চাঁদপুরে দ্বিতীয় প্রজন্মের কর্মীবান্ধব লিডার অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান

আশিক বিন রহিম চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে চাঁদপুরসহ সারাদেশে তােলপাড় চলছে। থেমে নেই রাজনীতি অঙ্গনে নানামুখী আলােচনা-সমালোচনা। গত ২৭ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেছেন,’চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ থেকে আমার পরিবারের সদস্যদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কোনাে সুযােগ নেই। জমি অধিগ্রহণে পরিবারকে জড়িয়ে দুর্নীতির অভিযােগ অসত্য, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’
এই ভূমি অধিগ্রহণ শীর্ষক অভিযোগে যে ক’জনের নাম উচ্চারিত হচ্ছে তাদের একজন অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান। যিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বৃহৎ পরিবারের একজন কর্মীবান্ধব উদিয়মান তৃণমূল নেতা। স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেয়া এই দলটির নিকট অতিথে চাঁদপুরে ছাত্ররাজনীতির আলোকজ্জল কর্মবীর ছিলেন তিনি। অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং মেধাবী এই সাবেক ছাত্র নেতা খুব অল্প বয়সেই নিজের যোগ্যতা আর সামর্থ জানান দিতে সক্ষম হয়েছেন।
ছাত্ররাজনীতির অমশৃণ এবং একই সাথে চ্যালেঞ্জিং সময়েই তিনি নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন সাংগঠনিক দক্ষতা ও সাফল্যের আলোয়। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি থাকাকালীন একটি প্রতিষ্ঠানের ন্যায় সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য কর্মী তথা ছাত্রনেতা। তাঁর হাত ধরে রাজনীতির জমিনে হাঁটতে শেখা সেইসব অসংখ্য ছাত্রনেতাও এখন চাঁদপুরের রাজনীতে আলো ছড়াচ্ছেন। বর্তমানে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অগ্রজদের হাত ধরে চাঁদপুরে আওয়ামী লীগের সমৃদ্ধ রাজনীতির নেতৃত্বের ঝাণ্ডা আগামী দিনে যাদের কাঁধে বর্তাবে তার সর্টলিস্ট করলেও অনায়াসে চলে আসবে অ্যাড জাহিদুল ইসলাম রোমানের নাম।
এ জেলায় নিজ দলে তার জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে, সে অবস্থায় সরকারের ভূমি অধিগ্রহণ দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে তার নামটি উচ্চারিত হচ্ছে। ফলে
এ নিয়ে তাঁর রাজনীতিক সহযোদ্ধা-সহকর্মী এবং সমর্থক শিবিরে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবী, তৃণমূলের রাজপথ থেকে উঠে আসা একজন জাহিদুল ইসলাম রোমান আওয়ামী রাজনীতির ভবিষ্যৎ সম্পদ। যিনি রাজনীতিক জীবনে একজন নির্লোভ-নিঃস্বার্থহীন এবং কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে চাঁদপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে তার দল টানা তিন মেয়াদে অর্থাৎ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাষ্ট্র ক্ষমতায় রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে চাঁদপুরের রাজনীতিতে তুমুল জনপ্রিয়তায় থাকা এই নেতা চাইলে অবৈধপন্থায় অনেক টাকা উপার্জন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি এমন একজন পিতার সন্তান যিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্থান বিমান বাহীনির চাকরি ছেড়ে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্থানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ছিলেন। চাঁদপুরের আওয়ামী লীগের রাজনীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কিংবদন্তীতুল্য নাম মরহুম অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম গোটা বাংলাদেশেই ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। যিনি ১৯৬৪ সালে ফরিদগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৬৫-৮৬ চাঁদপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালে উপনির্বাচনে কুমিল্লা-২৫ অঞ্চল থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক এবং মহকুমা সংগ্রাম পরিষদের আহব্বায়ক ছিলেন। ১৯৯৮ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হন।
পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর চাকুরী ছেড়ে পরবর্তীতে আইনপেশায় সমৃদ্ধ হওয়া অ্যাড. সিরাজুল ইসলামের ২ কন্যা ৩ পুত্রসন্তানের ৪জনই আইনজীবি।
তাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সন্তান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান পিতার মতো আইন পেশার পাশাপাশি গণমানুষের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যে রাজনীতির সাথে যুক্ত রয়েছেন। বাবার পথ ধরে তিনিও একজন কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে চলেছেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজ এলাকায় উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখছেন। এক্ষেত্রে বলা চলে তাঁর রাজনৈতিক শিক্ষক পিতা এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।
সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের ৫ জানুয়ারী জন্মগ্রহন করা অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান পিতার মতোই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ ও লালন করে চলেছেন। তিনি ১৯৮৭ সালের স্কুল জীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত হন। ১৯৮৯ সালে এসএসসি পাস করে চট্টগ্রামের হাজী মহসিন কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু ছাত্রলীগ করার কারণে শিবিরের রোষানলে পড়েন। বাধ্য হয়ে মাত্র ৬ মাসের মাথায় সে কলেজ ছেড়ড়ে চাঁদপুর সরকারী কলেজে এসে ভর্তি হন। ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনীতিক জীবনে ১৯৯৭ সালে চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, ২০০০ সালে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং ২০০৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
ওয়ান ইলেভেনে সেনাশাসিত তত্ত্বাবধারক সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করে রাখে। ওই সময় বর্তমান দলের সভানেত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবীতে চাঁদপুরে ছাত্রলীগের আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্বে দেন।
চাঁদপুরে রাজনীতিতে এসে যোগ্য পিতার সুযোগ্য উত্তরসুরী হিসেবে খুব অল্প ক’জন ‘দ্বিতীয় প্রজন্ম’ নিজেকে দারুণভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। তাদের একজন তৃণমূলের কর্মীবান্ধব নেতা অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান। রাজনীতির দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রতিশ্রুতিশীল লিডার হিসেবে তিনি নিজ দলের প্রবীণদের পাশাপাশ তাঁর সমমনা এবং তৃতীয় প্রজন্মের তরুণদের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন। দলটির তৃণমূলের দাবি অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান কেবলমাত্র একজন কর্মীবান্ধব নেতাই নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠান কর্মী সৃষ্টিতে অতুলনীয়। তাই স্বাধীনতার নেতৃত্বে দেয়া আওয়ামী লীগের ভবিষৎ রাজনীতির জন্য এই প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে হবে। এতে করে কেবলমাত্র ব্যক্তির নয়, গোটা দল উপকৃত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.