (যুব রেডক্রিসেন্টের অ্যাফলোন) প্রতিটা ছেলেই আজকে সবার সাথে খুব খারাপ আচরণ করছে। সরকারের উচিত ভদ্র ফেমেলির সন্তানদেরকে এই দায়িত্ব দেয়া উচিত।
এর কিছুক্ষণ পরই চাঁদপুরের একজন সিনিয়র সাংবাদিক তাঁর ছোট ভাতিজাকে নিয়ে এসেছেন টিকা দেয়ার জন্য। সিনিয়র সাংবাদিক গেটে তার পরিচয় দিতে গেলেই তাঁর সাথেই অসৌজন্যমূলক খারাপ আচরণ করা শুরু করে যুব রেডক্রিসেন্টের সদস্যরা। তার কার্ড দেখতে চায় এবং সিভিল সার্জনের অফিস হতে পারমিশান পেপার নিয়ে আসার জন্য বলে। সিনিয়র সাংবাদিক আজ তাদের এরূপ আচরণের কথা জিজ্ঞাসা করলেই তাকে যুব রেডক্রিসেন্টের সদস্যরা মারধর করবে, এরূপ আচরণ করা শুরু করে।
টিকা কেন্দ্রে আজ একজন মুক্তিযোদ্ধাকেও টিকা দিতে আসতে দেখা যায়। তিনি কেন্দ্রের গেইটে নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, আমার মেয়েকে নিয়ে আজ জরুরী ১২টার দিকে ঢাকায় যেতে হবে। আসতে অনেকদিন দেরি হবে। আমাকে যদি একটু সুযোগ করে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে কৃতজ্ঞ থাকবো। পরিপ্রেক্ষিতে যুব রেডক্রিসেন্টের সদস্যদেরও তার প্রতি খারাপ আচরণ করা শুরু করে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য চাঁদপুর টিকা কেন্দ্রের পরিচিত মুখ, স্বাস্থ্য বিভাগের সবুজকে (মুঠোফোন : ০১৭১২৫৮৭০৮০) ফোন করা হলে, তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
যুব রেডক্রিসেন্টের অভিভাবক ইউনিট অফিসারের সাথে যুব রেডক্রিসেন্টের সদস্যদের এরূপ আচরণের কথা বলার জন্য প্রেসক্লাব নিকট রেডক্রিসেন্টে অফিসে গেলে অফিস বন্ধ পাওয়া যায়। রেডক্রিসেন্ট অফিসের কাছে থাকা এক দোকানীকে রেডক্রিসেন্ট অফিস কখন খুলবে, জানতে চাইলে ঐ দোকানী বলেন, মাসের প্রায় ৩০দিনই এই অফিস বন্ধ থাকে। এছাড়া অফিসের পিয়ন প্রতিদিন সকালে অফিসের সামনে এসে ঘুড়ে যায় এবং দেখে যায় অফিস খুলছে কী না।
টিকা দিতে আসা বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে কথা বললে তারা জানায়, চাঁদপুরের প্রায় প্রতিটি টিকা কেন্দ্রেই রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের অব্যবস্থাপনা। বলা যায় টিকা দেওয়া কেন্দ্রগুলোতে এক প্রকার জগাখিচুরি পাকিয়ে ফেলছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। কোনো নজরদারি নেই স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের।
এদিকে শিক্ষার্থী পাশাপাশি টিকা নিতে আসা ব্যক্তিদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড় করিয়ে গাদাগাদি করে দেওয়া হচ্ছে টিকা। ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন জেলার হাজার হাজার শিক্ষার্থী। বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা গায়ে মেখে শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে টনক নড়ছে না জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের।
পুরো বিষয়টি নিয়ে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা: মোঃ শাহাদাত হোসেনের সাথে কথা বলতে তাঁর অফিসে গেলে তিনি সিনিয়র ডাক্তারদের সাথে জরুরী সভায় আছেন বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.