চাঁদপুর সদর হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ থেমে নেই

চাঁদপুর আড়াইশ’ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এখনো রোগীর প্রচণ্ড চাপ। ওয়ার্ডে শয্যা আছে ১২০টি। কিন্তু গড়ে রোগী থাকেন ২ শ’। দিনের প্রথমভাগে রোগীর চাপ কিছুটা কমলেও দ্বিতীয়ার্ধে আবার বেড়ে যায়। এ কারণে অক্সিজেনের সব ব্যবস্থা সচল থাকলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে গত দু’ সপ্তাহ চাঁদপুরে করোনার প্রকোপ এতটাই বেশি, নির্ধারিত বেডে রোগী সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। ওয়ার্ডের সামনে খোলা জায়গা যেখানে ডাক্তাররা বসতেন, সেখানেও সিট বসানো হয়েছে। দ্বিতীয় তলায় এমন খালি জায়গায় পাঁচটি করে দশটি সিট বসানোর পরও স্বস্তি নেই। ওয়ার্ডের ভেতরে মাঝখানে, ফ্লোরে এবং দুপাশের মাঝখানে হাঁটাচলার পথেও রোগী আর রোগী।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ও করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৮জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে রোগী ছিল ১৪৯জন। এত সংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সরাদের নাভিশ্বাস। ইতোমধ্যে চিকিৎসক এবং নার্সদের অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

আরএমও আরও জানান, হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে যেসব রোগী ভর্তি হয় তাদের ৯৫ ভাগেরই অক্সিজেন সাপোর্ট লাগে। আর এর ৮০ ভাগ রোগীর লাগে হাইফ্লো সাপোর্ট। যার কারণে এই হাসপাতালে অক্সিজেনের সব ব্যবস্থা চালু এবং সচল থাকার পরও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। অক্সিজেনের সংকট থেকেই যাচ্ছে। আর সংকট বলতে তিনি রোগীর অবস্থা বুঝে তাৎক্ষণিক চাহিদামতো অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে না পারাকে বুঝিয়েছেন। তিনি জানান, এই হাসপাতালে সম্প্রতি চালু হওয়া লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট থেকে আইসোলেশন ইউনিটে লাইন দেওয়া আছে (২য় ও ৩য় তলাসহ) ৬০টি। সবকয়টিই বর্তমানে চালু আছে। এ ছাড়া আবুল খায়ের গ্রুপের সিলিন্ডার অক্সিজেন এবং গত বছরে ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সহযোগিতায় চালু হওয়া সিলিন্ডার অক্সিজেন সেন্টার থেকেও বোতল অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সিলিন্ডার (বোতল) অক্সিজেন চালু আছে ১৩০টি। এই ১৩০টি সিলিন্ডার দিয়েই হাইফ্লো লাইনের বাইরে থাকা রোগীদের অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা এত বেশি, এগুলো রিফিল করে কুলিয়ে উঠছে না।

তিনি আরও জানান, সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টের ৬০টি সংযোগ যেসব বেডে আছে, সেসব বেড এক মুহুর্তের জন্যও খালি থাকছে না। আর যাদের হাইফ্লো অক্সিজেন সাপোর্টের প্রয়োজন হয়, তাদেরকেই ওইসব বেডে দেওয়া হয়। কিন্তু হাইফ্লো চাহিদা রোগীর সংখ্যাই বেশি। যার কারণে ওই ৬০টি বেডের বাইরে যেসব রোগী আছে, তাদেরকে সিলিন্ডার অক্সিজেনে কাভার দেওয়া যাচ্ছে না। অক্সিজেন সংকট এখনো রয়ে গেছে বলতে হবে।

স্টাফ রিপোর্টার, ১৩ আগস্ট, ২০২১;

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *