চাঁদপুরে গ্যারেজের বিষাক্ত বর্জে ভেসে উঠছে পুকুরের মাছ

স্টাফ রিপোর্টার চাঁদপুর মৎস্য ইনস্টিটিউটের সামনেই গাড়ি ধোয়ার একটি গ্যারেজের বিষাক্ত পানিতে মরে ভেসে উঠছে পাশ্ববর্তী পুকুরের জিয়ল মাছ। গত দেড় মাস ধরে ওই পুকুরের মরা মাছ ভেসে উঠে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মাছচাষী।
বিষাক্ত পানিতে পুকুরে মাছ মরে ভেসে উঠার এমন ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর শহরতলীর ওয়্যারলেস মৎস ইনস্টিউটের দক্ষিন পাশে।
এ বিষয়ে পুকুরের মালিক অভিযোগ করলেও মোটর গ্যারেজ কর্তৃপক্ষ কোনরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ করছে ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় চাঁদপুর শহরের মৎস্য ইনস্টিউটের বিপরীত পাশে গড়ে উঠেছে চাঁদপুর ডিজিটাল কার ফোম ওয়াশ সেন্টার নামে একটি গাড়ি ধোয়ার গ্যারেজ। সেখানে গাড়ি ধোঁয়ার কেমিক্যালযুক্ত বিষাক্ত পানি ফেলা হচ্ছে পাশের একটি মাছ চাষকৃত পুকুরে। ফলে বিষাক্ত কেমিক্যাল যুক্ত পানির কারণে পুকুরে চাষ করা তেলাপিয়া, মৃগেল, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির জিওল মাছ প্রতিনিয়ত মরে ভেসে উঠছে। এসব মরা মাছের দুর্গন্ধে ওই পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারীরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। একই সাথে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুকুরের মালিক পক্ষ।
এ বিষয়ে পুকুরের মালিক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা রোকসানা চৌধুরী এবং তার স্বামী অ্যাড. এম এম তারিকুল ইসলাম জানান, আমরা ৫০ শতক জমির এই পুকুরে ৩০ বছর ধরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছি। বর্তমানে পুকুরে প্রায় ৩ লাখ টাকার মাছ রয়েছে। এদিকে গত দুইমাস আগে পুকুরের পাশে চাঁদপুর ডিজিটাল কার ফোম ওয়াশ নামে অপরিকল্পিতভাবে একটি গ্যারেজ গড়ে উঠে। ওই গ্যারেজের গাড়ি ধোয়ার কেমিক্যালযুক্ত বিষাক্ত পানি নিষ্কাশনের পাইপ বসানো হয়েছে আমাদের পুকুরে। যার ফলে সেই বিষাক্ত বর্জে আমাদের পুকুরের মাছ মরে ভেসে উঠছে।
ভুক্তভোগীরা আরো জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে। পুকুরে জিয়ানো সব মাছ ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে গ্যারেজ মালিককে একাধিকবার অবহিত করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তর এবং প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি তারা যাতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে চাঁদপুর ডিজিটাল কার ফোম ওয়াশ সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানান, আমরা পুকুর মালিকের কাছে ১৫ দিনের সময় চেয়েছি। এই ১৫ দিনের মধ্যে আমরা আমাদের গাড়ি ধোয়ার পানি নিষ্কাশনের পাইপ অন্যত্র সরিয়ে নিবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.