পানিবদ্ধতায় চাঁদপুর পুরানবাজার ব্যবসায়ীদের জনদুর্ভোগ

সামান্য বৃষ্টিতেই পানিবদ্ধতা দেখা দেয় চাঁদপুর শহরের পুরানবাজারেরবিভিন্ন এলাকা। ফলে ব্যবসায়ী ওবসবাসরত মানুষের মাঝে দেখা দেয় চরম দুর্ভোগ। গতকাল ১৯ সেপ্টেম্বর টানা বৃষ্টির ফলে শহর এলাকাসহ নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘরেই পানিবদ্ধতা দেখা দেয়। প্রবল বর্ষণের কারনে উঠোন, বাড়িঘর, পুকুর, নালা, ডোবা, খাল বিল অনেকটাই পানিতে পরিপুর্ণ হয়ে পড়ে।

অনেকের পুকুরের মাছ বেড়িয়ে যাওয়ায় অনেকেই আর্থিক ক্ষতির সন্মুখীন হন। তবে এসব এলাকার পানির পানিবদ্ধতা তেমন স্থায়ী হতে দেখা যায় না, বৃস্টি কমলেই ধীরে ধীরে নদীতে নেমে যায়। কিন্তু শহরের পুরানবাজার এলাকার আইল্লার বিলের চিত্র একটু ব্যাতিক্রম হয়েই দেখা দেয়। গতকাল আইল্লার বিল এলাকার কয়েকটি বাড়ি ঘরে গিয়ে দেখা গেল বসতরত মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ। তাদের বাড়িঘর বৃষ্টির পানিতে পরিপূর্ন।

জলমগ্ন বাড়ির আঙ্গিনায় বসে জমে যাওয়া বৃষ্টির পানিতেই ধোয়া মোচার কাজ করছেন নারীরা। রান্না খাওয়ার কাজ করছেন খাটের উপর। প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের অনেকটাই পানিতে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে এদিক সেদিক। তবে তাদের এমন পরিস্থিতি এখন অনেকটাই অন্ধের ঢেকি গিলার মত অবস্থা। বহুবার সমস্যা নিরসনের জন্য এলাকার কাউন্সিলরের কাছে গিয়েও সমাধান পাওয়া যায়নি।

বার বারই আশ্বাসের বাণী শুনে ফিরে এসেছেন বাড়ি ঘরে। আর বৃষ্টির পানিতে পরিপূর্ন হয়ে নীরবে নিভৃতে তা মেনে নিয়েছেন বিধাতাকে দোষারুপ করে। পানিবদ্ধতার কথা জানাতে গিয়ে অনেকটাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন ষাটোর্ধ বৃদ্ধ রাজ্জাক ছৈয়াল। তিনি বলেন আজ অনেক বছর ধরে এখানে বাস করছি। ছেলে মেয়ে এস্থানেই বড় হয়েছে। তখন এমন পানিবদ্ধতা দেখা দিত না, বাড়িঘরে জমা হতো না বৃষ্টির পানি, বর্ষার সময়ও ঘর দরজা থাকতো পানির হাত থেকে অনেকটা নিরাপদ।

বৃষ্টিবা জোয়ারের পানি অনায়াসে নেমে যেত পুকুর বা ডোবায়। কিন্তু বর্তমান সময় এসকল পানি আর নামতে না পারায় আমাদেরকে নিদারুন কস্টের মধ্যে দিন অতিবাহিত করতে হয়। সামান্য বৃষ্টিআসলেই আমরা আতংকিত হয়ে পড়ি। ভাত তরকারিসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে রাখতে হয় খাটের উপর। একই কথা বললেন এলাকায় বসতরত দরবেশ।

তিনি জানান সামান্য বৃষ্টিহলেই এলাকার অনেক ঘরের বাসিন্দারা বৃষ্টিপানির কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। তাদের বাড়িঘর হয়ে পড়ে পানিবন্দী। জোয়ারের পানি ভাটার টানে নেমে গেলেও আমাদের বাড়িঘরের পানি নামার মত তেমন কোন সুযোগ থাকে না। ফলে জমে থাকা পানিই আমাদের কষ্ট হয়ে দাঁড়ায়।

আমরা অনেকবার পৌর কাউন্সিলরের কাছে গিয়েছি কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। আমরা বলেছিলাম কয়েকটি পাইপের মাধ্যমে এসমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু তা নিরসনে কেউ এগিয়ে আসেনি। একই অবস্থা মহেন্দ্র সাহার বাড়িসহ আরো কয়েকটি বাড়ি ঘরের। এসকল বাড়িঘরের মানুষকে বৃষ্টিহলেই চরম দর্ভোগ পোহাতে হয়।

জুতা মোজা হাতে নিয়ে খালি পায়ে বৃষ্টির পানির মধ্যে দিয়েই চলাচল করতে হয়। আগে এসব বাড়িঘরের পানি পুকুরে নেমে গেলেও বর্তমান সময় সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র ছিদ্দিকুর ররহমান ঢালীর বাড়ি সংলগ্ন রাস্তার পাশে থাকা পুকুর, মহেন্দ্র সাহার বাড়ির পুকুর, আইল্লার বিলসহ খালের দক্ষিণ পাড়ের অনেক পুকুর ডোবা নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায়, আশে পাশে থাকা বাড়িঘরের পানি এখন আর তেমন ভাবে নামতে পারছে না।

ফলে দেখা দেয় পানিবদ্ধতা। বেড়ে যায় মানুষের চরম দুর্ভোগ। পৌর মেয়রসহ এলাকার কাউন্সিলর বিষয়টি বিবেচনা পূর্বক সমস্যার সমাধান করবেন এমনটাই দাবী ভূক্তভোগী পরিবারগুলোর।

চাঁদপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার এর অফিসার ইনচার্জ শাহ মুহাম্মদ শোয়েব বলেন, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। চাঁদপুরে ১৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ছিল ২৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী ৭২ ঘন্টায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে।

স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published.