চাঁদপুরে হাসপাতালে ভর্তির চাপ বাড়ছে, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বয়স্ক ও শিশুরা

নদীবিধৌত চাঁদপুরে শীত বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত কারণে বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্করা জ্বর, ঠান্ডা, সর্দি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। চাঁদপুরের জেলা এবং উপজেলার হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা।

গত কয়েকদিন থেকেই সন্ধ্যার পর দক্ষিণের হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। হাড় কাঁপানো শীতের কারণে জবুথবু হয়ে পড়েছে মানুষ। এতে করে কর্মজীবী মানুষরা পড়েছেন বিপাকে। বেলা ১১টার পর সূর্যের দেখা মিললেও তাপের তীব্রতা খুব একটা নেই। ২৪ ডিসেম্বর শুক্রবার চাঁদপুর আড়াইশ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, সবগুলো বেডেই রয়েছে শিশু রোগী। এই ওয়ার্ডের বেশিরভাগ রোগী শীতজনিত রোগে আক্রান্ত। চাঁদপুর সদর উপজোর বিষ্ণপুর ইউনিয়নের সালমা খাতুন বলেন, তার এক বছরের মেয়ে স্মৃতি ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর হঠাৎ করে পাতলা পায়খানা শুরু হয়। এরপর কয়েকবার বমিও করে। গ্রাম্য চিকিৎসককে দেখানো হলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। রাতেই সদর
হাসপাতালে ভর্তি হন। এখানে চিকিৎসার এখন অনেকটাই সুস্থ।

পাশ্ববর্তী শরিয়তপুর জেলার মাস্টার বাজার চর থেকে আগত রাহেলা বেগম জানান, তার শিশুপুত্র গত ক’দিন ধরে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

আজ ৩ দিন ধরে শিশুপুত্রকে নিয়ে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। চাঁদপুর সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের তথ্যানুসারে, শুক্রবার পর্যন্ত হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি সংখ্যা ৫৮ জন। যা ২২ ডিসেম্বর ছিলো ৭৫ জন, ২৩ ডিসেম্বর ছিলো ৭৩ জন। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মাহমুদা আক্তার বলেন, গত এক সপ্তাহে শীতের কারণে শিশু রোগীর পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ডায়রিয়ায়, ঠান্ডা, সর্দি, নিউমোনিয়াস আক্রান্তের সংখ্যা বেশি ছিলো। তবে এখন কিছুটা কমে আসছে।

শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স রেকতি ঘোষ বলেন, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার যে প্রবণতা, তাতে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক হতে হবে। বয়স্ক ও শিশুদের যেন কোনোভাবে ঠান্ডা না লাগে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। নবজাত শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের সকালের রোদ দিতে হতে। তাদের পড়নের কাপড় যেন প্রোসাবে ভিজা না থাকে। এ সময়টাতে শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে একটু বাড়তি যত্ন নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

একই চিত্র আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) চাঁদপুরের মতলব হাসপাতালে। এই চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রায় ২ হাজার জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছে। যার মধ্যে ৮০ ভাগই শিশু। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী গত ১০ দিনে গড়ে ১৭০ জন করে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছছে। যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। এই হাসপাতালে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৮০ জন রোগী ভর্তি হয়ে থাকে।

প্রতিবেদক: আশিক বিন রহিম, ২৫ ডিসেম্বর ২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *