চাঁদপুরে বন্ধের শঙ্কায় ১০৪ ইটভাটা

এস আর শাহ আলম বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে চাঁদপুর জেলার ১০৪টি ইটভাটা। বছরের পর বছর লোকশান এবং সংশ্লিষ্ট আইনি জটিলাতার কারণে এই শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানান ভাটা মালিকরা।

চাঁদপুর জেলার সর্বমোট ১০৪টি ইটভার মধ্যে চলতি বছর পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ণ করেছে ৬৩ টি। জেলার সদরসহ মোট আটটি থানায় ঘুরে দেখা যায়, ইট উৎপাদনে দেশের অন্যতম ইটের ভাটা চাঁদপুর জেলায় থাকলেও বিগত কয়েক বছরের ব্যাবধানে নানান জটিলতার শিকার হয়ে প্রতি বছরই ইটের ভাটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অথচ চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তর এর তালিকা অনুযায়ী এখনো জেলায় মোট ১০৪টি ভাটা রয়েছে। সেখানে পরিবেশের হিসেব অনুযায়ী চলতি বছর মাত্র ৬৩টি ভাটা পরিবেশের নবায়ন করে ভাটা চালু করার অনুমোদন নিয়ে সরকারি নিয়ম কানুন মেনে চলছে। কিন্তু বাকি ভাটার মধ্যে বিগত ৪-৫ বছরে সরকারি আইনি জটিলতায় আটকে বন্ধ হয়ে যায়। যার মধ্যে পরিবেশ জনিত জটিলতাও রয়েছে।

বিশেষ করে বিগত ২০-৩০ বছর পূর্বে তৈরা করা ইটের ভাটা খোলা জায়গায় গড়ে উঠলেও ধীরে ধীরে ওইসব ভাটার পাশ দিয়ে কৃষি জমিসহ বসত ভিটে ও রাস্তা-ঘাট এবং বন বিভাগ গড়ে ওঠেছে। এতে করে ইটের ভাটার ধোঁয়াসহ আগুনের তাপে আস পাশের পরিবেশ নষ্ট হতে শুরু করলে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিতে একের পর এক সরকারিভাবে ভাটা বন্ধের নির্দেশ প্রধান করে হাইকোর্ট। আর মালিকপক্ষ তাদের প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে হাইকোর্টে রিট করলে মালিক পক্ষকে দু’এক বছরের সময় সীমা বেধে দেয়। তখনি আইনি জটিলতার সাথে লড়াই করে ইটের ভাটা চালু করে। কিন্তু সাময়িক সময় বেধে দিলেও পরিবেশ রক্ষায় আরো কিছু নতুন নতুন নির্দেশ আসে। আর মালিক পক্ষ ওইসব নির্দেশ মানতে হলে নতুন করে ভাটা তৈরি করতে ৩০-৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন হয়। আর ব্যয়বহুল টাকা খরচ করতে না পেরে অধিকাংশ ভাটা বন্দ হয়ে যায়।

এদিকে চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর, হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি, ফরিদগঞ্জ, কচুয়া মালিক পক্ষ আমাদের বলেন, সরকারি নতুন বিধিমালা আর নৃত্য নতুন পরিকল্পনা আমাদের প্রতি বছর মোটা অংকের টাকা গুনতে হয়। যেটা অনেক মালিকের পক্ষে বহন করা সম্বব নয়, বলে অনেকে ভাটা বন্দ করেছে। তার সাথে ইট তৈরিতে সকল পণ্য গুলি হু হু করে বারছে। ১১-১৩ হাজার টাকার কয়লার টন বিগত তিন বছরে কয়েক দফায় বেরে চলতি বছর ২২-২৩ হাজার টাকায় দাড়িয়েছে , তার সাথে কেরিন খরচ গুনতে হয় বারতি, এছারা মাটি আমদানীতেও অধিক টকা গুনতে হয়, জ্বালানী তেলের মূর্ল্য বৃদ্ধির কারনে কার্গো প্রতি অধিক টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে, এছারা তেলের দামও বেরেছে, সব মিলিয়ে ১ নাম্বার ইট তৈরিতে প্রতি হাজার ইটে খরচ হচ্ছে ৯ হাজার ৩ ’শ টাকা সেখানে লাভ করে বিক্রি করবো দূরের কথা ৯ হাজার টাকাও জোর করে বিক্রি করতে হয় ভাটা মালিক দের। বর্তমানে ইটের ভাটা গুলিতে কোন চাহিদা নেই। জেলার বাহীরের ইটে জেলার চাহিদা পূরণ করে বলে লোকাল ইটের ব্যবহারিক চাহিদা কমে গেছে বলে মালিক পক্ষ জানান।

এদিকে মালিক পক্ষ আরো জানান, একটি ইটের ভাটায় স্থানীয় লোক সহ জেলার বাহিরের শ্রমিক সহ প্রায় ১২০ জন শ্রমিক কাজ করে তাদের পরিবার বর্গের আহার চলে। তার বাহীরে একটি পিকাপ গাড়ির দুই চারজন লোক জীবিকা অর্জন করে। এতে করে চলতি বছর শীতের মৌসুমে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ফিরে পায়। কিন্তু বিগত বছর ধরে একে একে ইটের ভাটায় ধস নেমে আসছে। প্রতি বছরই বৃষ্টির কারণে প্রতিটি ভাটায় ৩-৫ লাখ তৈরিকৃত কাঁচা ইট নষ্ট হয়।

এতে করে মালিক পক্ষকে ১৫-২০ লাখ বা তারও বেশি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। এতে করেও মালিক পক্ষকে আগামি বছরের ভাটা চালু করা নিয়ে ভাবনায় থাকতে হয়। গেলো বছরও চাঁদপুর জেলায় প্রায় ৮০ টি ইটের ভাটা চালু ছিলো। আর চলতি বছর পরিবেশের তালিকায় ৬৩ টি হলেও সেখানে ৭০ এর কাছাকাছি, চলছে, এবছরও হাই কোটে রিট আবেদন করে কিছু ভাটা চালু করেছে এমনও সুত্র পাওয়া গেছে। তবে রিট আবেদনকারি ভাটা গুলি চলতি বছর চললেও আগামি বছর সরকারি অনুমোদন পাবে কিনা তাও সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে মালিক পক্ষ বলেন এবার ইটের ব্যবসায় যেভাবে ধস নেমেছে এতে করে আগামি বছর আরো কিছু ইটের ভাটা বন্ধ হয়ে যাবে। কেনো না এখনো কিছু ইটের ভাটা আছে সরকারি রাস্তার পাশে সহ সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘেষে। আর ওই সব ভাটা গুলি আগামি বছর বন্দ হবার আশংকা আছে।

এমনি করে প্রতি বছর ইটের ভাটা বন্দ হয়ে গেলে একদিকে যেমনি সরকারি সকল দপ্তরের রাজত্ব হারাবে কোটি কোটি টাকা। অপর দিকে জেলার কর্মসংস্থান কমে বেকারত্ব জীবনের সংখ্যা বারবে, তার সাথে চাঁদপুর জেলার ইট উৎপাদন কমে গিয়ে চাহিদা মিটাতে জেলাবাসিকে অধিক টাকা গুনতে হবে বলে সচেতন মহল মনে করেন। এদিকে চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তর এর উপ পরিচালক আমাদের বলেন এই জেলায় অবৈধভাবে কোন ইটের ভাটা চলবে না। আর সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কেউ যদি ইটের ভাটা চালায় তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্বে আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তাছাড়া ইটের ভাটার কারনে কোন পরিবেশ দূষণ হলে তাদের বিরুদ্ধে ও আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া আমি এখানে নতুন এসেছি সেই সুবাদে আপনারা আমাকে সহযোগীতা করবেন। আর চলতি বছর ৬৩টি ভাটার পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ণ করা হয়েছে। এর ফাঁকে কেউ যদি নবায়ণ বিহীন থেকে থাকে তাহলে আমরা সেটাও খুঁজে বের করবো।

অপর দিকে ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, যেই ভাবে ভাটায় ধস নেমেছে এতে করে আগামি কয়েক বছরে ৪০-৫০ টি ভাটায় নেমে আসবে, জেলার ভাটাগুলি সরকারি ভাবে নানাহ আইনী জটিলতা সহ ইট তৈরি পন্যতে অতিরিক্ত টাকা গুনতে গিয়ে আজকের এমন পরিস্থিতি। তবে এমনি করে চলতে থাকলে আগামিতে জেলার মানুষ অন্য জেলা থেকে ইট আমদানী করে রাস্তা ঘাট সহ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলি গড়ে তুলতে হবে বলে আমরা মনে করি। আর তাই এ বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি যেভাবে চাঁদপুর জেলার ইটের ভাটা টিকিয়ে রাখা যায়। আমরা মনে করি সরকার এ বিষয়ে দৃষ্টি দিবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.