চাঁদপুরে টিকটকে বাড়ছে কিশোর অপরাধ!

টিকটক এবং লাইকির মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম নানাভাবে অপকর্মের দিকে ধাবিত হচ্ছে। স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ তরুণ শিক্ষার্থীরা স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট আসক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টিকটক-লাইকি।

টিকটক এবং লাইকিতে প্রশংসা কুড়াতে তারা নির্মাণ করছে ঝুঁকিপূর্ণ ভিডিও। ভিডিও নির্মাণে তারা চলন্ত ও ব্যস্ততম সড়ক ছাড়া শহরের পর্যটন কেন্দ্র গিয়ে অতি উৎসাহী ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি টিকটিক অপু কথিত ভিডিওর শুটিং করতে গিয়ে যা ঘটিয়েছে তা সম্পর্কে আমরা সাধারণ মানুষ অবগত রয়েছি।

টিকটক বা লাইকি তারকা হতে চাঁদপুরেও নতুন প্রজন্মের অনেক তরুণ-তরুণী অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে দেখা গেছে। সামাজিক জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

টিকটক বা লাইকিতে যেসব ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে তার অধিকাংশই নৈতিকতা বর্জিত এবং বেশিরভাগই অশ্লীল। সম্প্রতি চাঁদপুরে শহরে দেখা যাচ্ছে টিকটক লাইকির মাধ্যমে কিশোর গ্যাং সংগঠিত হচ্ছে। তারা জড়িয়ে পড়ছে সমাজের নানা ধরনের অপকর্মে। এদের অনেকে আবার সমাজের নানা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এসব নিম্নমানের এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতাপূর্ণ ভিডিওর নির্মাণ, প্রদর্শন এবং অনুস্মরণের ফলে আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের মধ্যে আচরণগত অসুস্থতা পরিলক্ষ হতে পারে।

এরইমধ্যে দেশের বিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী এবং অপরাধ বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে গণমাধ্যমে এর মধ্যেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মান যা হোক, এসব ভিডিও নির্মাণের মুখ্য উদ্দেশ্য প্রচার। হিসাবটা এখানে লাইক, কমেন্ট আর ফলোয়ারের। টিকটিকের শুটিং চলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন উন্মুক্ত প্রায় সব বিনোদনকেন্দ্রে। দলবেঁধে সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের এ শুটিংয়ে প্রতিযোগিতাও চলে পর্যটনকেন্দ্র ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে। সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে প্রতিদিন। দর্শনার্থীদের অসুবিধা হলেও প্রতিবাদের সাহস পায় না সাধারণ মানুষ। ভিডিও বানাতে গিয়ে তরুণ-তরুণীরা দর্শনার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে এবং দিনভর দর্শনীয় এলাকাগুলো দখল করে রাখছে। ফলে আগামী দিনে পর্যটন খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল

Leave a Reply

Your email address will not be published.