চাঁদপুরে বালু ব্যবসার আড়ালে কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

চাঁদপুরের গ্রাম থেকে শুরু করে সর্বত্র পাকা বাড়ি নির্মানের হিড়িক পড়ার কারণে বালুর ব্যাবসা ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ব্যাপক চাহিদার কারণে অনেকেই বালুর ব্যবসার দিকে ঝুঁকছে। তবে এ ব্যাপারে সরকারের কোন বাধ্য বাধকতা না থাকার কারণে যে কেউ সহজেই নেমে পড়ছে এই ব্যবসায়। যেখানে সেখানে বালু স্তুপ করে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা। এর জন্য সকারের কোন কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকার কারণে একদিকে যেমন কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে অপর দিকে পরিবেশেরও মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে বলে মনে করছেন অনেকে।

কোটি টাকার ব্যবসা হলেও তাদেরকে দিতে হয় না কোন ভ্যাট টেক্স। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে লোক চক্ষুর আড়ালে থেকে দিনের পর দিন ব্যবসা করে যাচ্ছে একটি গোষ্ঠি।

অপর দিকে বলতে গেলে চাঁদপুরের রাস্তাঘাট এখন বালু, পাথর, ইট, রড, সিমেন্ট বাহী পরিবহনের দখলে। দিন রাত এসব পণ্য নিয়ে ছুটছে ছোট বড়ো অসংখ্য ট্রাক। গ্রামের রাস্তা থেকে শহরের অলিগলি এখন মালবাহী ট্রাকের দখলে। চাঁদপুরের গ্রাম ও শহরের যত্রতত্র আস্তর বালু, ধুল বালু ও সিলেকশন বালুর ব্যবসা। এসব ব্যবসার অধিকাংশেরই নেই কোন অনুমোদন।

ব্যাপকভাবে পরিবশে দুষণ হলেও এইসব বিষয় দেখার কেউ নেই বললেই চলে। শহরের আনাচে কানাচে খোলা যায়গায় বালু স্তুপ করে রাখার কারণে আশেপাশের এক কিলোমিটার পর্যন্ত এসব বালু উড়ে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী। আবাসিক এলাকায় বালুর ব্যবসা বন্ধের দাবিতে বেশ কয়েকবার চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে মানব বন্ধনও করেছে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী। কিন্তু এসব বালু ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বন্ধ না হওয়ায় সবাই হতাশা ব্যক্ত করেন।
বলগেটের মাধ্যমে বালু এনে খোলা আকাশের নিচে কোন ধরনের নিয়মনীতি না মেনেই ড্রেজার দিয়ে বালুর স্তুপ করে এসব ব্যবসা চলছে। কিন্তু এসব ব্যবসার জন্য সরকারের কোন নিয়মনই মানছে না কেউ। নেই কোন অনুমোদনও।

পরিবেশ অধিদপ্তরও এ ব্যাপারে নির্বিকার। তাই যে যার মতোকরে যেখানে সেখানে বালুর স্তুপ করে তা ট্রাকের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিচ্ছে। প্রতি ফুট আস্তর বাবুল মূল্য ১৪ থেকে ১৫ টাকা, সিলেকশান বালুর মূল্য ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকা, ধুল বালুর মূল্য ৮ থেকে ১০ টাকা হলেও সরকার এর থেকে একটাও রাজস্ব পাচ্ছে না। অনুমোদনহীন এসব বালুর ব্যবসায় সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিলেও এসব ব্যবসায়ীরা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এব্যাপারে চাঁদপুর ট্রাক ঘাট, ইচলি, বাগাদি, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর সেতু সংলগ্ন এলাকা, বাগাদি, বাঘড়া বাজার এলাকা, বহরিয়া, লক্ষীপুর, হানারচর ও হাইমচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা, চাঁদপুর শহরের পানামা ডক ইয়ার্ড এলাকা, পুরান বাজারের বিভিন্ন এলাকা ও শহরের আরো বেশ কয়েকটি স্থানে গিয়ে দেখা যায় এসব ব্যবসার প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়া যায় না।

তাদের অধিকাংশই থাকেন লোক চক্ষুর অন্তরালে। অধিকাংশের নেই কোন অফিস। যার কারণে তাদের সাথে কথা বলতে গেলে তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যায় না। ট্রাক শ্রমিকদেরকেই সব সময় বালু নিয়ে ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। তাদেরকে জিজ্ঞাস করলে কোন সদোত্তর পাওয়া যায় না।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর শহরের কয়েকটি নির্মানাধিক বাড়ীর মালিকের সাথে আলাপ করলে তাঁরা বলেন, রড সিমেন্টের পাশাপাশি বালুর দামও বেড়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। এসব ব্যবসায় সরকারের কোন তদারকি না থাকায় এবং অধিক লাভজনক হওয়ার কারণে নিয়মনীতি না মেনে অনেকেই এই ব্যবসায় নেমে পড়ছে। আর তারা একজোট হয়ে দাম বাড়াচ্ছে।

এ ব্যাপারে কয়েকজন বালু ব্যবসায়ীর সাথে আলাপ করলে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) তারা বলেন, ‘বালু ব্যবসার জন্য কোন অনুমোদন লাগে না। আবাসিক এলাকায় বালু ব্যবসার বৈধতা আছে কিনা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান।’

তবে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী বলেন, ‘এসব বালু ব্যবসায়ীরা পেশিশক্তি দেখিয়ে এসব ব্যবসা খুলে বসেছে। তাদেরকে কেউ বাধা দেয়ার নেই। আবাসিক এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে বালু স্তুপ করে রাখার ফলে আশেপাশের বাসা বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ছে শ^াসকষ্টসহ মারাত্মক রোগব্যাধী। অনেক যায়গায় রাস্তার পাশে বালু।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালের আরএমও ডা. ইমরান হোসেনের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, ‘মানুষের অধিকাংশ রোগ পরিবেশ দুষণের কারণেই হয়ে থাকে। এর মধ্যে বালু একটি মারাত্মক ক্ষতিকারক উপকরণ। যা ফুসফুসসহ শরীরের অঙ্গপত্যঙ্গ বিকল করে দেয়। এজমার মতো মাত্মক রোগের মূল কারণই হলো এই ধুলাবালি। তাই এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক হওয়া জরুরি।

স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published.