চাঁদপুরে সহিংসতায় দুই দিনে দুই জনের মৃত্যু : আহত অর্ধশতাধিক

চাঁদপুরে ইউপি নির্বাচনী সহিংসতায় বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় অর্ধশত জন গুরতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে দু,জন গুলিবৃদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুরের কচুয়া ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্বাচনী কেন্দ্রে ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার সেলিম মজুমদার (৩৯), নজরুল ইসলাম (৩৫), শিপন আহমেদ (২২), লিমা আক্তার (২৩), বাদল সরকার (৫০), রেহানা ইয়াসমিন (৪৪), হেলাল মুন্সি (৫৫), আব্দুল মালেক (৪৫), নাসরিন আক্তার (২৫), শাহাদাত (১৬), মিজানুর রহমান (৪০), আনোয়ার হোসেন (৪০), সুমন (৩৫), আরিফ ভূঁইয়া (২৭) মনির হোসেন ভূঁইয়া (৩৫), এবং গুলিবৃদ্ধ সোহেল (৩৩), ও আলম (৩১) সহ আরো অনেকে কম বেশি আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে চলে গেছে।

এছাড়াও হাইমচর ও কচুয়া উপজেলার দু,জন নিহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

জা নাযায়, ৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত পঞ্চম ধাপের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এদিন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, কচুয়া ও হাইমচর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্রে গুলোতে দলীয় প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ফাঁকা গুলি এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেন। ওই সময় প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে প্রায় অর্ধশত লোক কম বেশি আহত হন।

আহতদের মধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন আড়াই শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিলেও অনেকে স্থানীয় এলাকায় ও বিভিন্ন জায়গায় প্রাইভেট ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।

৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে চাঁদপুরের হাইমচর-কচুয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় দুইজন নিহত হয়েছেন। বুধবার বিকেলে হাইমচরের নীলকমল ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় মীর হোসেন (৪০) নামের এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। নিহত মীর হোসেন শরীয়তপুর জেলার পালং থানার সোনামুখি গ্রামের ইরফান বেপারীর পুত্র ও পালং বাজারের রড সিমেন্ট ব্যবসায়ী। এছাড়াও এ ঘটনায় বাদল সরদার (৫০)সহ আরো ৫ জন গুরুতর আহত হয়ে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন।

এলাকাবাসী জানান, বুধবার বিকেলে নীলকমল ৬ নং কেন্দ্রে বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, হামলায় বাদল সরদারসহ পথচারী মীর হোসেন কে কুপিয়ে জখম করে, ঘটনাস্থলেই মীর হোসেন নিহত হয়েছেন।

হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, নির্বাচন এর দিন দুই প্রার্থীর সংঘর্ষে মীর হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একই দিনে অপর এক ঘটনায় কচুয়া উপজেলার ১নং সাচার ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে নয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত যুবক শরীফুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

গত বুধবার বিকাল ৩টায় শরীফুল ইসলাম গুরুতর আহত হলে তাকে ঢাকার ধানমন্ডি ইসলামিয়া হাসপাতালে নেয়া হলে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। শরীফুল ইসলাম সাচার বাজারে কাচঁমালের ব্যবসা করতেন।
নিহতের চাচা রাসেল ও আবুল হোসেন জানান, বুধবার ৩টার দিকে মেম্বার প্রার্থী আব্দুর রবের সমর্থকরা ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে অপর মেম্বার প্রার্থী জাকির হোসেনের (বিজয়ী) পক্ষে ভোট কেন্দ্র দখল করার চেষ্টাকারীদেরকে বাঁধা দিলে হাতিরবন্দ গ্রামের শহিদ উল্লার ছেলে শরীফুল ইসলামকে প্রতিপক্ষরা তার পেটে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনার পরপরই শরীফুল ইসলামকে মূমুর্ষ অবস্থায় ধানমন্ডি ইসলামীয়া হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নিহত শরিফের লাশ তার নিজ গ্রামে নিয়ে আসলে নিকট আত্মীয় স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠে।

স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *