চাঁদপুর সদর হাসপাতালে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে রুগীদের দুর্ভোগ

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালটি উদ্বোধনের পর থেকে আজও পর্যন্ত রোগীদের জন্য স্থায়ী ভাবে কোন প্রকার বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয়নি। জেলার সরকারি এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেভার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা থাকলেও তার মধ্যে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে এই বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকট।

খাবার পানি সংকটের কারণে প্রতিতিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। সরকারি এ হাসপাতালের নিজস্ব ডিপের পানি থাকলেও অতিরিক্ত আয়রনে তা রোগীরা ব্যবহার করতে পারছেন না।

হাসপাতাল টিতে বিশুদ্ধ কোন খাবার পানির ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি কৃত রোগীরা পানির বোতল নিয়ে ছুটছেন বিভিন্ন স্থানে।

খবর নিয়ে জানা গেছে গত কয়েক বছর পূর্বে হাসপাতালের আঙ্গিনায় রোগীদের জন্য একটি টিউবওয়েল বসানো হয়েছিলো। আর ওই থেকেই পানি সংগ্রহ করে প্রয়োজন মেটাচ্ছিলেন রোগীরা। কিন্তু গত ৩/৪ বছর ধরে সেটিও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মহাদুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

হাসপাতাল সংলগ্ন দোকানি কামরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে রোগীদের জন্য বিশুদ্ধ কোনো খাবার পানির ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই তাদের দোকানে গিয়ে পানি সংগ্রহ করেন। কেউ কেউ হাসপাতালের সামনে থাকা কালেক্টরেট জামে মসজিদের অজুখানা থেকে আয়রনযুক্ত পানি সংগ্রহ করেন। আবার অনেকে কোনো উপায় না পেয়ে পার্শ্ববর্তী ডাকাতিয়া নদী কিংবা পৌর পাঠাগার থেকে খাবার পানি এনে প্রয়োজন মেটাচ্ছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী রহিমা আক্তার, হাসিনা বেগম, নাছিমা আক্তার, জলিল মিয়া ও রফিকুল ইসলাসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালটিতে কোন প্রকার বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা না থাকায় আমাদেরকে প্রতিদিনই অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে আমরা প্রতিদিন বোতল নিয়ে হাসপাতালে সামনে থাকা মসজিদ হোটেল এবং চাঁদপুর পৌর পাঠাগার থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে আনি। আবার অনেক সময় আমরা দোকান থেকেও খাবার পানি ক্রয় করে খাই।

তারা আরো জানান, দেখা গেছে আমরা যখন রোগী নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকি তখন আমাদের রোগীর পাশে দেখাশোনা করার জন্য অন্য কেউ থাকেনা তখন হয়তো রোগীকে একা রেখেই আমাদেরকে বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করে আনতে হয়। হাসপাতলে শুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকার কারণে আমরা ঠিকমতো গোসল করতে পারিনি।

হাসপাতালে যে পানি সরবরাহ করা হয় তা খাওয়া তো দূরে কথা ব্যবহারের জন্যও উপযোগী নয়। পানিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকায় এ পানি দিয়ে ধোয়ামোছা করলে কাপড় ও অন্যান্য জিনিস বিবর্ণ হয়ে যায়। গোসল করলে শরীর ও চুল আঠা আঠা হয়ে যায় এবং পুরো শরীরে চুলকানি শুরু হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়তে হয়।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে রোগীদের দুর্ভোগ দূর করতে হাসপাতালে যেন স্থায়ীভাবে বিশুদ্ধ  খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয় এমনটাই দাবি ভুক্তভোগী রোগী ও সচেতন মহলের।

হাসপাতালের এমন বিশুদ্ধ পানির সংকট নিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক  ডাঃ এ কে এম মাহবুবুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, হাসপাতলে যে পানির সরবরাহের ব্যবস্থা সেটি অবশ্য পৌরসভার মাধ্যমে হয়ে থাকে। এছাড়া হাসপাতালে যে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে আসলে রোগীর পরিমাণ হিসেবে এটা দিয়ে সব রোগীদের চাহিদা মেটানো যায় না। তাই আমরা অচিরেই চেষ্টা করবো একটি আর্সেনিকমুক্ত গভীর নলকূপ বসিয়ে রোগীদের বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করার জন্য।

প্রতিবেদক

Leave a Reply

Your email address will not be published.