কাউকে দুঃখ দেওয়া বা ছোট করার জন্য আমি কিছু বলিনি: চিত্রনায়ক রুবেল

একসঙ্গে চারটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন চিত্রনায়ক রুবেল। সিকুয়েল বানাবেন ‘বিচ্ছু বাহিনী’ সিনেমার। হঠাৎ কেন সরব হচ্ছেন, হঠাৎ কেন চ্যালেঞ্জ নিয়ে ঢালিউড এ নায়ক। বর্তমান চলচ্চিত্র বেহাল, কীভাবে চলচ্চিত্রে সোনালি দিনে ফেরানো যায়, সেসব নিয়েই কথা বললেন তিনি

 ১. সম্প্রতি ‘জীবন জুয়া’ নামে একটি সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিলেন, সিনেমাটি নিয়ে কতটা আশাবাদী?

আমি শুধু ‘জীবন জুয়া’ সিনেমা না। এটিসহ একসঙ্গে চারটি সিনেমার চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। ‘বিচার’, ‘একাত্তরের গল্প’, ‘ইনসান’—সব কটি সিনেমায় দর্শক আমাকে দেখবেন। একটা শেষ করে আরেকটির শুটিং শুরু হবে।

২. এখন তো সিনেমা নির্মাণের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, দর্শক হলবিমুখ, কেন মনে হলো এই সময়ে নিয়মিত হবেন?

সিনেমাগুলোর পরিচালক মিজানুর রহমান শামীম। তিনি আমার কারাতে, ফিল্মের ছাত্র। প্রযোজকদের সঙ্গে মিলে তারা একটা টিম করেছে। তারা আমাকে এর সঙ্গে যুক্ত করেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে ফেরা দরকার।

৩. আপনি আগে বলেছিলেন, আপনার জনপ্রিয় ‘বিচ্ছু বাহিনী’ সিনেমার সিকুয়েল নির্মাণ করবেন? কেন মনে হলো করা দরকার?

হ্যাঁ। সরকারি উদ্যোগে আমি সারা দেশের শিশু–কিশোরদের ক্যারাতে শেখাচ্ছি। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মনে হলো এই মুহূর্তে বিচ্ছু বাহিনীর মতো একটি সিনেমা দরকার। দর্শকদের আবার হলমুখী করতে হবে। এখন বিনোদন দেওয়ার মতো সিনেমা কম।

৪. চারটি সিনেমার সঙ্গে ‘বিচ্ছু বাহিনী’ কি দর্শকদের হলমুখী করতে আপনার চ্যালেঞ্জ?

আমরা সব সময় বলি, এই ছবি সেই ছবি খুব হিট, ব্যবসাসফল, ফাটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু হলে দর্শক কই? প্রথম আলোতেই সেই নিউজ হয়েছে। এই বছরের সব ছবি ফ্লপ। আর যদি চ্যালেঞ্জের কথা বলি, আমি সেই চ্যালেঞ্জ নিতে ইচ্ছুক। তার জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের এক হাজার কোটি টাকা যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে চলচ্চিত্রকে পুরোপুরি ঘুরিয়ে আনা সম্ভব।

৫. সরকার পুরোপুরি সহযোগিতা করলেও আমাদের তো ভালো মানের ছবি হচ্ছে না…

পুরো দুই বছর প্রতি মাসে ভালো মানের দুটি সিনেমা রিলিজ দিতে হবে। বছরে ২৪টি ভালো সিনেমা বানাতে হবে। দর্শকদের মনে তৃপ্তি আসবে, সেই ছবি বানাতে হবে। এ জন্য কারা বাণিজ্যিক সিনেমার পরিচালক, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। দর্শকেরা কানেকটেড হতে পারে এমন গল্প লাগবে, সিনেমার নাম সহজ–সরল হতে হবে। সিনেমায় থাকে অ্যাকশন ও বিনোদন, সামাজিক বিষয় থাকে। এ জন্য আমাদের ৪০০ ভালো সিনেমা হল করতে দিতে হবে।

কাউকে দুঃখ দেওয়া বা ছোট করার জন্য আমি কিছু বলিনি, চিত্রনায়ক রুবেল

৬. পরিচালক বাছাই করবে কে?

এটা সরকারি পর্যায় থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। কারা ভালো ছবি বানায়, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। এসব ভালো ছবি বলতে বোঝায়, যেটা হলের জন্য বানানো। রোমান পলোনাস্কি ঢাকায় এলে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ভালো ছবি কী? তিনি বলেছিলেন, দর্শকপ্রিয়তা যেটি পায় সেটি ভালো ছবি। যে ছবি দর্শক দেখে, সেটি ভালো ছবি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমাদের দেশে যেটি সকালে চলে বিকেলে নেমে যায়, সেটিই ভালো ছবি। দর্শক দেখেন না কিন্তু ভালো সিনেমার তকমা পাচ্ছে। একশ্রেণির দর্শক সেটা মনে করেন। এটা শুনে অনেকেই আমার ব্যাপারে উল্টোপাল্টা মন্তব্য করতেই পারেন। কিন্তু প্রশ্ন, এভাবে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন সম্ভব কি না? এগুলো নিয়ে নিয়মিত নিউজ হওয়া উচিত?

৭. কোনগুলো নিয়ে?

এই যে গত তিন মাসে শুনছি অনেক ভালো ছবি হয়েছে কিন্তু একটি ছবিও চলেনি। এই বিষয়গুলো সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে, তাহলে আমাদের মাথা একটু ঠিক হবে। তা না হলে আমরা যেখানে পড়ে আছি, সেখানেই থাকতে হবে। আমরা এই চক্কর থেকে বের হতে পারব না। এ জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। তার জন্য হল বানাতে হবে। দুই বছরের জন্য ৪৮টা ভালো ছবি বানালে হলবিমুখ দর্শক আবার হলে ফিরবে। মেধাবী অভিনয়শিল্পী কাঙ্ক্ষিত চরিত্রের জন্য বসে আছেন, তাদের ব্যবহার করতে হবে। দর্শক আনন্দ পান, এমন সামাজিক, অ্যাকশন, বিনোদননির্ভর কাজ করতে হবে। এর সঙ্গে কেউ দ্বিমত পোষণ করতে পারে কিন্তু এর বিকল্প কিছু হতে পারে না। সবশেষে আমি বলব, কাউকে দুঃখ দেওয়া বা ছোট করার জন্য আমি কিছু বলিনি। আমি চলচ্চিত্রের উন্নয়নের কথা বলেছি। এটা নিয়ে তর্কবিতর্ক হতেই পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.