চাঁদপুরে ৩ দিন ধরে ঈদুল ফিতর উদযাপন

স্টাফ করেসপন্ডেট: চাঁদপুরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দুদিন ঈদ উদযাপন হয়ে আসলেও গতবারের মত এবারও ৩ দিনব্যাপী ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। হাজীগঞ্জে ঈদের দুই দিন আগে ৮ গ্রামের মানুষ পালন করেছে ঈদুল ফিতরের জামাত।

১ মে রোববার সকালে হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলীপুর, বলাখাল, ভোলাচোঁ, ঝাকনি, সোনাচোঁ, প্রতাপপুর, বাসারা ও সুরঙ্গচাইল এর ৮ গ্রামের মানুষ নিজ নিজ এলাকায় ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়।

হাজীগঞ্জের ঐতিহাসিক সাদ্রা দরবার শরীফের বর্তমান পীর মুফতি মাও. জাকারিয়া চৌধুরী আল- মাদানী শনিবার গভীর রাতে চাঁদ দেখেছে মর্মে রবিবার ঈদ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। ভোর রাতে সেহেরী খাওয়ার সময় এসব গ্রামের মাইকে প্রচার করা হয়।

পরেরদিন ২ মে সোমবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব ও কচুয়াসহ ৪০ গ্রামের কিছু সংখ্যক মুসল্লি ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন।

এ বিষয়ে মাওলানা আরিফ বিল্লাহ চৌধুরী চাঁদপুর টাইমসকে জানান, চাঁদ দেখার ভিত্তিতে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখি এবং ঈদ উদযাপন করি। রবিবার মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখা গেছে। তাই মুসলিম বিশ্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ৩০ রোজা শেষ করে আমরাও তাদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করছি।

সাদ্রাসহ ঈদ উদযাপন করা গ্রামগুলো হলো, হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, দক্ষিণ বলাখাল, শ্রীনারায়নপুর, মনিহার, বড়কুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, বাসারা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম।

এদিকে রবিবার ও সোমবার দুই দিন ঈদ পালনের কারনে স্থানীয় আগাম ঈদ উদযাপনকারীদের নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

৩ মে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় চাঁদপুরের প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় চাদপুর পৌর ঈদগাহ মাঠে।

যেখানে কয়েব হাজার মানুষ অংশ ঈদের জামাতে অংশ নেয়। প্রধান এ ঈদ জামাতে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও পৌরসভার কর্মকর্তা,রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এতে ইমামতি করেন মাও.আব্দুল্লাহ মাে.হাসান।

এছাড়া দ্বিতীয় বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায় চাঁদপুরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা পুরানবাজারের ঐতিহাসিক মধুসূদন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে।

অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের সাথে সংগ্রাম শেখে অবশেষে স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে। করোনার ধকল কাটিয়ে দু’বছর পর ঈদগাহ মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদের জামাত। সারা দেশের মতোই এর ব্যতিক্রম ছিলো না সম্প্রীতির জেলা চাঁদপুরেও।

Leave a Reply

Your email address will not be published.