চাঁদপুরে চুরি ঠেকাতে রাত জেগে পাহারা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাকিলা বাজারে চুরি ঠেকাতে ব্যবসায়ীরা রাত জেগে পাহারা দেয়া শুরু করেছেন। গত মঙ্গলবার রাত থেকে গলি ও মার্কেটভিত্তিক ভাগ হয়ে পাহারা কার্যক্রম শুরু করে ব্যবসায়ীরা। গত বেশ কিছুদিন ধরে বাজারের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে চুরি হওয়াকে কেন্দ্র করে পাহারাদার বাতিল করে ব্যবসায়ী সমিতি। এরপরেই সমিতি উক্ত কার্যক্রম চালু করে।

চুরি হওয়ার ঘটনায় কয়েকজন ব্যবসায়ী থানায় অভিযোগ দেবার পরেও কোনো চোর আটক কিংবা মালামাল উদ্ধার হয়নি বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

ব্যববসায়ীরা জানান, বাজারের পরিবেশ সুন্দর রাখার পাশাপাশি চুরি ঠেকাতে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা আলোচনা করে পাহারার উদ্যোগ নেন।

সেই আলোকে বাজারকে তারা ৪টি ওয়ার্ডে ভাগ করে প্রতি ওয়ার্ডে ৩জন সমন্বয়ক নিয়োগ করেন। এই সমন্বয়করা নিজ ওয়ার্ডের ব্যাবসায়ীদের সাথে পরামর্শ করে ৪টি ওয়ার্ড থেকে মোট ১৩ জন ব্যবসায়ী নির্দিষ্ট করবেন এবং ব্যবসায়ীরা রাত জেগে পাহারা দিবেন। গ্রুপভিত্তিক পাহারাদারের সাথে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেয়া একজন গ্রাম পুলিশের সদস্য থাকবে। এর বাইরে বিষয়টি তদারকি করবে বিট পুলিশিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে প্রতিদিন রাত ১১টার পর থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত বাজার পাহারা দিবেন ব্যবসায়ীরা। এ সংক্রান্ত মাাইকিং করা হচ্ছে। যে সকল ব্যবসায়ী পাহারাদায় নিজে উপস্থিত থাকতে পারবেন না তিনি নিজের বদৌলতে একজনকে নিয়োজিত করবেন। ব্যাবসায়ীদের মধ্যে যিনি এই নিয়ম মানবেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বাজার কমিটির সভাপতি অমল ধর জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান ইউসুফ পাটওয়ারী জানান, বাজার এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, সরকারি ব্যাংক ও বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংকের এজেন্ট,বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়,বাকিলা ফাজিল মাদ্রাসা,বাকিলা সপ্রাবি, কয়েকটি সমিলসহছোট-বড় প্রায় ৫ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সম্প্রতি বাজারে চুরি বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য নিজেরাই পাহারার উদ্যোগ নিয়েছে। সেই আলোকে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একজন পাহারাদার স্থায়ীভাবে দেয়া হয়েছে।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনু রশিদ বলেন, ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় রাত জেগে বাজার পাহারা দেওয়ার বিষয়টি আমি জেনেছি। তাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে বাজার এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশও তৎপর রয়েছে। এছাড়াও ওই ইউনিয়নের বিট পুলিশিংয়ের কর্মকর্তা তাদেরকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করবে।

উল্লেখ্য বাজারে পাহারাদার থাকা সত্বেও সম্প্রতি শৈলি গার্মেন্স,হাজী ইলেট্রিক,সাত্তার ষ্টোর,হাছান ষ্টোরে বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটে। এই সকল ব্যবসায়ী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

স্টাফ রিপোর্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published.