চাঁদপুরে চোখের ডাক্তার মুকিত শফিউল আলমের বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ

চাঁদপুরে চোখের ডাক্তার মুকিত শফিউল আলমের বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ
চাঁদপুরে চোখের ডাক্তার মুকিত শফিউল আলমের বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার-চাঁদপুরের চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মুকিত শফিউল আলমের বিরুদ্ধে এক কলেজছাত্রীর সাথে শ্লীলতাহানির করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

১৪ মার্চ রোববার দুপুরে চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার এলাকার নিজস্ব বাস ভবনের নিচে তার চেম্বার এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে কয়েক ঘন্টা যাবৎ ডাক্তার এবং রোগী ও রোগীর লোকজনের সাথে অনেক হট্টগোল হতে দেখা যায়। ঘটনার পর পর সেখানে প্রত্যক্ষদর্শীরা ভিড় জমান।

জানা যায়,সকালে ফরিদগঞ্জে থেকে এইচএসসি পড়ুয়া এক কলেজছাত্রী তার মাকে নিয়ে মুকিত শফিউল আলমের কাছে তার চোখের সমস্যা জনিত কারণে ডাক্তার দেখাতে যান। এরপর ওই চিকিৎসক তাকে বেশ কয়েক ঘণ্টা বসিয়ে রেখে তার চোখে ড্রপ দিয়ে কক্ষে বসিয়ে রাখেন। এর কিছুক্ষণ পর ওই চিকিৎসক তার সাথে অশ্লীলতা শুরু করেন।

ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী কান্নায় জড়িত কণ্ঠে জানায়, আমি আমার চোখের সমস্যার কারণে আমার মাকে নিয়ে সকালে ডাক্তারের কাছে আসি। এরপর তিনি আমাকে প্রায় দুই ঘন্টা যাবৎ বসিয়ে রাখেন। একসময় তিনি আমাকে চোখের ড্রপ দিয়ে রুমে হাঁটাচলা করিয়ে রুমের দরজা বন্ধ করে আমাকে দেখবে বলে তার পাশে নিয়ে বসান।

তখন তিনি আমাকে চিকিৎসাসেবা দেয়ার নামে আমার হাত নিয়ে তার রানে রাখেন এবং আমার মুখ টেনে নিয়ে আমার ঠোঁট দুটি তার গালে স্পর্শ করেন। আমি নিরুপায় হয়ে বেরিয়ে যেতে চাইলে তিনি আমাকে আবার হাত টেনে পুনরায় তার রুমে বসানোর চেষ্টা করলে আমি চিৎকার দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে দৌড়ে বাহিরে পালানোর চেষ্টা করি। তখন আমার মা সহ আশে পাশের লোকজন বিষয়টি জানতে পারেন।

ওই কলেজ ছাত্রীর মা জানান, ওই চক্ষু চিকিৎসক আমার মেয়ের চোখের সমস্যা দেখবে বলে বেশ কয়েক ঘন্টা আমাদেরকে বসিয়ে রেখেছেন।তিনি আমার মেয়ের চোখের ড্রপ দিয়ে দরজা আটকে আমার মেয়ের চিকিৎসা সেবা করার নামে তিনি এই অপকর্ম করেছেন। এর আগে তিনি আমাকেও চোখের সমস্যা আছে বলে আমার চোখে ড্রপ দিয়েছেন। আমি বাইরে আমার মেয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলাম হঠাৎ আমার মেয়ের চিৎকার শুনে এসে জানতে পারি তিনি তার সাথে এসব অশ্লীল আচরণ করেছেন।

ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কয়েকজন দালাল মুকিতের পক্ষ নিয়ে এসে ঘটনাটি আর কাউকে না জানানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। সোমবার বিকেল চারটায় এই ঘটনাটি সমাধানের লক্ষ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশী বৈঠক করবে বলে আশ্বস্ত করেন।

এর পূর্বেও এই বিতর্কিত ডাক্তার মুকিত শফিউল আলমের বিরুদ্ধে অনেক সুন্দরী যুবতী ও গৃহবধূকে শীলতা হানি অভিযোগ রয়েছে। সেই ঘটনাগুলো টাকার বিনিময়ে তিনি ধামাচাপা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে অনেকে জানিয়েছেন যে ডাক্তার চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নাম করে নারীদের পাদে পালিয়ে এসব কাজ করে বেরায় তাদের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় এনে সাস্থি হওয়া দরকার বলে মনে করে এলাকাবাসী তারা টাকার বিনিময়ে পার পেয়ে যায়। এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সু-দৃষ্টি দিবেন এবং আইনি ব্যাবস্থা নিবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.