চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে স্বস্থ্যশিক্ষা নেই ১৪ বছর

স্টাফ রিপোর্টার আড়াই,শ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের হেলথ এডুকেটর (স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের) জাকির হোসেন চাকরির চৌদ্দ বছরেও নিজ দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি। তাই স্বাস্থ্যশিক্ষা সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা। যার ফলে রোগীদের অসচেতনতায় দূষিত হচ্ছে হাসপাতালের পরিবেশ। জাকির হোসেন চৌদ্দ বছর পূর্বে সরকারি এই হাসপাতালটিতে হেলথ এডুকেটর পদে চাকরিতে যোগদান করলেও নিজের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন না করে মূলত তিনি হাসপাতালের অফিসিয়াল কাজ করছেন। কখনো অফিস সহকারী, কখনো কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে গত কয়েক বছর ধরে সরজমিনে দেখা গেছে জাকির হোসেন নিজের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন না করে হাসপাতালের ৩য় তলায় অফিসিয়াল কাগজ পত্রের কাজ করে চলেছেন। এমনও দেখা গেছে তার ডিউটি চলাকালীন সময়ে কখনো তিনি কম্পিউটার অপারেটর, কখনো অফিস সহকারী, কখনো বা অফিসিয়াল কাজে অন্যাদের সাথে ঢাকা, চট্টগ্রাম ছুটছেন। এছাড়াও প্রায় সময়ই দেখা গেছে তিনি হাসপাতাল থেকে কোন প্রকার লিখিত ছুটি না নিয়েই নিজের ইচ্ছে মর্জি মতো ২/৩ দিন ধরে ডিউটিতে আসেননি। তার এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরা তার অনিয়ম ঢাকতে মিথ্যে অযুহাতে বলে থাকেন জাকির হোসেন ছুটি নিয়েছে। মূলত তারা লিখিত কোন ছুটির আবেদন দেখাতে পারেননি। তার এমন অনিয়মের কারনে বর্তমানে হাসপাতালের নিচ তলায় জনবলের লিটন নামের এক ওয়ার্ড বয়কে প্রতিদিন সকাল ৮ থেকে ১০ টা পর্যন্ত হ্যান্ড মাইক নিয়ে গেটে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রচারণা করতে দেখা যায়।
খবর নিয়ে জানা গেছে জাকির হোসেনের ওই পদে থাকা দায়িত্ব হলো প্রতিদিন সকাল ৮ থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত স্বাস্থ্য সচেনতা বিষয়ে মাইকিং করা। এরমধ্যে প্রতিদিন হাসপাতালে আগত এবং ভর্তিকৃত রোগীদের জ্ঞার্তাত্বে টয়লেট ব্যবহার বিধি, টয়লেটে প্রচুর পরিমান পানি ঢালা, যেখানে সেখানে কফ, থুথু না ফেলা, ডায়বেটিক, পেশার এবং ডায়রিয়া, যক্ষা সহ অন্যান্য রোগীদের ক্ষেত্রে সর্তকতা মূলক শিক্ষা দেয়া। এছাড়াও প্রতিদিন প্রজেক্টরের মাধ্যমে , হাত ধোয়া, টয়লেট ব্যবহার এবং যেখানে সেখানে কফ থুথু না ফেলা, স্বাস্থ্যবিধি নিয়ম কানুন শিখানোর কথা থাকলেও। গত চৌদ্দ বছর ধরে তিনি তার এসব কার্যক্রম করতে দেখা যায়নি।
বর্তমানে তিনি কোন পদোন্নতি না নিয়েই হাসপাতালের অফিসিয়াল কাজ করে যাচ্ছেন। এতে হাসপাতালের তত্ববধায়কও অনেকটা উদাসীন। কোন প্রকার পদোন্নতি না নিয়েই বছরের পর বছর কর্মচারী জাকির হোসেন এমন অনিয়ম করে চললেও কোন প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্র থেকেই জানা গেছে তত্বাবধায়কের প্রচারনায় জাকির হোসেন হেলথ এডুকেটর পদ থেকে কোন পদোন্নতি না নিয়েই উন্নত কোন পদে না থেকে অফিসিয়াল ফাইল পত্রের কাজ করছেন। এমন নানা অনিয়মের মধ্যদিয়ে দীর্ঘ চৌদ্দ বছর ধরে অনিয়ম করে চলেছেন হেলথ এডুকেটর জাকির হোসেন।
এ বিষয়ে হেলথ এডুকেটর জাকির হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি প্রথমে তার অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি মাঝে মাঝে অফিসে বসে মাইকিং করি। পরবর্তীতে বলেন অফিস আমাকে যে কাজ দিবে আমি সেই কাজই করবো। অফিস আমাকে যেভাবে চালায় আমি সেভাবে সেই কাজ করি।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার এ কে এম মাহবুবুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের অফিসিয়াল কাজের লোকের সংকট থাকার কারণেই আমরা তাকে দিয়ে কম্পিউটার এবং অন্যান্য কাগজপত্রের কাজ করিয়ে থাকি। তিনি আরো বলেন সে মাঝে, মাঝে তার নির্ধারিত দায়িত্বও পালন করে থাকে। লোকের সংকটের কারনে তার পাশাপাশি আমরা তাকে দিয়ে অফিসিয়াল কাজও করিয়ে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *