চাঁদপুর লঞ্চঘাটে খুন, ৮ যুবক আটক

আশিক বিন রহিম

ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী এমভি সোনার তরী-৩ লঞ্চের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডার জের ধরে মো. সুমন গাজী (৩২) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ১৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দিনগত রাত সোয়া ১১টার দিকে চাঁদপুর লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সুমন গাজী চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর বুধবার ভোরে মৃত্যুবরণ করেন।

সুমন গাজী সদর উপজেলার তরপুরচণ্ডী এলাকার ইউসুফ আলী গাজীর ছেলে। তিনি ঢাকার বিমানবন্দর এলাকায় ফার্নিচারের ব্যাবসা করতেন। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান বাবু আহমেদসহ অভিযুক্ত ৮ যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃত অন্য আসামিরা হলেন, শহরের মাদ্রাসা রোড এলাকার সবুজ প্রধানিয়া (২৩) ও সাজ্জাদ মোল্লা (২৩), ট্রাক রোড এলাকার সাজ্জাদ হোসেন আপন (২২), রহমতপুর এলাকার সবুজ খান (২১), গুনরাজদি এলাকার হাসান মাহমুদ সোহাগ (২১) ও মিরাজুল ইসলাম এবং ইচলী এলাকার রাকিব হোসেন গাজী (২২)।

চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার দিনগত রাত ৮টার দিকে ঢাকা সদরঘাট থেকে এমভি সোনার তরী-৩ লঞ্চে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হন সুমন। লঞ্চে তাঁর পাশের আসনে ছিলেন মতলব উত্তরের ছেঙ্গারচর এলাকার বাসিন্দা বাবু আহমেদ। আসনে বসা নিয়ে সুমনের সঙ্গে বাবুর কথা–কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সুমনকে হুমকি-ধমকি দেন বাবু এবং লঞ্চটি চাঁদপুরের কাছাকাছি পৌঁছালে বাবু মুঠোফোনে কল করে তাঁর বন্ধুদের লঞ্চঘাটে আসতে বলেন।

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে খুন, ৮ যুবক আটক

ওসি আরও বলেন, রাত সোয়া ১১টার দিকে লঞ্চটি চাঁদপুর ঘাটে পৌঁছালে বাবু ও তাঁর বন্ধুরা সুমনের ওপর চড়াও হন। তাঁরা সুমনকে ব্যাপক মারধর ও ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় সুমনের কাছ থেকে টাকা, মুঠোফোনসহ অন্য জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেন। ঘটনার পর গুরুতর আহতাবস্থায় সুমনকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে সুমনের মৃত্যু হয়।
ওসি কামরুজ্জামান বলেন, সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে আজ বিকেলে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্ত বাবু আহমেদসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে পাঁচজনকে এবং লঞ্চের সিসি ক্যামেরা দেখে বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিচারের দাবিতে মানব বন্ধন, সড়ক অবরোধ

বুধবার বিকালে নিহত সুমন গাজীর মরদেহ নিয়ে চাঁদপুর -কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় ৩০ মিনিট ধরে প্রায় শতাধিক এলাকাবাসী ও স্বজনরা এই মানববন্ধনে অংশ নেয়।এসময় তারা সড়ক অবরোধ করে সুমন হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করার জন্য দাবি জানায়।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা থেকে এমভি সোনার তরী-৩ লঞ্চযোগে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হয় সুমন গাজী। পথিমধ্যে লঞ্চটি চাঁদপুরের কাছাকাছি এলে অপর লঞ্চযাত্রী বাবুর সঙ্গে সিটে বসা নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ বাবু লঞ্চযাত্রী সুমনকে হুমকি দেন। লঞ্চটি রাত সোয়া ১১টার দিকে চাঁদপুর ঘাটে পৌঁছালে বাবু ও তাঁর বন্ধুরা মিলে সুমনের ওপর চড়াও হয়।
এ সময় তারা সুমনকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইলসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সুমনকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে মারা যান।

নিহত সুমনের মেঝোভাই শরিফ গাজী ও চাচাতো ভাই মিজান বলেন, ‘তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন সুমন। যারা আমাদের ভাইকে হত্যা করেছে, আমরা তাদের ফাঁসি চাই।’

হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সুমনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বুকে আঘাতের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত সুমন গাজীর জানাযার নামাজ বাদ মাগরিব তরপুরচন্ডী জি এম ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।তার এই মৃত্যুতে এলাকাবাসী জড়িতদের দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি জানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *